somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালোবাসি আমার স্কুল রাইফেলস পাবলিক স্কুল এ্যান্ড কলেজ কে

৩০ শে নভেম্বর, ২০১২ রাত ১১:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্কুলের ফেসবুক গ্রুপে বেশি আসা হয় না আমার । আসলে নিজের ডিপার্টমেন্টের নিজের ব্যাচের ছোট গ্রুপটা ছাড়া এফবির কোন গ্রুপেই যাই না আমি। দেখা করা হয়ে ওঠে না সেই সময়ের সবথেকে প্রিয় বন্ধুটার সাথেও ... হয়ত কাছের বন্ধুরা বলবে খুব বেশি ব্যাস্ত হয়ে গেছি আমি নিজের প্রেজেন্ট লাইফ নিয়ে । কিছুটা ঠিক । কিন্তু তার মানে এই না যে সময়ের সাথে সাথে সব আবেগ অনুভুতিও চলে গেছে আমার এই প্রিয় স্কুল থেকে , সেখানকার মানুষের থেকে... আমার সৌভাগ্য আমি এই দেশের সবচেয়ে নাম করা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়তে পেরেছি । ফেম এর ভিত্তিতে তালিকা করলে আমার স্কুলই হয়ত থাকবে ভার্সিটি , কলেজের নিচে । কিন্তু আমি জানি আমার মনের মধ্যে আবেগের ভিত্তিতে করা তালিকায় সবার উপরে আছে আমার এই প্রিয় স্কুল । আমার জীবনের সবচেয়ে মজার আর উত্তেজনায় পরিপূর্ণ স্মৃতিগুলো সব এই স্কুলের ভেতরে । কিন্তু আমি জানি না সেটা কেন... ওই সময়ে ক্লাস পালিয়ে লেকের ধারে বসে সিগারেটে আনকোরা টান দিতে যে সুখ পেতাম - এখন সেটা সারারাত ধরে চলা হার্ডকোর হ্যাংওভারেও আমি পাই না । তখন ক্লাসের একটা মেয়ের সাথে আই কন্টাক্ট হলে মনের মধ্যে যে দুলুনি উঠত , সেটা এখন উদ্দাম কোন মেক আউটের পরেও উঠে না । তখন এই ছোট ছোট জিনিসগুলো মনে গভীর দাগ ফেলতে পারত - এখন পারে না । কেন ??
সম্ভবত তখন আমার মনটা ছিল এখনকার থেকে অনেক নরম-- কেটে যেত , দাগ পড়ত - খুব সহজেই ।
“অনুভূতিগুলো এখন ভোতা হয়ে গেছে” - এই কমন ডায়লগটা আমি দিব না – আসলে ইন্টারের অংক করার পর যেমন এসএসসি এর দম আটকানো হায়ার ম্যাথকে কিছুই মনে হয় না, ম্যাজিক কার্পেটে ওঠার পর জায়ান্ট ফ্লুম আর কিছুই মনে হয় না – ব্যাপারটা সেরকম ।
কলেজ আর স্কুলে আমার চেনা ১০১ জনের চেয়ে আমি অনেক বেশী মজা করেছি আমার স্কুল লাইফে । আর তখন যেহেতু সবকিছু সহজেই মনে দাগ কাটত, তাই এখন আর আমার অন্য কিছুই মনকে তৃপ্ত করতে পারে না । এখন আমি অনেক “বড়” । পৃথিবীর আর নিজের জীবনের হাজারটা সমস্যা , খুঁত , জীবনের প্রাপ্তির সাথে প্রত্যাশার কম্পেয়ার- এগুলোতে মাথার কিছুটা অংশ সবসময় বিজি থাকে । আর তাই নিজের সবকিছু দিয়ে আর কিছু উপভোগ করা যায় না । অপ্রাপ্তির একটা সূক্ষ্ম অস্বস্থিকর খোঁচা মনের মধ্যে কাজ করে সবসময় ।এর থেকে মুক্তি নেই...
আমি স্কুল পাশ করার পর এখন পর্যন্ত সবসময় খুঁজেছি আমার স্কুল লাইফের সেই উত্তেজনার ফিলিংস । সম্ভবত ৫/৭ বার পেয়েছি । বাকিটা সময় শুধু কম্পেয়ার করে গেছি সবকিছু আমার সেই স্কুলের সময়টার সাথে – আমার সেই বন্ধুদের সাথে । সেই বন্ধুরাও আবার আর আগের মত নেই । সবাই আলাদা হয়ে গেছি । আলাদা জায়গায় বড় হয়েছি স্কুলের পরের সময়টায় । পরিবেশের প্রভাবে সবার চেঞ্জ এসেছে – সবাই হয়ে গেছি অন্য এক মানুষ । আমি নিজেও এর ব্যাতিক্রম না ।
আর তাই স্কুলের সেই আত্মার মানুষদেরকে এখন অচেনা লাগে ।তাদেরকে মিস করার অনুভুতিটা তৃপ্ত হয় না তাদেরকে দিয়েও । আগে কথায় কথায় যার দুই পায়ের মাঝে খপ করে ধরে বসতাম – আজ সেটা তার সাথে করা যায় না । নিজের কাছেই অড লাগে । বুঝতে পারি এই তৃপ্তিটা আর কখনই পাবার নয় । খুব হতাশ লাগে তখন , সবকিছু নিরর্থক মনে হয়...
এই গ্রুপ- ফ্রুপে আগের দিনের কথা শেয়ার করা , “missing those days” লেখা আমার এই অপ্রাপ্তির হতাশাকে আরো বাড়িয়ে দেয় ।আর কত মিস করব ?? কেন মিস করব ?? মাঝে মাঝে আমার এই সোনার স্মৃতিগুলোকে ভুলে যেতে ইচ্ছে করে- তাহলে আবার হয়ত সবকিছু আমি সম্পূর্ণভাবে অনুভব করতে পারতাম । অন্তত তুলনা করার কিছু থাকত না । বিধায় অপ্রাপ্তির ওই খোঁচাটা আর আমাকে বিদ্ধ করত না ।আর তাই আমি আমাদের গ্রুপে আসি না ... আমার স্কুলের স্মৃতিগুলো , দৃশ্যগুলো মনের মধ্যে বেশি সুন্দর । সেটা নিয়ে কথা বলার আমি কিছু পাই না... তবে স্কুলের ছবিগুলো দেখি – কালীদাশ স্যার আর নাই স্যারের থাবড়া দেয়ার ভিডিও দেখি – এগুলো দেখে অন্যরকম লাগে – শান্তি শান্তি । কিন্তু সাথে আবার কিছুটা দুঃখ । ৩ মুঠ শান্তির সাথে ১ চিমটি দুঃখের ১টা স্যালাইন... আর স্যালাইন তো শরীরের জন্য উপকারী ।

