somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সময় (কল্প কাহিনী )

১৩ ই জুলাই, ২০১৩ রাত ৮:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জুন ২০১০

মুনান টিএসসি তে বসে আছে, ভয়ে তার অবস্থা খারাপ। আজ তার রেজাল্ট দেবে, সে এতটাই নার্ভাস ফিল করছে যে রেজাল্ট আনতে যায়নি। বন্ধুরা সবাই গেছে, তারাই তার রেজাল্ট নিয়ে আসবে। রেজাল্ট খারাপ হলে স্কলারশিপ পাবেনা, এই স্কলারশিপটার জন্যই এতো খাটাখাটুনি। মুনান ফিজিক্সে এমএসসি করছে। ইচ্ছে আছে স্কলারশিপ নিয়ে ইউএস যাবে পড়তে।

এই সময় হটাত কোথা থেকে এক বয়স্ক লোক এসে আনন্দে আত্বহারা হয়ে তার হাত ধরে ঝাঁকাতে শুরু করলো। সে অবাক হয়ে দেখল বয়স্ক লোকটির চেহারা অনেকটা তারই মতো।

কংগ্রাচুলেশন ইয়াং টাইম ট্রাভেলার। লোকটি বলে উঠলো। মুনান জবাব দিল কেন? লোকটি জবাব দিলো তোমার স্কলারশিপের জন্য। মুনান হতভম্ব!!

আপনি কে? আমার রেজাল্ট আপনি জানলেন কোথা থেকে, সবাই তো রেজাল্ট আনতে ভার্সিটি গেছে!!! আর আপনি এভাবে হাসছেন কেন??

লোকটি জবাব দিলো আসলে নিজেকে এভাবে দেখতে পাব ভাবতে পারিনি তাই এতো খুশী লাগছে। যাই হোক, আমার হাতে সময় নেই, তুমিতো “সময়” নিয়েই গবেষণা করতে চাও α কে ফলো করো, বাই। বলেই লোকটি হন হন করে হেঁটে চলে গেল।

ঝিম মেরে মুনান কিছুক্ষণ বসে রইল, লোকটি কে? কি বলে গেল মাথা মন্ডু কিছুই বুঝতে পারলোনা, সে তার ব্যাপারে এগুলা কোথা থেকে জানলো তাও বুঝতে পারছেনা। টাইম সম্পর্কে তার এই আগ্রহ এই লোক জানলো কোথা থেকে !!!
এগুলো ভাবতে ভাবতে সফি, শাহিনরা চলে আসলো, এসেই কিল মারল, শালা এবার কি খাওয়াবি বল।

এতক্ষনে একটু ধাতস্থ হয়ে মুনান স্বাভাবিক ভাবে জিজ্ঞাসা করলো, কি খাবি?

ডিসেম্বর ২০৫৫

ল্যাবরেটরিতে বসে ঘামছে প্রফেসর মুনান, উত্তেজিত চোখে চেয়ে আছে বস্তুটির দিকে, জানেনা যন্ত্রটি কাজ করবে কিনা, আবার চেক করলো। থিওরিটিক্যালি যন্ত্রটি কাজ করছে। এতো বছর ধরে যে বিষয়ে গবেষণা করে আসছে আজ তার ফল পেতে যাচ্ছে।
নার্ভাস অবশ্যই। এক বছর আগে টাইম মেশিন এর ফর্মুলা আবিস্কার করে সে। সেদিন এতই উত্তেজিত হয়ে পরে যে সে অজ্ঞান হয়ে যায়। কাউকে এখনো জানায়নি, চেয়েছে একেবারে দুটো সারপ্রাইজ দিতে সব্বাইকে। সময়কে অতিক্রম করার সূত্র আর এই টাইম মেশিন।

যন্ত্রটা বেশ বড় হয়ে গেছে। আপাত দৃষ্টিতে স্টেজের মতো জায়গায় চারটি পিলার দাড়িয়ে আছে। এখানে আলট্রা সেনসিটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরি করবে। বস্তুটি এক অংশ দিয়ে ঢুকে অন্য অংশ দিয়ে বের হবে। এক অংশ দিয়ে ঢুকে অন্য অংশ দিয়ে বের হতে ১ মিনিট লাগবে এবং এই সময়টুকু সে বিচরন করবে অন্য সময়, অবশ্য। কিন্তু এই বর্তমান ১ মিনিট অতীত বা ভবিষ্যৎ সময়ে কতক্ষন তা সে এখনো বলতে পারছেনা।

যন্ত্রটি পরীক্ষা করার জন্য কালকে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাইছেনা। সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল। এখনই সে মেশিনটি চালাবে। যন্ত্রটি অন করে প্রফেসর ঘামতে লাগলো। সুক্ষ শব্দ হচ্ছে। প্যানেলে টাইম ফিক্স করল , তবে সে প্রথমে যাবে অতীত এ। নিজের অজান্তেই বসালো সনঃ ২০১০ মাসঃ জুন তারিখঃ ১২ সময়ঃ ১৭:০০

