
একবার মামা রুবজ এ রহমান-এর খুব শখ হলো সাপের খেলা শিখবেন। যেই কথা সেই কাজ। প্রতিবেশি মিন্টু ওঝাকে ধরে কী কী যেনো মন্ত্রও শিখে ফেললেন। একদিন আমায় বললেন-ভাগিনা, আইয়ো আজখে অ্যাখ নতুন জাগাত যাইতাম। আমি বেশ কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলাম-খানো যাইতায়? মামা বললেন-সাপোর খেলা দেখানিত। সাপের কথা শুনতেই আমার শরীটা কেমন শিহরিত হয়ে উঠলো। আমি ইতস্তত করতে লাগলাম। মামা বুঝতে পেরে বললেন-মজাও ফাইবে, টেখাও ফাইবে। সাপ দিয়া ভাগ্য গণনা খরতাম। ইতা না দেখলে বুঝতে নায়, আইয়ো। মামার সম্মোহনী ভঙ্গিতে আমি আর না করতে পারলাম না।
দীর্ঘ একঘণ্টা বাস জার্নি করে রাঙামাটির নেছা গ্রামে গিয়ে পৌঁছলাম। খানিক বিরতি নিয়ে চা পর্ব শেষ করলাম। অতপর শুরু হলো মামার মূল কাজ। অল্পকিছুক্ষণের মধ্যেই মজমা জমে গেলো। নারীদের উপস্থিতি ছিলো লক্ষ করার মতো। সাপ যার হাতে যাবে তার ভাগ্য সুপ্রসন্ন আর যার হাতে যাবে না তার ভাগ্যে শনির, রাহুর কিংবা মনসার প্রভাব ইত্যাদি ইত্যাদি। এ থেকে উত্তরণের জন্য রয়েছে শিকড় দিয়ে বানানো 'সহি তাবিজ'! সাপ শতকরা পাঁচজনের হাতে যায়। যাদের হাতে যায় না তাদের আফসোসের কোনো অন্ত থাকে না। পূর্বভাস ছাড়াই তাদের মনে ও মুখে মেঘ জমতে থাকে।
মুনশি আলিম
জাফলং, সিলেট
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মে, ২০১৭ রাত ৯:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






