আজকাল ঢাকা শহরের অনেক রাস্তার পাশেই ফুলের নার্সারি চোখে পড়ে। এসব নার্সারিতে ফুলের চারা এবং গাছ বিক্রি হয়। চারা গাছ থাকে পলিথিনের প্যাকেটে এবং গাছ থাকে টবে। কিছু কিছু গাছ আছে যেগুলোর জন্য টবের প্রয়োজন হয় না। সেগুলোকে পলিথিনের প্যাকেটে কিংবা প্লাস্টিকের বোতলের নিুাংশে অনায়াসে রাখা যায়। শৌখিন মানুষ সেগুলো রশির সাহায্যে ঘরের কোণায়, বারান্দায় বা বেলকনিতে ঝুলিয়ে রাখে। আর একটু বৃহৎ আকারের ফুল গাছের জন্য টবের প্রয়োজন হয়। সেসব টব বাড়ির প্রবেশপথে, ঘরের কোণায় কিংবা কোনো অনুষ্ঠান মঞ্চে শোভা পায়। এসব টবের সুবিধা হলো যখন যেখানে ইচ্ছা সেখানেই রাখা যায়। কার্জন হলের সামনে, শিশু পার্কের পাশে এবং ঢাকা শহরের অনেক ফুটপাতে এসব নার্সারি চোখে পড়ে। এসব নার্সারিতে স্পাইডার, মানিপ্লান্ট, পিটুনিয়া, মনস্টরিয়া, অগ্নিসুর, ক্যাকটাস, ডায়মন্ড বিগা, এরিকাপাম, কাঠগোলাপ, ফার্ন, হাসনাহেনা, গন্ধরাজ, কামিনী, বেলি, জবা, বাগানবিলাস, ডালিয়া, গাঁদা, স্টারফুল, কসমস, জিনিয়া এবং টেলেনডিয়া জাতীয় চারা এবং গাছ পাওয়া যায়।
এসব ফুলের চারা এবং গাছ বীজ এবং কলম থেকে হয়। কলম থেকে স্পাইডার, মানিপ্লান্ট, পিটুনিয়া, মনস্টরিয়া, অগ্নিসুর, ক্যাকটাস, ডায়মন্ড বিগা, এরিকাপাম, কাঠগোলাপ, ফার্ন, হাসনাহেনা, গন্ধরাজ, কামিনী, বেলি, জবা এবং বাগানবিলাস জাতীয় চারা তৈরি করা হয়। আর বীজ থেকে ডালিয়া, গাঁদা, স্টারফুল, কসমস, জিনিয়া এবং টেলেনডিয়া জাতীয় চারা গাছ তৈরি করা হয়। এসব ফুলের বীজ তারা নিয়ে আসে ভারত থেকে।
অনেকে আবার এসব চারা এবং গাছ ভ্যানগাড়িতে করে নগরীর পথে পথে বিক্রি করে।
কার্জন হলের সামনের ফুটপাতে আছে বাংলাদেশ নার্সারি। তাদের সংগ্রহে উপরে উল্লেখিত সব ধরনের ফুলের চারা এবং গাছ আছে। তাদের মূল নার্সারি সাভারে। সেখান থেকেই তারা এসব নিয়ে আসে। তারা ফুলের চারা বিক্রি করে ২০ টাকায়। আর টবসহ ফুলের গাছ বিক্রি করে ১০০ টাকায়।
তবে এখন তারা ফুটপাতে ফুলের চারা এবং গাছ বিক্রি করতে পারে না। পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। অনেকে আবার লুকিয়ে বিক্রি করে। এ কারণে অনেক সময় তাদের চারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফুটপাত দখল করে নার্সারি বসালে লোকজনের চলাচলের অসুবিধা হয় কিনা জানতে চাইলে তাদের মতামত হচ্ছে, ঢাকা শহরের অনেক ফুটপাত আছে যেগুলো মানুষ খুব একটা চলাচল করে না। সেসব জায়গায় আমরা বসলে পথচারীদের কোনোরকম সমস্যা সৃষ্টি হয় না। সিটি করপোরেশন ইচ্ছে করলে আমাদের সেসব জায়গা লিজ দিতে পারে। লিজ নেয়া সম্পর্কে সিটি করপোরেশনের কাছে আবেদন করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তারা জানায়, আমাদের সমিতির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে আবেদন করা হয়েছে। এখন সিটি করপোরেশন ব্যাপারটা বিবেচনা করে দেখছে। আশা করছি আমরা লিজ পাবো। লিজ পেলে তাদের কি কি সুবিধা হবে তা জানতে চাইলে এক নার্সারি মালিক জানান, তখন আর আমাদের ফুলের গাছ এবং চারা নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে হবে না। আমরা সুবিধামতো গাছ এবং চারার পরিচর্যা করতে পারবো। আমাদের একটা স্থায়ী জায়গা হলে ক্রেতারাও লাভবান হবেন। যদি কোনো চারা বা গাছ আমার সংগ্রহে না থাকে তবে পাওয়ার জন্য তাদের খুব বেশি দূরে যেতে হবে না।
নার্সারি পেশা জীবন ধারণের জন্য কেমন জানতে চাইলে এক মালিক জানান, বেশ ভালো। আমি এ পেশার মাধ্যমেই আমার পরিবার চালাতে পারছি। আমার অধীনে মোট ৫ জন লোক কাজ করে। এ পেশায় খুব বেশি ইনভেস্ট করতে হয় না। তবে সার্বক্ষণিক পরিচর্যা করতে হয়। ব্যাপারটা অনেকটা সন্তান লালন-পালনের মতো।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

