somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শুধু নিজে নন, স্ত্রীকেও ধনী করেছেন রণজিত

২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৩ ভোর ৫:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১২ বিঘা কৃষিজমি, ঢাকার পূর্বাচলে রাজউকের ১০ কাঠার প্লট, বাঘারপাড়ার খাজুরা বাজারে দুই হাজার ২০০ বর্গফুটের দোতলা ভবন, নিজের নামে নগদ তিন লাখ ও ব্যাংকে এক লাখ ৪২ হাজার টাকা, সাত লাখ টাকা দামের দুটি গাড়ি, দেড় লাখ টাকার সোনা।
স্ত্রীর নামে দুটি ফ্ল্যাট ও ৪৪ লাখ টাকার দালান; ব্যাংকে এক কোটি ১৩ লাখ টাকা ও নগদ তিন লাখ টাকা, ডিপিএস চার লাখ ৮০ হাজার, ১৬ লাখ ১০ হাজার টাকা দামের একটি গাড়ি ও এক লাখ ৮০ হাজার টাকার সোনা।
এত সব সম্পদ আওয়ামী লীগের সাংসদ রণজিত কুমার রায়ের। যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর ও সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) আসন থেকে এবারও তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা তাঁর হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তাঁর স্ত্রী নিয়তি রায় গৃহিণী হয়েও পাঁচ বছরে সাংসদ স্বামীর চেয়ে অনেক বেশি অর্থ-সম্পত্তির মালিক হয়েছেন।
২০০৮ সালে দেওয়া হলফনামায় স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রণজিতের নিজের নামে ছিল এক লাখ টাকার বাঘারপাড়ায় চার বিঘা পৈতৃক জমি এবং ৫০ হাজার টাকা দামের খাজুরা বাজারে আধা পাকা টিনের বাড়ি। স্ত্রীর নামে কিছুই ছিল না।
রণজিত কুমার রায়ের আড়তদারি ব্যবসা এবং কৃষিজমি থেকে বছরে আয় ছিল এক লাখ ৬৭ হাজার টাকা। পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার পর তাঁর আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। ক্ষমতার পাঁচ বছরে এইচএসসি পাস এই সাংসদ কীভাবে সম্পদের পাহাড় গড়লেন, সেটা নিয়ে এলাকায় নানা কৌতূহল। এমনকি নিজের দলেও আছে নানা সমালোচনা।
আওয়ামী লীগের বাঘারপাড়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার আলী এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এমপি হওয়ার আগে যে রণজিতের একটা সাইকেল কেনার আর্থিক সংগতি ছিল না, সেই রণজিত এখন রাজার হালে তিনটা গাড়িতে চড়েন। পাঁচ বছরে তিন শ থেকে পাঁচ শ কোটি টাকা লুটপাট করে তিনি বিশাল বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছেন।’
সাংসদ রণজিত অবশ্য নিজেকে ‘খুব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন’ মানুষ হিসেবে দেখতে পান। তাঁর ভাষায়, ‘যশোরের ছয় এমপির মধ্যে আমি খুবই ভালো লোক। এটা আমি গর্ব করে বলছি। এখন আমাকে কালার করার জন্য অনেকে বলবে যে এমপি শিক্ষক নিয়োগের বাণিজ্য করে সম্পদ গড়েছেন।’ তাঁর যুক্তি, রাজনীতি করতে গেলে এমন অনেক অভিযোগ উঠবে।
সর্বশেষ হলফনামায় আয়ের উৎস হিসেবে দেখানো হয়েছে, বেতনের তিন লাখ ৩০ হাজার, বাড়ি, দোকান ও অন্যান্য ঘর ভাড়া দুই লাখ ১০ হাজার, মাছ চাষের ব্যবসায় তিন লাখ ৯২ হাজার, কৃষি খাতের ৬৩ হাজার ও অন্যান্য ভাতা থেকে চার লাখ টাকা। সব মিলিয়ে বছরে মোট ১৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা তাঁর আয়।
হলফনামার বাইরে আরও সম্পদ: সরেজমিনে জানা গেছে, যশোর শহরের পিটিআই সড়কে তিনি কিনেছেন চারতলা বাড়ি। খাজুরা বাজারের টিনের আধা পাকা বাড়িটি এখন তিনতলা ভবন। এর নিচতলায় মার্কেট ও দোতলায় সোনালী ব্যাংকের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। বাঘারপাড়া বাজারে রয়েছে আরেকটি ভবন। বড় ছেলেকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ঢাকায় ব্যবসা বানিয়ে দিয়েছেন।
এসব নিয়ে কথা হয় সাংসদ রণজিতের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘যশোর শহরে যে বাড়ি করিছি, তা ইনকাম ট্যাক্সের খাতায় ঢুকানো আছে। খাজুরা বাজারের বাড়িটা আমার পৈতৃক বাড়ি। সেটিও ইনকাম ট্যাক্সের ফাইলে নথিভুক্ত করা আছে। লোন নিয়ে ছেলেকে একটা গাড়ি কিনে দিছি, তাতে অসুবিধা কী? লোন নিয়ে গাড়ি-বাড়ি কিনতি পারব না, এমনকি কোনো নিষেধ আছে?’
এলাকার বিভিন্ন সূত্র ও দলীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁর এত অবৈধ সম্পদ এসেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ-বাণিজ্য থেকে। অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার কারণে সম্প্রতি বাঘারপাড়ার বাঁকড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ-প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন আদালত।
‘বাঁকড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চার পদে নিয়োগ, সাংসদের পক্ষে ২০ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ’ শিরোনামে গত ২ নভেম্বর প্রথম আলোর শেষের পাতায় একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ছাপা হয়।
ওই বিদ্যালয়ের নিয়োগ-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তুলে গত ১৮ সেপ্টেম্বর সহকারী প্রধান শিক্ষক পদপ্রার্থী কুমারেশ চন্দ্র বিশ্বাস ও হিমা বিশ্বাস যশোরের সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নিয়োগের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
বাঘারপাড়া ও যশোর সদর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জানা গেছে, এ বছরে সদর উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় ২৫ জন এবং বাঘারপাড়া উপজেলায় ২০১২ সালের আগস্ট থেকে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের কোনো হিসাব রাখা হয় না। ফলে গত পাঁচ বছরে কতজন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ করা হয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। চাকরি দেওয়ার নামে প্রত্যেকের কাছ থেকে তিন থেকে ছয় লাখ টাকা করে ঘুষ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
যশোরের একজন শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, নিয়োগের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে হওয়া উচিত। অন্যান্য উপজেলায় সেটা হলেও বাঘারপাড়ার চিত্র ছিল ভিন্ন। সার্কিট হাউসে সব শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। সাংসদের নির্দেশে সেখানেই বোর্ড বসিয়ে নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রণজিত রায় বলেন, ‘শিক্ষক নিয়োগ হলি দেশের এমপিরা কত কোটি টাকা লুট করে নেচ্ছে, তার কোনো ইয়ে আছে? তবে আমার সাথে কারও কোনো টাকাপয়সার লেনদেন নেই। আমার নাম করে অনেকে লোকজনের কাছ থেকে টাকাপয়সা নেছে বলে আমি শুনিছি। আমাকে না জানিয়ে কেউ টাকাপয়সা লেনদেন করলি আমার কী করার আছে?’
তিনি একাই ১৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি: রণজিত কুমার রায় একাই ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হয়েছেন। যদিও চারটির বেশি প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হওয়ার নিয়ম নেই। এ প্রসঙ্গে সাংসদ বলেন, ‘পদাধিকারবলে এমপি চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি হতে পারেন। এ বাদে আরও কিছু প্রতিষ্ঠানের সভাপতি আমি হয়েছি, এটা ঠিক। কিন্তু সেগুলো আমার ইচ্ছায় নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলাদলির কারণে কমিটির লোকজন হুট করে সভাপতি পদে আমার নাম বলে বসেন। তখন দলাদলি ঠেকাতে সভাপতি হতে হয়েছে। তা ছাড়া সামাজিক মর্যাদা থাকলে আমি ১০ জায়গার সভাপতি তো হতেই পারি।’

Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৩ ভোর ৫:০১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমন্ত্রন পত্র থাকলে ভিসার দরকার কী! আপনি জানেন আমি কে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



ভারত বাংলাদেশের কোনো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে সেই আমন্ত্রণপত্র ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠাবে। সেখান থেকে আমন্ত্রণপত্র যাবে সেই রাজনৈতিক ব্যক্তির ডিপার্টমেন্টে, তারপর তার কাছে। এরপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাদিক হাসনাতের প্রোগামে রাজাকার মঈনুদ্দীন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



এই ছবিটি লন্ডনে অনুষ্ঠিত হওয়া নিজেস্ব অর্থায়নে সাদিক হাসনাতের প্রোগামের। অসংখ্য আঙ্কেল আন্টিদের মাঝে একজন বিশেশ লোককে দেখা গেল সেখানে। লোকটাকে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে ছবিতে। এই লোকটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চেয়ে চেয়ে দেখুন

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৬ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৩১


আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ; স্বাভাবিকভাবেই তারা অনলাইনে কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছে। মাঝেমধ্যে ঝটিকা মিছিল করে তাদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে।

রাজনীতিতে সক্রিয় বিএনপি ও জামায়াত-এনসিপি গং। বিএনপি ও জামায়াত আগে জোটবদ্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৬ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



'এই জল ভালো লাগে; বৃষ্টির রূপালি জল কত দিন এসে
ধুয়েছে আমার দেহ- বুলায়ে দিয়েছে চুল-চোখের উপরে
তার শান-স্নিগ্ধ হাত রেখে কত খেলিয়াছে, আবেগের ভরে
ঠোঁটে এসে চুমো দিয়ে চলে গেছে কুমারীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

খাম্বা/খাল তারেক কে কিছু উপলব্ধি শেয়ার করছি

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪২

আজ আর মনের মাধুরী মিশিয়ে বকাঝকা করব না। আজ কিছু ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা শেয়ার করব।



খাল খনন বা ঢাকার বাসস্ট্যান্ড সরানোর চেয়ে কি কি গুরুত্বপূর্ন কাজ এই অর্থবছরে করা যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×