somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আর জে দের ফাইজলামি আর সইতে হবেনা।‘রেডিও-টিভিতে বাংলা ভাষার বিকৃতি নয়’

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ১০:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

টেলিভিশন ও রেডিওতে ‘বিকৃত বাংলা উচ্চারণে’ অনুষ্ঠান প্রচার এবং ‘ভাষা দূষণ’ না করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও জাহাঙ্গীর হোসেনের বেঞ্চ বৃহস্পতিবার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুলের শুনানি না হওয়ার পর্যন্ত অন্তবর্তীকালীন সময়ের জন্য এই আদেশ দেয়।

বাংলা ভাষায় দেওয়ার ওই আদেশে আদালত বলে, “আমরা আদেশ জারি করছি যে, বাংলা ভাষার পবিত্রতা রক্ষা করতে সর্বোতভাবে চেষ্টা করতে হবে। এই ভাষার প্রতি আর কোনো আঘাত যাতে না আসে সে বিষয়ে সচেষ্ট হতে হবে।”

একইসঙ্গে ভাষার পবিত্রতা রক্ষা ও দূষণ রোধে একটি রুলও জারি করেছে আদালত। সংস্কৃতি সচিব, তথ্য সচিব, বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মহাপরিচালক, বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা-বিটিআরসির চেয়ারম্যান, সব বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান কর্মকর্তা; রেডিও টুডে, রেডিও এবিসি ও রেডিও ফুর্তির প্রধান কর্মকর্তাকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে হবে।

বাংলা ভাষার দূষণ, বিকৃত উচ্চারণ, ভিন্ন ভাষার সুরে বাংলা উচ্চারণ, সঠিক শব্দ চয়ন না করা এবং বাংলা ভাষার অবক্ষয় রোধে বাংলা একাডেমীর সভাপতি অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে প্রধান করে একটি কমিটি করারও আদেশ দিয়েছে আদালত।

এসব বিষয়ে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে- সে বিষয়ে ২০ মার্চের মধ্যে আদালতে একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে এই কমিটিকে।

এই কমিটিতে কে কে থাকবেন, তা নির্ধারণে চূড়ান্ত ক্ষমতা দেওয়া হয় আনিসুজ্জামানকে। তবে আদালত কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, নজরুল বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, কবি নির্মলেন্দু গুণ, রফিক আজাদ ও সৈয়দ শামসুল হকের নাম প্রস্তাব করেছে।

আদালত বলে, “তাদেরকে কমিটিতে রাখা যেতে পারে।”

প্রথম আলোতে প্রকাশিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের লেখা একটি নিবন্ধ বৃহস্পতিবার আদালতের নজরে আনার পর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব রকিব উদ্দিন আহমেদ ‘ভাষাদূষণ নদী দূষণের মতোই বিধ্বংসী’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন।

তিনি বলেন, “আমাদের রেডিও ও টিভিতে বিকৃত উচ্চারণে বাংলা ভাষার ব্যবহার করা হচ্ছে। যা অনেকটা বাংলিশের মতো। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের ভবিষ্যত প্রজম্মের কি হবে? এ বিষয়ে আপনাদের সুনির্দিষ্ট ও কঠোর নির্দেশনা প্রয়োজন।”

পরে আদালতে ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু, অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান ও মুরাদ রেজা, ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর এ বিষয়ের ওপর বক্তব্য রাখেন।

আদেশে বলা হয়, “রকিব উদ্দিন আহমেদ স্বেচ্ছা-প্রণোদিত হয়ে বাংলা ভাষায় দূষণ প্রক্রিয়ায় ব্যথিত হয়ে, চিন্তিত হয়ে, এটা রোধ কল্পে আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত একটি উপসম্পাদকীয় আমাদের নজরে এনেছেন, যাতে বলা হয়েছে, ভাষা দূষণ নদী দূষণের মতোই ভয়ঙ্কর।

