লেখকঃ জয়নাল আবেদিন
ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে ভারত আমাদের "create" করেনি,আমরাই ভারত সৃষ্টিতে মূখ্য ভূমিকা পালন করেছি।
আমাদের সূর্যসেনের দুইদিনের চট্টগ্রাম দখল ছিল ভারত সৃষ্টির বীজ।আমাদের প্রীতিলতাদের মতো অদম্য নারীরা বুকে বোমা বেঁধেছিল বলেই ভারতমাতা মুক্তি পেয়েছেন।
আমাদের তিমুমীর,তিতুমীরের সেনাপতি মাসুম....কাপিঁয়ে দিয়েছিলেন বৃটিশ রাজদের।
আমাদের শরীয়তউল্লাহ-দুদু মিয়াদের আত্মত্যাগের মাঝেই লেখা ছিল "জনগণ মন " নামক জাতীয় সংগীত।
ভুলে যাবেন না ভাই...
ভারতীয় বিপ্লবীদের চেয়ে বাংলার বিপ্লবীদের প্রতিই ব্রিটিশদের ভয় বেশি ছিল।
বাংলাদেশের একটা অংশ তারা কোনদিন দখল করতে পারেনি।
তোমরা যারা বলো ভারত আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছে তাদেরকে বলছি,বারো ভুইয়ারা যখন দিল্লীর শাসন না মেনে এদেশ স্বাধীন রেখেছিল তখন ভারত কই ছিল?
ইতিহাস দেখো,ভারত যুদ্ধে সহযোগীতার করার অনেক আগেই জাতিসংঘে পাকিস্থান যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব করে।তাদের কাপড় চোপড় এর আগেই নষ্ট হয়ে গেছে।রাশিয়া সেখানে ভেটো দেয়।কারণ তখনই মুক্তি বাহিনীর বিজয় নিশ্চিত হয়ে গেছে।
নয় মাস পর মার খেয়ে নেতিয়ে পড়া একটা বাহিনীকে ধরে বলছো "আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না!"
....তোমরা জানো না ওয়াডারল্যান্ড নামক এক বিদেশী জানবাজি রেখে যুদ্ধ করে এই যুদ্ধে বীর প্রতীক উপাধী পান।
তোমরা জানো না ফ্রান্সের এক ভদ্রলোক তার নিজের সোফা বিক্রি করে অর্থ সাহায্য পাঠান।
তোমরা জানো না এই যুদ্ধের সপক্ষে মার্কিন নৌ ঘাটিতে শ্রমিকদের বিদ্রোহ হয়েছিল।
তোমরা জানো না এই যুদ্ধের জন্যই এক মাূকিন সেনাকে কারাবরণ করতে হয়েছিল।
তোমরা আরো জানোনা সোভিয়েত যুদ্ধজাহাজ মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করার জন্য বঙ্গোপসাগরে যাত্রা শুরু করেছিল।
এই যুদ্ধটা তোমাদের মতো স্বার্থপরদের ছিলনা।
এই যুদ্ধটা ছিল এদেশের মাটির আর সারা পৃথিবীর অসংখ্য নিঃস্বার্থ ওয়াডারল্যান্ডের মতো মানবিক মানুষদের।
.....তোমরা কেন সাহায্য করেছো?
একপাশে চীন আর আরেকপাশে পাকিস্থান রেখে তোমাদের শান্তির ঘুম হয়নি।বিষকাঁটাটা সরানোর দরকার ছিল।সেটাই করেছো।
আর অনেকে ভাবে পাকিস্তান বাহিনী ভারতের সেনাপ্রধানের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল কারণ ভারতীয়দের সহায়তায়ই আমরা জিতেছিলাম। কিন্তু আসল সত্য হল, পাকিস্তানী বাহিনী আমাদের কাছে আত্মসমর্পণ করতে ভয় পাচ্ছিল। মুক্তিযোদ্ধারা কোন 'অফিসিয়াল' সেনাবাহিনীর ছিলেন না। আর তাছাড়া মুক্তিযোদ্ধারা তখন পাগলের মত খেপে ছিল। তাই পাকিস্তানিরা ভেবেছিল, মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করলে তারা আত্মসমর্পণের চুক্তি ভাংতে পারে এবং পাকিস্তানি সৈন্যদের মেরে ফেলতে পারে। এই ভয় থেকেই পাকিস্তানিরা কোন 'অফিসিয়াল বাহিনীর' কাছে আত্মসমর্পণ করতে চেয়েছিল। তার প্রেক্ষিতেই ভারতীয় বাহিনীর সাহায্য নেয়া হয়।
তোমাদের বীরত্বে আমরা জিতেছি,না?
কাদের সিদ্দিকীর নাম শুনেছো?
এক সিভিলিয়ান হয়ে যে বৃহত্তর টাঙ্গাইল মুক্ত করে ফেলেছিল।
এম এ জি ওসমানীর নাম শুনেছো?
৬৫ এর পাক-ভারত যুদ্ধে যে তোমাদের বিরাট ক্ষতির কারণ ছিল।যুদ্ধ যুদ্ধ করে যার জীবনে বিয়ে করাই হলো না।
জুয়েলের নাম শুনেছো?
পাকিস্থানের সবচেয়ে সম্ভবনাময় ওপেনার ক্রিকেট ব্যাট ছেড়ে রাইফেল ধরে শহীদ হয়েছিল।
রুমীদের নাম শুনেছো?
এদেশের ড্যাশিং তরুণের দল চোখে সানগ্লাস লাগিয়ে ঘোরাঘুরি করার বদলে বোমা ব্যাগে নিয়ে ঘুরত।
রক্তে আগুন জ্বলা এ জাতিকে তোমরা স্বাধীনতা দিয়েছো?
হাউ ফানি!
তোমরা সাহায্য না করলে এ জাতি স্বাধীনতা পেত না?
হয়তো দেরী হতো।
একমাস কিংবা এক বছর।
কিন্তু এ জাতিকে দাবাইয়া রাখার মতো ক্ষমতা কারো ছিল না,হবেও না।
৬৫ এর মার খাওয়ার বদলা এবং ৭১ এর বিমান হামলার প্রতিশোধ নিতে তোমরা যুদ্ধ করেছো।
ইতিহাস শেখাও আমাদের?
আমরা তোমাদের ফ্রি টানজিট দিচ্ছি আর তোমরা আমাদেন ন্যায্য পানিটাও দিচ্ছো না।
তোমরা আজীবনই স্বার্থপর।
.....শাসক গোষ্টীর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময় যা খুশি তা করেছো।
আর বেশিদিন নাই।
ওয়েট,এদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা একদিন মাশরাফিদের হাতে উঠবে।
স্ট্রেইট উস্টার উপর রাখবো তোমাদের...উস্টার উপর।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মার্চ, ২০১৫ দুপুর ১২:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






