somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জখমগুচ্ছ : নদীর জলে হলদে দুপুর || সৈয়দ নূরুল আলম

০১ লা মে, ২০২৬ রাত ৮:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



জখমগুচ্ছ : নদীর জলে হলদে দুপুর
সৈয়দ নূরুল আলম


শূন্য দশকে সাহিত্যে, বিশেষ করে কবিতায় নান্দনিকতা ও সরলতায় আভা ছড়িয়ে যাঁরা জনপ্রিয় হয়েছেন তাঁদের মধ্যে দ্বীপ সরকার অন্যতম একজন। তাঁর কবিতায় উঠে আসে জীবনবোধ, নস্টালজিয়া, জীবনের সুখ-দুঃখ, ঘাত-প্রতিঘাত, সার্থকতা-ব্যর্থতার চিত্র। সমাজের অসঙ্গতি, মানুষে মানুষে দ্বন্দ, কলহ, হিংসা-বিদ্বেষ, দরিদ্রতার রোষানল, শোষণ, এসব বিচলিত করে কবিকে। আর এসব নিয়েই কবি কবিতা লেখেন।

এ ধরণের কবির বই যখন বের হয়, তখন পাঠক একটু ঝাড়া দিয়ে ওঠেন। প্রকাশককে খোঁজেন। এরকম একটা সংবাদ— দ্বীপ সরকারের কাব্যগ্রন্থ ‘জখমগুচ্ছ’ সম্প্রতি অনুপ্রাণন থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
৬৪ পৃষ্ঠায় ৫৬টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলোর চমৎকার চমৎকার নাম। যেমন- শুক্রবার, চিল, পাপফুল, সন্ধ্যা, বউ বউ খেলা, নেতা, উপকথা, চিঠি, ছায়া , বোবা ছাদ, ইত্যাদি। এসব কবিতা তার পাঠকদেরকে অতীতের ভালোলাগার মুহুর্তগুলিতে ফিরিযে নিয়ে যায়। দৈনন্দিন অভিজ্ঞতাগুলি আয়নার প্রতিবিম্ব হয়ে পাঠক আরো গভীর এবং আবেগময় হয়ে ওঠে। জীবনবোধের কবিতা জাগতিক সৌন্দর্য আর মানুষের সংযোগের গভীরতা, সময়ের সাথে সাথে উদযাপিত হয়।

দ্বীপ সরকারের একটা কবিতা দেখে নিই— "অনন্ত বাবুর প্যান্টের চেন খুলে রাখার অভ্যাস| ও পথে বাতাস আর কিছু / রোদ যায় আসে। অনন্ত অফিস করে। সমুখে ফাইল, টেবিল। ল্যাপটপে/ আঙ্গুল চাপলেই নিচের দিকে ভোর নামে। শরৎ নামে। গা শিন শিন/ করে। চেনটা উদোম নাচঘর যেন (কবিতা- অনন্ত বাবু ও পাখিরা, পৃ: ১০)|’

একজন কবি প্রকৃত অর্থে বহুমুখী শব্দশিল্পী। কবি তার আবেগের বর্ণালীকে বিস্তৃত করেন, মননের চিন্তাকে উদ্দীপিত করেন। প্রেমের কবিতাগুলি আবেগের একটি জলাশয়, যেখানে রোম্যান্স এবং ঘনিষ্ঠতার অনুভূতি গীতিময় হয়ে ওঠে। যা পাঠকদের মুগ্ধ করে। এধরণের একটি কবিতা— ‘নিরিবিলি এক সন্ধ্যার কাছে/ আমার অনেক কথা জমা আছে/ সন্ধ্যাগুলো সে কথা রাখতে পেরেছে কিনা, জানি না/ খুব গোধূলির কাছাকাছি সময়ে/ বিনীত হাত স্পর্শ করেছিল/ তখন সন্ধ্যা সন্ধ্যা ভাব— (কবিতা- সন্ধ্যা, পৃ: ২৫)’