“এই ভাষা বঙ্গবন্ধুর ভাষা, রবীন্দ্রনাথের ভাষা, শরৎচন্দ্রের ভাষা, জীবনানন্দের ভাষা, বঙ্কিমচন্দ্রের ভাষা, আলাওলের ভাষা, সৈয়দ মুজতবা আলীর ভাষা, লালনের ভাষা, হাসন রাজার ভাষা, শাহ আব্দুল করিমের ভাষা, জসীম উদ্দীনের ভাষা ও কায়কোবাদের ভাষা।

“এই ভাষার ওপর আজ বলাৎকার চলছে। আমাদের জাতি সত্ত্বার অস্তিত্ত্ব রক্ষার জন্যই অনতিবিলম্বে এটা রোধ করতে হবে। বাংলা আজ কেবল বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরার ভাষা নয়, এটা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি ভাষা।”

আদেশের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, “এই ভাষার জন্য রফিক-জব্বার শহীদ হয়েছেন, ভাষা দিবস আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এই ভাষাতে রবীন্দ্রনাথ প্রথম এশীয় হিসাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। এই ভাষা চর্চার কারণে আজ লন্ডনে শেক্সপিয়র জাদুঘরে তার ভাষ্কর্য স্থান পেয়েছে। বিভিন্ন দেশে মাইকেল মধুসূদন দত্ত, লালন ও হাসন রাজার ওপর গবেষণা হচ্ছে।”

“বিশ্বের নানা দেশ থেকে ভাষা বিশেষজ্ঞরা এদেশে এসে এই ভাষার প্রাচুর্য অনুসন্ধান করছেন। এই ভাষায় বঙ্গবন্ধু প্রথম জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছিলেন, যা সে সময় বিশ্ব নেতাদের মুগ্ধ করেছিলো।”

উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার দিন থেকেই এ দেশের মানুষের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়েছিলো উল্লেখ করে আদালত বলে, “পৃথিবীতে বাংলাই একমাত্র ভাষা যার জন্য মানুষ রক্ত দিয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে এ রকম দৃষ্টান্ত আর দ্বিতীয়টি নেই। সুতরাং এ ভাষার পবিত্রতা আমাদেরকে রক্ষা করতে হবে।”

ধর্মান্ধতার বশবর্তী হয়ে যারা বাংলা ভাষার ওপর একসময় আক্রমণ করেছিল- তাদের সেই চেষ্টা এখনো চলছে উল্লেখ করে আদালতের আদেশে বলা হয়, “তাদের অগ্রযাত্রা আমরা চলতে দিতে পারি না।”

এর আগে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা বলেন, ভাষা বিকৃতি অনেকদূর চলে গিয়েছে। এটা রোধ করতে আরো আগেই আদালতের নির্দেশনা প্রয়োজন ছিল।

“যারা ভিউয়ার, লিসেনার বলে, তাদেরকে এই আদালতে এসে প্রমাণ করতে হবে- এই শব্দের যথাযথ বাংলা নেই।”

অন্য একটি মামলা শুনানির জন্য আদালতে ছিলেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান। এ আদালতের আহ্বানে বক্তব্য দিতে এসে তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষের যে ভাষা- সে ভাষার যথোপযুক্ত ব্যবহার মানবাধিকারের পর্যায়ে পড়ে। ভাষা আন্দোলনের পথ ধরে এদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। সেই স্বাধীনতাকে রক্ষার স্বার্থেই ভাষাকে রক্ষা করতে হবে।”

আদালত আদেশে বলে, বাংলা ভাষা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এটাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা করার দাবি উঠেছে। হয়তো একদিন তার বাস্তবায়নও দেখা যাবে।

এ মামলার শুনানিতে আগামীতে ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম, ব্যারিস্টার রফিক উল হক, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার আকতার ইমাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক সদরুল আমিন, লেখক সৈয়দ শামসুল হক ও সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলামের বক্তব্য শোনা হবে বলে জানিয়েছে আদালত।

Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ১০:২৭
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×