বৃত্তে বন্দি পিএসসি। বর্তমান কমিশনের ১৪ সদস্যের ১৩ জনই মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও এমপিসহ সরকারি দলের প্রভাবশালীদের আত্মীয় কিংবা দলীয় অনুগত। সংবিধানের ১৩৭ থেকে ১৪১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পিএসসি পরিচালিত হয়। রাষ্ট্রপতি সে অনুযায়ী কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগ করেন। কিন্তু সব সরকারের আমলেই অনানুষ্ঠানিক নির্দেশনা যে কোথা থেকে আসে তা কারো অজানা নয়। সুতরাং সম্মানিত সদস্যগণ নিয়োগের পর সে বৃত্তেই শৃঙ্খলিত হন।
সদস্যগণ কে কার আত্মীয় : পিএসসিতে পূর্ণ প্যানেলের ১৫ সদস্যের মধ্যে বর্তমানে ১৪ জন রয়েছেন। এসব সদস্যের মধ্যে ১৩ জনই আত্মীয় ও দলীয় অনুগত। সদস্যের জ্যেষ্ঠতার দিক থেকে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছেন গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক রাশিদা বেগম। তিনি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের বড় বোন। ২০০৯ সালের ২৩ মার্চ তিনি পিএসসিতে যোগদান করেন।
মোহাম্মদ হোসেন সেরনিয়াবাত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ও সাবেক চিফ হুইপ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর চাচাতো ভাই। (আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই। ) ২০০৯ সালের ৯ এপ্রিল সেরনিয়াবাত পিএসসিতে যোগদান করেন। এর আগে তিনি প্রশাসনের ভুতাপেক্ষ যুগ্ম-সচিব ছিলেন। ২০০১ সালে দুর্নীতি দমন ব্যুরো এর করা মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান ক্রয়সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলার আসামি ছিলেন মিস্টার সেরনিয়াবাত। বর্তমান সরকারের সময় ঐ মামলা থেকে তিনি অব্যহতি পান।
যুবলীগের বর্তমান কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এমরান কবির চৌধুরী ২০০৯ সালের ১৫ এপ্রিল পিএসসি তে যোগদান করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হিসাবে কর্মরত ছিলেন। টাকা নিয়ে চাকরি না দেয়ার অভিযোগে তার বাসভবনে সম্প্রতি হামলার খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
পিএসসির আরেক সদস্য এ টি আহমেদুল হক চৌধুরী ২০০৯ সালের জুন মাসে পিএসসি তে যোগদেন। কথিত আছে, তিনি ১৯৯৬ সালে সচিবালয়ের সামনে জনতার মঞ্চের অন্যতম রূপকার ছিলেন। এর আগে তিনি অতিরিক্ত আইজিপি ছিলেন। ২০১০ সালে রাষ্ট্রপতির নিকট ‘কর্ম কমিশনে স্থবিরতা’ শীর্ষক চিঠি লিখে সে সময় তিনি আলোচনায় আসেন। ২০১০ সালের এপ্রিলে পিএসসির চেয়ারম্যান ড. সা’দত হোসাইনকে পদ থেকে সরিয়ে দিতে যে কলকাঠি নাড়ানো হয়েছিল তার নেতৃত্বে তিনি ছিলেন বলে মনে করা হয়।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর প্রভাবশালী উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের আপন ভাগ্নে সাবেক আমলা সৈয়দ হাসিনুর রহমান পিএসসি তে যোগদেন ২০০৯ এর জুলাই এ। এর আগে তিনি অতিরিক্ত সচিব ছিলেন।
ইকরাম আহমেদ যোগদেন ২০০৯ সালের ২৯ জুলাই। তিনি আওয়ামী লীগ এমপি তারানা হালিমের বোনজামাই। এর আগে তিনি অতিরিক্ত সচিব ছিলেন।
অধ্যাপক ডা. ফরিদা আদিব খানম আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের আপন ভাগ্নি। তিনিও ২০০৯ সালের ২৯ জুলাই যোগদান করেন।
মুহম্মদ লিয়াকত আলী খান ২০০৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর পিএসসি তে যোগদান করেন। শোনা যায় তিনি ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগ এবং পরে জনতার মঞ্চের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। আওয়ামী লীগের অনুগত এ সদস্য এর আগে কারা মহাপরিদর্শক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বলে পরিচিত মো. ওয়াজেদ আলী খান পিএসসি তে যোগদান করেন ২০১০ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর। এর আগে তিনি অতিরিক্ত সচিব ছিলেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ মো. নুরুন নবী আওয়ামী লীগেরও একজন অনুগত হিসানে পরিচিতি।
অধ্যাপক সুরাইয়া বেগম পিএসসি চেয়ারম্যানের পক্ষের লোক বলে পরিচিতি আছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবিদুর রেজা খান সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদের কাছের লোক বলে পরিচিত। এছাড়া তার সম্পকে অন্য কিছু জানা যায়ি।
এহসান শামীম পিএসসি চেয়ারম্যান ড. সা’দত হোসাইনের দূরসম্পর্কীয় আত্মীয় বলে পরিচিত।
এছাড়া কমিশনের সচিব চৌধুরী মো: বাবুল হাসান গোপালগঞ্জ কোটায় নিয়োগ পেয়েছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
নতুন চেয়ারম্যান : পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান কে হচ্ছেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে গুঞ্জন রয়েছে, সদ্যবিদায়ী মন্ত্রিপরিষদ সচিব আবদুল আজিজকে পিএসসি চেয়ারম্যান করা হতে পারে। পিএসসি’র সদস্য মোহাম্মদ সেরনিয়াবাত ওই পদে বসতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন যদিও তিনি পিছিয়ে আছেন বলে মনে করা হয়। এই পদের জন্যা আরও যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন ঢাবি সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, ঢাবি প্রোভিসি অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশীদ, ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন।
সত্র: বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন নিউজ সাইট
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে নভেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


