পৃথিবীতে বুদ্ধিমান মানুষ হওয়া যতটুকু সুবিধাজনক বেকুব মানুষ হওয়া ঠিক ততটুকুই অসুবিধাজনক। বুদ্ধিমান দের সাথে সবসময় একটা ‘ষড়যন্ত্র ডিকশনারী’ থাকে। পত্রিকা খুলে ধর্ষণ, হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ যাই চোখে পড়ুক এরা সাথে সাথে নিজেদের ষড়যন্ত্র ডিকশনারী খুলে কোনটাকে ইন্ডিয়ার দাদাদের ষড়যন্ত্র, কোনটাকে মার্কিন ষড়যন্ত্র অথবা কোনটাকে ইহুদি নাসারার ষড়যন্ত্র আখ্যা দেয়। তারপর মনে মনে সেই ‘ষড়যন্ত্রকারী’র পিন্ডি চটকাতে চটকাতে এবং নিজের ‘ইনোসেন্ট পশ্চাতদেশ’ চুলকাতে চুলকাতে নিজের সুখী কক্ষপথে হাঁটতে থাকে। দিনের শেষে বুদ্ধিমানের ব্যবসা, চাকুরি, খাওয়া, ঘুম, চাপাবাজি সব ঠিক ঠাক থাকে এবং বছর শেষে তার উন্নতি কেউ ঠেকাতে পারেনা। ব্যবসার লাভ বা বৌ এর love, সবকিছু দিনের শেষে বুদ্ধিমানের কপালেই জুটে।
সমস্যা হয় বেকুব দের। বেকুব রা যখন পত্রিকা খুলে দেখে কলেজ পড়ুয়া তরুণী ধর্ষিত এবং খুন হয়েছে, স্কুলে পড়ার সুযোগ না পাওয়া বালক কে রড দিয়ে পিটিয়ে বা পশ্চাত দিয়ে কম্প্রেসরের হাওয়া দিয়ে হত্যা করা হয়েছে, মন্দিরের সামনে বোমা মেরে নির্দোষ মানুষ কে হত্যা করা হয়েছে তখন তারা কেমন যেন জোম্বী হয়ে যায়। বেকুব বলেই তাদের মনে হয় ধর্ষনের ঘটনার জন্য কোন দাদা বা ইহুদি নাসারা ষড়যন্ত্রী দায়ী নয়। এর জন্য প্রথম দায়ী সেই ধর্ষক যে জানত ধর্ষন করেও পার পাবার মত বাস্তব ক্ষমতা তার আছে। দ্বিতীয় দায়ী তার সেই ‘বাস্তব অবৈধ ক্ষমতা’র উৎস! বেকুবের কল্পনাশক্তি কম বলেই সে পিঠে ঢিল ছুটে এসে পড়লে ভাবে ঢিল টা আশেপাশের কেউ ই ছুঁড়ে মেরেছে। আমেরিকার কেউ ছুটে আসা ঢিল এর পিছনে মিসাইল তাক করে বসে নেই! জাগতিক অনাচারগুলোর জাগতিক কারন না খুঁজে সেগুলোর মহাজাগতিক ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর মত ইন্টেলেক্ট বেকুবের কোন মতেই নেই। কাজেই এই ধরনের ঘটনার দায় কাল্পনিক কোন কিছুর উপর চাপিয়ে বেকুব যন্ত্রনা থেকে নিজেকে রিলিজ করতে পারেনা এবং যখন তখন সে নিজের সুখের কক্ষপথ থেকে বিচ্যুত হয়। দিনের শেষে তার খাওয়া ঘুম কিছুই ঠিক থাকেনা এবং তার মাথা কিঞ্চিত আউলা হয়ে যায়। বৌ দোকান থেকে পাউরুটি আনতে বললে সে এক কেজি মোল্লা সল্ট(!) কিনে আনে এবং দিনের শেষে ঝাঁটার শলা দিয়ে কান চুলকায়!
আপনি যদি এখনো বেকুব থাকেন তাহলে সাবধান হন। চিন্তার কোর্স অভ এ্কশন পালটায় দেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


