somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মিনি হরর :: হান্টিং পিওর ব্লাড

২৩ শে মার্চ, ২০১৫ বিকাল ৩:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১.
ককটেলটার সাথে কড়া মাত্রায় ডায়াজিপামের গুঁড়ো মেশানো ছিল। ওটা খেয়ে পরিবারের সবাই এলোপাতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছে। সবগুলো বডিকে প্রার্থনার ঘরটাতে একত্র করলো। এরপর একটা স্বস্তির নি:শ্বাস ফেললো ষোল বছর বয়সী কিশোর ছেলেটি।
যখন ও হালকা হালকা বুঝতে শিখেছে তখন থেকেই ও সেটার অস্তিত্ব টের পাওয়া শুরু করেছে। দ্বিতীয় একটা অনুভূতি বা ওইরকম কিছু একটার উপস্থিতি। সব সময় ওর কানে যেন কিছু একটা বলার চেষ্টা করছে। কিছু একটা বলতে চাইছে ওটা। কিন্তু সেগুলো অনেক অস্পষ্ট। মনে হয় যেন অনেক দূর থেকে কেউ কিছু একটা বলছে। কিন্তু সেটা বুঝতে পারতো না ও।
ও কিছুটা বড় হতে হতে কথাগুলো ওর কানে স্পষ্ট হয়ে এল একসময়............
"Rule the world
This world is yours!
Put together the drops
Make your chance"
একসময় কথাগুলোর প্রতিটা সিঙ্গেল টোন ওর মুখস্থ হয়ে গেলেও কখনোই বুঝতে পারতো না গূঢ় অর্থ কী সেগুলোর। আর ঠিক সত্যি বলতে কি আজকেই যেন ওর কাছে কথাগুলোর সারাংশ এসে ধরা দিল......
"পুরো পৃথিবীর নেতৃত্ব তুমিই দেবে।
পরিবারের সবার রক্ত একত্র কর।
এবং পান করো তৃপ্তির সাথে।
এবং আজই....
তুমিই পৃথিবীকে নেতৃত্ব দেবে......."
সমস্ত কিছু ওর কাছে পরিস্কার হয়ে গেছে। বাইরে বের হয়ে দেখল আজ পূর্ণিমা। আর ওর ষোল তম জন্মদিন আজকে। ফাঁকা ল্যাবরেটরি থেকে এক শিশি ডায়াজিপাম নিয়ে ঘরে ফিরলো।
২.
বডিগুলোকে একত্র করে ও ওদের ঐ পুরনো ঘরটাতে গেল। দু' শো বছর আগের একটা ওয়াইনের বোতল আর কিচেন থেকে একটা বড় মগ আর চাকু নিয়ে সে আবার পূজোর ঘরে ফরলো।
সবাই চিৎ হয়ে পড়ে রয়েছে। ওর পরিবারের সবাই। বড় বাবা-মা ও.....। কিন্তু ওর ভিতরে একটুও মায়া অথবা বিবেক কাজ করলো না। ও যেন অনুভূতিশূন্য হয়ে পড়েছে। অন্য কেউ যেন ভর করেছে ওর উপর। ব্যাপারটা আসলেও তাই-ই.............
একে একে সবার কব্জি কেটে রক্ত জড়ো করে মগটার অর্ধেকটা ভর্তি করলো ও। বাকি অর্ধেকটা দু' শো বছরের পুরনো ওয়াইন দিয়ে পূর্ণ করলো। জানালা দিয়ে বাইরে পূর্ণিমার চাঁদটা দেখা যাচ্ছে। রক্তের মগে প্রথম চুমুকটা দিল ও।
আর তখনই মুচকি একটা হাসি দিলো কার্নিশে বসে থাকা শয়তান জোয়ারেন।
শরীরটা প্রচন্ড জ্বলতে শুরু করেছে ওর। ও ভাবলো এটা হয়তো পরিবর্তনের প্রক্রিয়া। কয়েক ঢোকে মগের সবগুলো রক্ত শেষ করে ফেলল। আর সাথে সাথে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে উঠলো। ওর শরীরে, মেঝেতে পড়ে থাকা সবগুলো শরীরে......
প্রচন্ড যন্ত্রণায় চিৎকার দিতে গিয়েও পারলো না ও। ততক্ষণে আগুনে ওর গাল এবং ঠোঁট ঝলসে গেছে। এবং অট্টহাসিতে ফেটে পড়তে পড়তে স্থান ত্যাগ করলো শয়তান জোয়ারেন।
আজকেই নতুন একটি শিশু জন্ম নিয়েছে। অন্য একটি পিওর ব্লাড পরিবারে। ষোল বছর তার পেছনে লেগে থাকতে হবে। কুমন্ত্রনা দিতে হবে। পৃথিবীর রাজত্বের লোভ দেখাতে হবে। এবং তার হাতেই শেষ হবে তার নিজেরই পরিবার, সে নিজে সহ........।
আর এভাবেই এক একটা পিওর ব্লাড পরিবারকে ধ্বংস করে চললো শয়তান জোয়ারেন.........।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মার্চ, ২০১৫ বিকাল ৩:৪৪
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×