somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মিনি হরর ::: ভুয়া ফ্রি মেসন

২৪ শে মার্চ, ২০১৫ সকাল ১০:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগের বার এক শেয়ার ব্যবসায়ী এসেছিল। তার শেয়ার ব্যবসার মন্দা কাটিয়ে দেওয়া হয়েছিলো। এবার এসেছে এক রাজনীতিবিদ। সামনে নির্বাচন। ইয়া বড় স্যুটকেস ভর্তি টাকা নিয়ে এসেছেন তিনি। স্যুটকেসের মুখ খুলে টাকা দেখে চকচক করে উঠলো ছয় জন মানুষের চোখ। কাঠের বৃত্তাকার ফ্রেমে বেঁধে রাখা মেয়েটার চোখ দিয়ে জল ঝরছে।
শুকরের চর্বির টিমটিমে কুপি জ্বলছে ঘরের চার কোণে, লোকটা বসে আছে বৃত্তের উপর, আর ভুসভুসে কালো একটা বেড়াল ঝলসানো হচ্ছে ঘরের এককোণের সুড়ঙ্গটায়।
ঘিয়ের আগুনে একটা ধুতরার বিচি ফেলল লোকটা, ফটাশ করে ফেটে গেল সেটা। একটু পর পর হুম-হুম করে শব্দ আসছে। চক্রাকারে বসে থাকা লোকগুলো চোখ বন্ধ করে শয়তানকে ডাকছে। লোকটা আরো একটা বিচি ফেলল আগুনে, আবার শব্দ হল ফটাশ!
এভাবেই চলল অনেক রাত পর্যন্ত। যতক্ষণ না চাঁদটা ঝকঝকে আলো দেয়.... জোছনায় ভরে যায় পুরো শহর..... আর সী-বিচ...।
একসময় রাত গভীর হল.... জোছনায় ভরে গেল সী-বিচ, পুরো শহর...........। আগুনে ঝলসানো বেড়ালের মাংস খেতে দেয়া হল লোকটাকে। নির্বাচনকে সামনে রেখে, অনেক কষ্টে বমি ঠেকিয়ে বেড়ালের মাংসটা পুরোটাই খেয়ে ফেলল লোকটা।
সবশেষে বৃত্তকার ফ্রেমে বেঁধে রাখা মেয়েটার বুকে ছুরির আঘাত করা হল। গলগল করে বেরিয়ে এল রক্ত। পুরনো মদের সাথে মিশিয়ে সে রক্ত পান করতে দেয়া হল লোকটাকে। সে রক্ত পান করে, বুকভর্তি আশ্বাস নিয়ে বিদায় নিল লোকটা। টাকাগুলো দেখে আবার চকচক করে উঠল ছয় জন মানুষের চোখ, অট্টহাসি হাসলো তারা....।
এবার আসল কথা বলি। এই যে এত সব যজ্ঞ, সেগুলোর সবই কিন্তু নাটক ছাড়া আর কিছু নয়....। সবই লোকদেখানো কীর্তি। মক্কেলকে ভেলকি লাগানোর জন্য...। লোকগুলো নিজেদের ফ্রি মেসন বলে দাবি করে। তারা দাবি করে তারা অলৌকিক শক্তির আধার। যজ্ঞ করে তারা সবই করতে পারে। তার জন্য নেয় তারা বিপুল অংকরে উপঢৌকন। এবং তারা যা আশ্বাস দেয় সবই কিন্তু বাস্তবায়ন করে....। কিন্তু সেসব এই লোক দেখানো যজ্ঞ দিয়ে নয়। অন্যভাবে..........
আগের বার যখন শেয়ার ব্যবসায়ী তাদের দ্বারস্থ হয়েছিল তখন তাদের দরকার পড়েছিল শেয়ার বাজারের কিছু খেলুড়ের। মোটা অংকের টাকা দিয়ে এরা তাদের হাত করে। তাদের দিয়ে শেয়ার খেলায়। যে মক্কেল এসেছিল তার শেয়ার ব্যবসার উন্নতি হয়। আর সে লোকটার বিশ্বাস আরো গভীর হয়.... এরা আসলেই ফ্রি মেসন, অলৌকিক শক্তির আধার...।
এবার নতুন মক্কেল। নির্বাচনে জিততে চায়। এবার তাদের দরকার পড়লো নির্বাচন কমিশনের রাঘব কিছু কর্তার। মোটা অংকের টাকা গেল তাদের পকেটে। নির্বাচনে এদিক সেদিক হলো। মক্কেল জিতে গেল নির্বাচনে....। এই মক্কেলটার মনেও দৃঢ় বিশ্বাস জন্মে গেল, ফ্রি মেসনরা অলৌকিক শক্তির আধার, তারা শয়তানের পূজা করে, আর যজ্ঞে ডেকে শয়তানকে দিয়ে অসম্ভব অসম্ভব সব কাজই তারা করে ফেলতে পারে।
কিন্তু তিনি বিহাইন্ড দ্য সিনটা জানতে পারলেন না....। সে সব রাঘব কর্তারা কি করে বিশাল অংকের কাগুজে নোট তাদের পকেটে পুরলো....।

আর সত্যি বলতে কি এভাবেই মানুষ টাকা খায়, টাকার কাছে বিক্রি হয় আর ফ্রি মেসনরা শত শত বছর ধরে পৃথিবীতে টিকে থাকে.... অলৌকিক শক্তির ধারক ও বাহক হিসেবে.......।
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×