আজ অনেকদিন পর সেই ১৯৯৮ সালের স্কুলের ছবি দেখে সব ওলটপালট হয়ে গেল... তাই বলতে ইচ্ছা করছে – আমি আবার ফিরে যেতে চাই স্কুলের সেই দিনগুলোতে । চাই টিফিনের পরে দেরি করে ক্লাসে যেতে , স্কুল পালিয়ে সিগারেটে টান দিতে , চাই ক্লাসে কথা বলতে গিয়ে ধরা পড়তে , থাপ্পড় খেতে , কান ধরে উঠবস করতে – আমি এসব হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি , অনুভুতি আবার চাই আমার জীবনে । আমার লাগবে না বড় হওয়া । জীবন একটাই – কিছু সুন্দর অনুভুতির মাঝে খেলা করতে করতেই আমি হারিয়ে যেতে চাই এই পৃথিবী থেকে । কিন্তু তার আগে কোন কিছু আমার কাছ থেকে হারিয়ে যাবে না । আমি তাদেরকে ধরে রাখব – শক্ত করে । “বাস্তবতা” , “প্রকৃতির নিয়ম” টাইপ বড় বড় জিনিস থাকবে না আর আমার জীবনে । ছোট ছোট জিনিস নিয়ে গড়ে ওঠা কিছু অসাধারণ বড় বড় আবেগ নিয়ে আমি কাটিয়ে দিব আমার ছোট্ট জীবন...
বিঃদ্রঃ বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ রাইফেলস পাবলিক স্কুল এ্যান্ড কলেজের ভাইয়া ও আপুরা, কলেজের রেজিস্টার্ড এ্যালুমনাই গ্রুপ এ জয়েন করতে নিচের লিঙ্ক ব্যাবহার করুন ।
https://www.facebook.com/groups/xrpsc

৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্লগের ওসমান হাদী সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্যান

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

এ আমি কী দেখলাম! ব্লগের প্রতিবাদী মুখ, ভারতের যম, ওসমান হাদীর মুখপাত্র, একাত্তরকা গণ্ডগোলের ব্যাপারে সচেতন মুখ সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্লগটি স্থগিত অথবা বাতিল করা হয়েছে। দেশে যখন সামান্য চুমু... ...বাকিটুকু পড়ুন

জেফরি আর্চারের A Prisoner of Birth....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০০




জেফরি আর্চারের A Prisoner of Birth....

জেফরি আর্চারের A Prisoner of Birth মূলত এমন এক উপন্যাস, যেখানে বন্ধুত্ব, বিশ্বাসঘাতকতা, শ্রেণিবৈষম্য, বিচারব্যবস্থা, প্রতিশোধ এবং বুদ্ধিমত্তার লড়াই একসূত্রে গাঁথা হয়েছে। উপন্যাসটির... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসার মোল্লা হুজুর থেকে আপনার সন্তানকে নিরাপদ রাখুন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

গতকাল রাতে একটা বাচ্চার পা**র ছবি দেখেছিলাম ফেইসবুকে, অনেকেই শেয়ার করেছেন। পা কেটে হাসপাতালে আসার পর ডাক্তার সাপোজিটরি দিতে গিয়ে দেখে গর্তের মতো হয়ে গেছে। মাদ্রাসার হুজুরে বিকৃত কাজ করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি’কে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল বলার কোনো কারণ নাই!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৩



জাতীয় সন্মাননা কি কোনো গোপন বিষয় । একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা’কে গার্ড অফ অনার দিতে এত অনীহা কেনো বর্তমান সরকারের ‼️

আজ বারবার আমার গোআ’র কুপুত্রের একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৮


হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

জাপানের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের একটি পোস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাসাহাসি চলছে। আমার মনে হয়, হাসির আড়ালে আসল প্রশ্নটা চাপা পড়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটা কী
প্রধানমন্ত্রী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×