মাতৃসত্তা
সামান্য অক্ষর জ্ঞানে সমৃদ্ধ আমার মা
নিরক্ষর বলা চলে, তবে অশিক্ষিতা তিনি নন
বরং সুশিক্ষিত হয়ত স্বশিক্ষিত বলেই
মা প্রথম যখন অক্ষর চেনে তখন আমার বয়স পাঁচ
আমি কত্থেকে যেন অ আর আ শিখে এসে মাকে শিখিয়েছিলাম
এভাবে ই আর ঈ এবং একইভাবে স্বরবর্ণ আর ব্যাঞ্জনবর্ণ
আমি যেবার এস এস সি দিই, ততদিনে মা
শিখে নিয়েছে এক দুই তিন এমনকি দশম
আর একাদশ- দ্বাদশ এমনি করে দু’ বছর ধরে
মা এখন জানে বিশ্ববিদ্যালয় বলে একটা জায়গা আছে
সেখানে পরীক্ষা দিয়ে চান্স পেতে হয়। বুয়েট নামক
বিশ্ববিদ্যালয়ে সবচেয়ে ভাল ছাত্র ভর্তি হয়। বি বি এ
পড়লে ব্যাংকার আর ডাক্তার হতে সায়েন্স পরতে হয়
ইংরেজি মাসের ইংরেজি তারিখে বাড়ি ফিরি
তাই মা শিখে নিয়েছে জানুয়ারি ফেব্রুয়ারি এমনকি ডিসেম্বর ৩১শে
অথচ বাংলা যায়নি ভুলে কেননা ২৮ ফাল্গুন আমার জন্ম
২১শে ফেব্রুয়ারি মা শহীদমিনারে ফুল দেয় আমার হাতে
২৬শে মার্চ স্বাধীনতা আর ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস
মা আমার মধ্যে উল্লাশ করে
এমনকি যেদিন বাংলাদশ ক্রিকেটে জিতে মিরপুরে
আমি স্বপ্ন দেখি বড় হওয়ার, মাকে বড় করার
কেননা মায়ের স্বপ্নই আমি, মায়ের প্রকৃত সত্তা

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