আবেগ এবং প্রেমের সৌন্দর্য হচ্ছে কবিতার অলঙ্কার। তাই কবিতায় যখন আবেগ এবং প্রেমের সৌন্দর্য প্রকাশ পেতে দেখা যায়, তখন সে কবিতা হয়ে উঠে মায়াময়, সর্বজনীন। দ্বীপ সরকারের কবিতা পড়লে পাঠকদের সেই উপলব্ধির দরজা একটু একটু করে খুলতে থাকে। একজন নির্ভীক শব্দকার সব সময় চান তার কবিতা পাঠ করে অন্যের মধ্যেও জেগে উঠুক কাব্যমন। সেক্ষেত্রে অবিচ্ছিন্ন সততার সাথে তিনি মূল্যায়ন করেন প্রতিটা শব্দের ব্যবহার, বাক্যের তাৎপর্য।
কবির মধ্যে জেগে থাকা নৈঃশব্দ্য, মনোজগতের হর্ষ বিষাদ, নৈস্বর্গীক সৌন্দর্য এসব কবিতার অবয়ব নিয়ে যখন পাঠকের চেতনায় ফুটতে থাকে জ্বলন্ত নক্ষত্র হয়ে, তখন সেই কবিতায়,পাঠকের একটা ভালোলাগার জায়গা তৈরি হয়। পাঠক কবিতায় মগ্ন হন সহজাত ভাবে। এটাই কবির কৃতিত্ব। যার সবটাই দ্বীপ সরকারের কবিতায় উপস্থিত। প্রায় প্রতিটি কবিতাই আমাদের আপন বলয়ের মধ্য থেকে উঠে এসেছে। সেকারণে কবিতাগুলো পাঠান্তে অনুরণন থাকে বহুক্ষণ। এধরণের একটা কবিতা, ‘নববঁধু সুইয়ে সুতো ভরাতে গিয়ে আঙুলে ফোঁড় দেয়/ সুইটা সুতো না দেখে, দ্যাখে আঙুল/ নববঁধু কাঁদে—’(কবিতা- কুসংস্কার, পৃ: ৩২)| এখানে নববঁধু এবং সুই অতপ্রতভাবে জড়িয়ে বাঙালির জীবনে। তবে সুইটা সুতো না দেখে, দ্যাখে আঙুল— এটাই কবিত্ব। এটাই দ্বীপ সরকারের বিশেষত্ব।

একথা অস্বীকারনকরার কোনো কারণ নেই, জীবন স্বীকৃত কবিতা লেখার জন্য পর্যবেক্ষণের গভীর অনুভূতি থাকতে হবে, পাশাপাশি মানুষের জটিল জীবনকে পড়ার জন্য গভীর উপলব্ধি থাকতে হবে। তাই পর্যবেক্ষণ বলি, আর উপলব্ধি বলি, মননের গভীরতা থেকে যার কবিতার প্রতিটি অক্ষর অনুরণিত হতে দেখা যায় তিনিই জাত কবি। আর দ্বীপ সরকারকে এধরণের একজন কবি বললে বাড়িয়ে বলা হবে না। অভিনন্দন কবিকে।

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মে, ২০২৬ রাত ৮:১১
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মৃত্যুর গন্ধ

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০

শরীয়তপুর পিবিআই জোনাল অফিসের তৃতীয় তলার কক্ষে বসে ফাইল ঘাঁটছিলেন ইনভেস্টিগেটর আরিয়ান। সকাল থেকেই আকাশ ভারী। জানালার কাঁচ বেয়ে বৃষ্টির ফোঁটা নেমে আসছে ধীর ছন্দে। টেবিলের পাশে ধোঁয়া ওঠা ব্ল্যাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ কি শুধু মক্কায় রয়?

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ১৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৯

মক্কা গিয়ে "আল্লাহ খোঁজো" আল্লাহ শুধু মক্কায় রয়?
পাশের ঘরে ভুখা জাগে নিভৃতে তার রাত ফুরোয়।
পাশের ঘরের ভুখা জানে রাত কিভাবে প্রভাত হয়!
— শ্রাবণ আহমেদ ...বাকিটুকু পড়ুন

আব্বাসীয় কুরাইশ এবং তাদের হানাফী অনুসারী আল্লাহর সবচেয়ে বেশী প্রিয়

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:১৭



সূরাঃ ১০৬ কুরায়শ, ১ নং ও ৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১। যেহেতু কুরায়শের আসক্তি আছে
২। আসক্তি আছে তাদের শীত ও গ্রীষ্মে সফরের
৩। কাজেই তারা ইবাদত করুক এ ঘরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোকের দিনে উল্লাস: শুরু হলো কখন থেকে?? বাংলাদেশের রাজনীতির নৈতিক পতনের এক কালো অধ্যায়

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১৬ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩






বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনা আছে, যেগুলো শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না, ছিল জাতির নৈতিক বোধের ওপর নির্মম আঘাত। একজন জাতীয় নেতার শাহাদাত বার্ষিকীর দিনে একটি দলের নেত্রীর তথাকথিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাঙা কমল-কলি দিও কর্ণ-মূলে, পর সোনালি চেলি নব সোনাল ফুলে......

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৬ ই মে, ২০২৬ রাত ১১:১৬


সেই ছোটবেলায় আমার বাড়ির কাছেই একটা বুনো ঝোপঝাড়ে ঠাসা জায়গা ছিলো। একটি দুটি পুরনো কবর থাকায় জঙ্গলে ছাওয়া এলাকাটায় দিনে দুপুরে যেতেই গা ছমছম করতো। সেখানে বাস করতো এলাকার শেষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×