১.
বাড়ির মেইনগেট দিয়ে খুব সন্তপর্নে ভেতরে ঢুকলেন আহমেদ সাহেব । আস্তে আস্তে বাড়ির পেছনে চলে গেলেন । রাত দশটা বেজে পনের । এই এলাকার পাহাড়াদার এখন সিগারেট খাবে । অর্থাৎ চার তলায় উঠার জন্য সময় পাচ্ছেন মোটামুটি ৩০ মিনিট । খুব গোপনে করতে হবে কাজটা । ধরা পরা চলবে না । আস্তে আস্তে বারান্দার দিকে এগুলেন উনি । নিচতলার বারান্দাটা গ্রিল লাগানো । তবে ঘরের ভেতরটা দেখা যাচ্ছে । ভেতরে ছেলেটা মনযোগ দিয়ে পড়ছে । একটু ভাল করে খেয়াল করলেই দেখা যাবে বইয়ের ভিতর আরেকটা বই । নিজের ছোটবেলার কথা ভেবে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন । তারপর উঠতে শুরু করলেন । দ্বিতীয় তলায় পৌছে আবার উকি মারলেন ভেতরে ।
-ইশশ তুমি খুব দুষ্ট হয়ে গেছ । ছাড়ো এখন ।
- হি হি……. না না নাহ ।
-এইই ছাড়ো না ।
-উহু
- দাড়াও জানালা আটকে দিয়ে আসি ।
আহমেদ সাহেব আবার উঠতে শুরু করলেন । বয়স হয়েছে । এখন অতো ভাল বাইতে পারেন না । ৩ তলায় উঠতেই চিত্কারের আওয়াজ পেলেন । উকি দিতেই ভেসে এল পুরুষ কন্ঠের আওয়াজ ।
-রাতে বাইরে থাকে কারা জানো ? চোর ডাকাত । তুমি একটা ভদ্র ঘরের ছেলে হয়ে কোন সাহসে বাইরে ছিলা ?
ছেলেটার জন্য মায়া হল আহমেদ সাহেবের । এইরকম বকা প্রতিদিন খেতেন উনি । বড় হয়েই বা কি লাভ ! বৌয়ের ভয়ে আজ দেয়াল বাইতে হচ্ছে । আজ বৌয়ের বান্ধবীর বিবাহবার্ষিকী । দেরী করলে কান ধরে ১০০ বার উঠবস করার শর্ত আরোপ করেছিল মিলা । শুধু বলার মেয়ে ও না । উঠবসের ভয়েই এই দেয়াল বেয়ে উঠা । মিশন কম্প্লিট প্রায় এখন শুধু মিলাকে হালকা করে ভড়কে দিতে হবে । মিলাকে আমি যতটা ভয় পাই তারচেয়ে বেশি ভয় মিলা চোরকে পায় । আর বাসায় একা থাকলে ভয় হাজারগুণে বারে । বারান্দায় উঠতেই জলে উঠল ভয়ংকর লাল নীল আলো । আর সাথে সাথে বেজে উঠলো কুৎসীত হাসি । একটা ভয়ানক চুলে ঢাকা মুখ দেখা মাত্রই জ্ঞান হারালেন আহমেদ সাহেব।
ঘণ্টা খানেক পর চোখ খুলতেই মিলা বলে উঠলো, “নিজেকে খুব চালাক ভাবো নাকি?”

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





