জুরান সরদারের ছিল বিয়ে করার নেশা। মাঝে মধ্যেই হইচই উঠত ‘ জুরান বউ লইয়া আইছে রে ...’ । আমরা তাড়াতাড়ি ছুটতাম নতুন বউ দেখতে। তখন নতুন বউ দেখতে যাওয়ার চল ছিল। যেয়ে দেখতাম জুরান সরদার কোন এক দূরদেশ হতে মাঝবয়সী কোন মহিলাকে বিবাহ করে এনেছে। কতক সময় রেডিমেড বাচ্চাসহ বউ আসত। সেই বাচ্চা তখন জুরানের ঘরেই লালিত -পালিত হত। এইভাবে আমাদের ছোটবেলাতেই জুরান সরদারের গুনে গুনে তেইশটা বউ হয়ে গেল। আমরা গণনা শুনে হা -হুতাশ করতাম। আমাদের কপালে কি এতগুলা বউ জুটবে !!!
কিন্তু মূল সমস্যা হল জুরান সরদার বিয়ে করত ঠিকই কিন্তু তার বউ থাকত না। কারণ সে বিয়ের কয়েক দিন পর হতেই কথায় কথায় বউকে প্রচন্ড মারধর করা শুরু করতো।
সেদিন আমি কী কাজে জুরান সরদারের বাড়ি গিয়েছি। দেখি সরদারের নতুন বউ ডালিম দাওয়ায় বসে বসে অপেক্ষা করছে। জুরান সরদার বসে বাশের কঞ্চি কেটে বেত বানাচ্ছে। দেখেই বুঝলাম আজ হবে।
বললাম ‘ জেঠু, বড়মাকে মারবেন কেন ?’
উত্তর এল ‘ মাগী আমারে না কইয়া মায়ের বাড়ি গেল ক্যান ?’
একটু অপেক্ষার পর জুরান তিনখানা বেত একত্রে বেঁধে বৌকে মারলো সেদিন। আমি স্বচক্ষে দেখলাম।
রুহুল বলত শালা জুরান যত্তগুলান বিয়া করছে ! মরার আগে শালা খুব কষ্ট পাবে দেখিস।
কিন্তু না , খুব কষ্ট পেয়ে জুরান মারা যায় নি। একদিন হাঁটতে হাঁটতে হঠাত মাথা ঘুরে পড়ে যেয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই মারা যায় জুরান। আর ডালিম মারা যায় প্রসবের সময়। বলে রাখি ডালিম বড়মার মত সুন্দরী মানুষ আমি এখনো দেখি নি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






