সকলেই জানে , "সময় ও নদীর স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করেনা।" আমাদের দেশের লোকেরা এই উক্তিটিকে মনে প্রাণে গ্রহন করে যদি সেই অনুযায়ী কাজ করতো তবে আমার মনে হয় এদেশ তাঁর উন্নতির পথের মাইলফলক অতি সহজেই পেরিয়ে যেতে পারত। আসলে আমাদের দেশের কিছু কিছু লোকেরা শুধু মুখেই বক বক করতে পারে। দেখা যায় নানারকম উপদেশ দিতে অনেকেই দক্ষ। কিন্তু তারা যদি তাদের নিজেদের কথার সিকিভাগ ও মেনে চলতো তবে এটা নিশ্চিত যে আমাদের জাতির এত হীন দশা কখনোই হত না। আমাদের দেশের কিছু কিছু লোকদের সময় জ্ঞানের খুবই অভাব । তাদেরকে যদি আলসে নামে অভিহিত করা হয় তবে এতে অবাক হবার কিছুই নেই। আমাদের দেশের কিছু কিছু লোকদের দায়িত্ব সচেতনতা এবং তাদের কর্মকাণ্ডের প্রতি দৃষ্টিপাত করলে মনে হয় তারা চিরজীবি, তাদের সময়ের অভাব নেই। কোন একটি কাজ তারা ঠিক সময়ে করতে চায়না । দেশের সরকার থেকে আরম্ভ করে প্রায় প্রতিটি নাগরিকেরই সময় জ্ঞানের বড়ই অভাব অথচ আমাদের সামনে এখনও অনেক কাজ, পড়ে আছে অনেক দায়িত্ব ।
অনেকেই আছেন যারা নিদ্রাদেবীর পূজা করেই দিনের অর্ধেক সময় কাটাতে চায়। বাকি সময়টুকুতেও এমন কোন কাজ নেই যা তারা সঠিক সময়ে সম্পাদন করে । স্কুল কলেজ থেকে আরম্ভ করে অফিস-আদালতে, ব্যবসায়-বানিজ্যে, পথে-ঘাটে কিংবা যানবাহনে সর্বত্রই অলসতা নামের এক ভূত আমাদের ঘাড়ে চেপে আছে। দেশ পরিচালনায় যারা নিয়োজিত আছেন তাদের মধ্যেও যেন সময় জ্ঞান নেই। দেখা যায় আটটায় অফিস আরম্ভ হলেও সাহেবদের নিদ্রাদেবীর পূজা সাঙ্গ করতে নটা বেজে যায়। তারপরে প্রাতঃ কাজ সম্পন্ন করে অফিস কর্মক্ষেত্রে পৌঁছতে যে কটা বাজে টা সহজেই অনুমেয় । এমনকি আমাদের শ্রদ্ধেয় মন্ত্রী মহোদয় গনও সভা সমিতিতে দেরী করে জনসাধারণ কে অপেক্ষায় রাখতে বাধ্য করান। দেশের ভবিষ্যৎ যাঁদের উপর নির্ভরশীল তাঁদের যদি এই অবস্থা হয় তাহলে তো দেশের করুন পরিণতি হবেই। কিছু কিছু স্কুল কলেজেও দেখা যায় সঠিক সময় ক্লাস আরম্ভ হয়না। হয় শিক্ষকগণ নয়তো ছাত্ররা ক্লাসে দেরী করে উপস্থিত হয়। এক মাসের পরীক্ষা হয়তো দুমাস পরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শিক্ষকদের রেজাল্ট দিতে দেরী হচ্ছে। এসব কারণে দেখা দিচ্ছে সেশন জট। এতে শিক্ষা ক্ষেত্রে দেখা দিচ্ছে অরাজকতা। শুধু তাই নয়, খেলার মাঠেও এর ছোঁয়া লেগেছে। পাঁচটার খেলা হয়তো শুরু হয় ছয়টার সময়। আর যানবাহনের কথা না হয় বাদই দিলাম। ঐ যে কথায় বলেনা "নটার ট্রেন কটায় ছাড়ে।" আর এটা তো বাঙ্গালি জাতিরই উক্তি । সাধে কি বলি আমরা শুধু কথায় পটু । এদেশের অনেক মানুষ কেবল চায়ের দোকানে, রাস্তার মোড়ে , পার্কের বেঞ্চে , সময় কাটাতে বেশি পছন্দ করে। কিংবা পাশের বাড়ির নূরু মিয়া এটা না করে ওটা করলে ভাল হোতো, অমুক লোকের স্বভাব খারাপ, অমুক খানে ডিমের হালির দাম বেশি কিংবা অমুক মন্ত্রির অতটা বাড়ি আছে ইত্যাদি নিয়েই ব্যাস্ত থাকে। আর বহির্বিশ্ব সম্বন্ধে এদের জ্ঞান অমুক দেশের লোকের এই দোষ, ঐ কাজ না করলেও পারতো, সেই পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। যেমনটি মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত ।
তাই যদি দেশকে সত্যিই উন্নতির পথে এগিয়ে নেবার সদিচ্ছা থাকে তবে সকলকেই মুখের গতি সংযত করত হবে। অলসতার মুখোশ খুলে ফেলতে হবে। যারা উপদেশ দিতে পছন্দ করেন তাঁদের বলি আগে নিজে ঠিক হয়ে অন্যকে উপদেশ দিন। নিজে ঠিক হোন দেখবেন সব ঠিক। অন্যথায় শুধু উপদেশে এ জাতি তথা দেশ "যেই লাউ সেই কদুতেই" থাকবে।
(বিঃদ্রঃ এই লেখাটি কাউকে আঘাত করে লেখা হয়নি। কেউ মনে কষ্ট পেয়ে থাকলে দুঃখিত।)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



