গত ৭ মে দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠায় সচিবালয়ে ৪৫৪টি অবৈধ এসি এবং প্রতি মাসে বিদ্যুতের সাড়ে ৪ লাখ টাকা অপচয়বিষয়ক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
প্রচলিত আইন-কানুন এবং বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিদ্যুৎ সাশ্রয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের আলোকে প্রথম আলোর এই প্রতিবেদন খুবই সময়োপযোগী উšে§াচন। প্রতিবেদকের এজন্য সাধুবাদই প্রাপ্য। আমি তাকে তার দায়িত্ব পালনের জন্য ধন্যবাদ জানাই।
এই প্রতিবেদন পড়তে পড়তে আমার বেশ কিছুদিন আগে সংবাদপত্রে প্রকাশিত অপর একটি প্রতিবেদনের কথা মনে পড়লো। সেখানে লেখা হয়েছে, পুলিশের জনৈক ডিআইজির পতœী সরকারি গাড়িতে চড়ে কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন এবং সেটাও নিয়ম পরিপন্থী, অবৈধ।
আমার ভাবতে খুব অবাক লাগে যে, পুলিশের এতো শীর্যপর্যায়ের এক কর্মকর্তা এতো বছর চাকরির পরও তার পরিবারের জন্য একটি গাড়ি যখনই প্রয়োজন হয় দিতে পারেন না! এটা যদি আইনে থেকেও থাকে এ আইনটি নতুন করে বিচার বিবেচনা করে পরিবর্তন করা দরকার।
সিভিল অথবা মিলিটারি প্রশাসনে উপসচিব মর্যাদায় পদোন্নতি পেতে একজনকে দীর্ঘদিন চাকরি করতে হয়। এই অবস্থানে এসে তিনি যদি পরিবারের জন্য প্রয়োজনে একটি গাড়ি পেতে না পারেন অথবা অফিস কক্ষে একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ব্যবহার করতে না পারেনÑ এটা নিশ্চয়ই আমাদের আইন ও নিয়ম-কানুনের বিরাট দুর্বলতা।
আমরা যদি সত্যি সত্যি পুলিশ বা প্রশাসনে মেধাবী ও সৎ মানুষকে আকর্ষণ ও ধারণ করতে চাই তাহলে এরকম পশ্চাৎপদ, অবাস্তব, অযৌক্তিক ও সর্বোপরি ক্ষেত্র বিশেষে অবৈজ্ঞানিক নিয়মকানুন প্রচলিত রাখাটা নিশ্চয় হতাশাজনক ও ক্ষতিকর হতে বাধ্য।
পৃথিবীতে যতগুলো উন্নত বা সফল দেশ রয়েছে। সেগুলোর সবই শীতের দেশ। কিš' এটা কেন? এর উত্তর আমার বিস্তারিত জানা না আমি শারীরিকভাবে নিজে অনুভব করি গরমের চেয়ে শীতের দিনগুলোতে আমার দিনÑরাত পরিশ্রম করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য লাগে। আমি মনে করি, আমাদের সরকারী অফিসগুলোর বিশাল অট্টালিকার আলোÑহাওয়ার অভাবী ঘরে একটি এয়ারকুলার শুধু বাস্তবিক প্রয়োজনই নয়Ñ এটা হতে পারে কর্মসহায়ক ও বিশেষ উপকারী।
সারা দেশে এখন একদিকে দুর্নীতিবিরোধী তীব্র অভিযান, অন্যদিকে বাজারে দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতি; অথচ সরকারি কর্মচারীদের অযৌক্তিক সীমিত বেতন! এমতাবস্থায় যদি অফিসের এসি আর বিয়ে বাড়িতে যাওয়ার সরকারি গাড়িতেও টান পড়ে তাহলে যদি সকল কর্মকর্তা হতাশায় ডুবে কাজে নিষ্পৃহ হয়ে পড়েন আমি দোষ দেব না।
একজন পদস্থ কর্মকর্তা যদি তার শিশু-কিশোর সন্তানের নিরাপদে স্কুলে যাতায়াত আর স্ত্রীর কিছু সামাজিক যোগাযোগের সুবিধার জন্য গাড়ি না পায় কিংবা সন্তানের পড়াশুনার জন্য একটি মোটামুটি ভাল স্কুলে ভর্তির সুযোগ না পায়, তারা কেন তথাকথিত সৎ থাকবেন?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

