১।
আজ দুই বছর আমি জেলে। আজ ছাড়া পেলাম। জেল গেটে অনেক খুঁজেও একটা পরিচিত মুখ দেখতে পেলাম না। অগত্যা বাড়ির দিকে রওনা দিলাম। সশ্রম কারাদন্ড ছিল। দুবছরে আয় ১০০০০ টাকা। তবে আমার হিসেবে আরো বেশি হলেও আমার কাছে আছে এখন দুহাজার টাকা।
মাঝখানে খবর এসেছিল আমার মা মারা গেছে আর বাবা? সে আরো বছর পাচেক আগেই ছেড়ে গেছেন আমাকে। চাচার দোকানে গেলাম। কিছুক্ষন বসে চাবিটা নিয়ে বাসায় আসলাম। কাকা অবশ্য দুপুরে তাঁর বাড়িতে খেতে বলেছেন।
বাসায় ঢোকার কিছুদুর আগ থেকেই একটা কুকুর ঘেউ ঘেউ করছে। চিনতে পারলাম। আমার বাঘা ওটা। বাসায় সবকিছু আগের মতই আছে। আমার টেবিল। তাতে রাখা আমার খাতা কলম। এগুলো দেখে কেউ বলবে না আমি একটা ড্রাগ কার্টেলের মালিক ছিলাম। কেউ বলবে না কিন্তু আদালত বলেছে। তার শাস্তিও পেয়েছি। দুই বছর পর ফেসবুকে আসলাম। ফ্রেন্ডলিস্টটা একদম ফাঁকা। খুঁজে খুঁজে তিন চার জনকে পেলাম, তারা দিব্যি আছে। ফোনে টাকার মেয়াদ ছিলো না। তবে ব্যাবসায়ী তার খদ্দেরের খবর ঠিকই রাখে । বোনাস পেলাম কিছু। সেই দিয়েই ফেসবুক। দরজায় পিঙ্ক ফ্লয়েড আর মেটালিকার পোস্টার ছিল। আছে। বাড়তি বলতে মাকড়শা আর ধুলোবালি।
দুপুরে খেয়ে বের হলাম। টাউনটা চেনাই যায় না। রাসান এর একটা পোস্টার দেখলাম। বড় গায়ক হয়েছে। ফ্রুটি লুপস স্টুডিও চালানো আমিই শিখিয়েছিলাম ওকে। ভাবলাম প্রিতীর বাড়ির সামনে যাব। ৭টা গোলাপ কিনলাম। দাড়িয়ে আছি।
প্রিতী আসছে রিক্সায়। কোলে একটা ছেলে। সাথে একটা লোক। খুব জানতে ইচ্ছা হল নামটা কি। আসলে এক সময় আমাকে অনেক ভালবাসত। আমিও বাসতাম । সব পুরান হয়ে গেছে। অ অপেক্ষা করে নি। অবশ্য একজন হাজতির জন্য নিতান্ত দায় না থাকলে কেউ অপেক্ষা করে না। দুআ করি পেটি, তোমার ছেলে অনেক বড় লেখক হক। তুমি যেমন চাইতে।
নিজেকে খুব শুন্য লাগছে। নদির ধারে চলে এলাম। আছরের আযান দেয়নি তখনো। বসে আছি। বসে বসে ভাবছিলাম,এইতো সেইদিন এখানে প্রিতী আমার কাধে মাথা রেখে সারাজীবন পাশে থাকার প্রতীজ্ঞা করল। সেইদিন রিসান আমার কাছে প্রতীজ্ঞা করল ও আর সিগারেট খাবে না। সবই সেদিনের কথা। নিজেকে রিপভ্যান উইঙ্কেলের মত মনে হচ্ছে।
২।
-এই, এই, ভাই।
-হু
-আরে অই মিয়া?
ধরফরিয়ে উঠলাম আমি। নদির পাড়েই ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম। আবার প্রশ্ন এলো
-অসুস্থ নাকি?
-না ভাই। ঠিক আছে।
-বাড়ি কই?
-সদরহাট।
-কি কন মিয়া! আমিও ওখানে থাকি। এতদিন তো দেখি নাই। কই ছিলেন?
-জেলখানায়
লোকটার মুখ দেখে তখন হাসি আসলেও পরে খুব কান্না পেয়েছে। আমি কি এতটাই খারাপ ছিলাম যে আমার সেই চাচাতো ভাই বোনেরা, যারা আমার কাছে পড়ার জন্য মুখিয়ে থাকত, তারা একবার সামনেও এলো না। হয়তো বাপমার নিষেধ আছে।
আমি আমার সেই পুরাতন বিছানায়। ঘুম আসছে না। আসবে কিভাবে? বিছানায় শুতেই পারি না এখন। জেলে প্রথমদিকে খুব কেদেছি ঘুমাতে পারি না তাই। এখন রাত বারটা বাজে। ছাদে এসে শুলাম। তারা ভরা আকাশ। মেঘটা চাঁদটাকে ঘিরে ধরল। আকাশটা শুন্য হয়ে গেলো। আমার জীবনটাও এমন ফাঁকা । সবাই ছিলো এখন কেউ নেই। দখিনা হাওয়া ঘুম ধরিয়ে দিলো। ইসস কাল সকালটা যদি দেখতে না হত।।
সায়ানাইড সাকিব
#CNOS
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মার্চ, ২০১৫ বিকাল ৩:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