এইবার সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ভালো করে নিঃশ্বাস নিয়ে হাটতে শুরু করলো ম্যাগনেটিক ফিল্ডের দিকে। চোখ বন্ধ করে প্রবেশ করলো।

প্রবেশ করেই সে গরম তাপ পেয়ে চোখ খুলে দেখল সে টিএসসির সামনে দাড়িয়ে আছে, আনন্দে তার মাথা খারাপ হয়ে গেছে। চিৎকার করতে ইচ্ছে করছে। একি একটু দূরে সে ২৪ বছরের নিজেকে দেখতে পারল। হটাত সে বুঝতে পারল আজ তার রেজাল্টের দিন। কিছু না ভেবেই সে আনন্দের আতিশয্যে মুনান এর হাত ধরে ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে বলল “কংগ্রাচুলেশন ইয়াং টাইম ট্রাভেলার”। মুনান এর হতভম্ব ভাবটা বেশ উপভোগ করছে।
ইয়াং মুনান প্রশ্ন করলো কেন?

প্রফেসর জবাব দিলো তোমার স্কলারশিপের জন্য। ইয়াং মুনান হতভম্ব!!
আপনি কে? আমার রেজাল্ট আপনি জানলেন কোথা থেকে, সবাই তো রেজাল্ট আনতে ভার্সিটি গেছে!!! আর আপনি এভাবে হাসছেন কেন??
প্রফেসর জবাব দিলো আসলে নিজেকে এভাবে দেখতে পাব ভাবতে পারিনি তাই এতো খুশী লাগছে। যাই হোক, আমার হাতে সময় নেই, তুমিতো “সময়” নিয়েই গবেষণা করতে চাও, α কে ফলো করো, বাই।

বলেই প্রফেসর হাটতে শুরু করলেন। তিনি জানেন না তার হাতে কতক্ষন সময় আছে আর তাই যতক্ষণ সময় আছে ততক্ষন একটু ঘুরে ফিরে দেখতে চান ফেলে আসা সময়টিকে।
২০টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

টুইস্টেড মাইন্ড অফ আ সিরিয়াল কিলারঃ কবি কালিদাস স্পেশাল

লিখেছেন এইচ তালুকদার, ২৭ শে মে, ২০২৪ রাত ১:১৩



সিরিয়াল কিলারদের নিয়ে আমার আগ্রহ শুরু হয় এই ব্লগেরই একজন অসাধারন ব্লগার ''ডক্টর এক্স'' এর লেখা পড়তে যেয়ে। বাংলা ভাষায় সাইকোলজির দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সেলফ হেল্প ধরনের অসাধারন কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিলিস্তিনে কী শান্তি সম্ভব!

লিখেছেন সায়েমুজজ্জামান, ২৭ শে মে, ২০২৪ সকাল ৯:২১

এক.
প্রতিদিন ঘুমানোর আগে আলজাজিরা দেখি৷ গাজার যুদ্ধ দেখি৷ রক্ত দেখি৷ লাল লাল৷ ছোপ ছোপ৷ সদ্য জন্মানো শিশুর৷ নারীর৷ কিশোর কিশোরীর৷ বৃদ্ধের৷ সারি সারি লাশ৷ সাদা কাফনে মোড়ানো৷ ভবনে চাপা পড়া৷... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাকৃতিক দূর্যোগে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন?

লিখেছেন অপু তানভীর, ২৭ শে মে, ২০২৪ সকাল ৯:৩৫

আমার জীবনে আমি সরাসরি প্রাকৃতিক দূর্যোগের ভেতরে পড়েছি বলে আমার মনে পড়ে না । ২০১৯ সালের ঘটনা। ঘূর্ণিঝড়ের নাম সেবার ছিল সম্ভবত বুলবুল ! সেটা যখন আসছিল তখন আমি ছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

উপকূলের ভাই-বোনদের প্রতি গভীর সমবেদনা

লিখেছেন বিষাদ সময়, ২৭ শে মে, ২০২৪ দুপুর ১:০৭




আমরা ঢাকার পাকা দালানে বসে যখন আয়েস করে চায়ে চুমুক দিয়ে বৃষ্টি বিলাসে বিভোর, ঠিক সেই সময় আমাদের উপকূেলের ভাই-বোনেরা হয়তো কেউ স্বজন, কেউ ঘর, কেউ ফসল, কেউবা গবাদী... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ব্লগার ভাবনা: অশ্লীলতা কি পোশাক দিয়ে নির্ধারণ করা উচিৎ নাকি মানসিকতা ও চরিত্র দিয়ে?

লিখেছেন লেখার খাতা, ২৭ শে মে, ২০২৪ দুপুর ২:৫২


ছবিটি -ফেসবুক থেকে সংগৃহীত।

কহিনুরের, ফ্লোরা ওরিয়েন্টাল বিউটি সোপ।১৯৭৮ সালের বিজ্ঞাপন। ছবিটি ফেসবুকে পেয়েছি। ব্লগার সোনাগাজী, ব্লগার কামাল ১৮ সহ যারা মুরুব্বি ব্লগার রয়েছেন তারা হয়তো এই বিজ্ঞাপনটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×