
জমি "কট" দেয়া বা বন্ধক দেয়া আমাদের দেশে গ্রামাঞ্চলে একটা বহুল প্রচলিত ব্যাবস্থা । দরিদ্র চাষী অভাবে পড়লে নিজের এক খন্ড জমি অবস্থা সম্পন্ন প্রতিবেশীর কাছে বন্ধক বা কট রেখে টাকা ধার করেন, শর্ত থাকে যখন তাকে টাকা ফেরত দিবে তখন এ জমি ফেরত পাবে এবং যতদিন টাকা ফেরত না দিবে ততদিন উক্ত ঋণদাতা জমি ভোগ করবে, অর্থাৎ উক্ত জমি চাষবাস করে উৎপন্ন ফসল নিবে, এ বাবদ কোনো টাকা ঋণ থেকে বাদ যাবে না, যত বছরই যাক না কেন ফেরত দেয়ার সময় পুরো টাকাই তাকে ফেরত দিতে হবে ।
একজনকে টাকা বা (অন্য কোনো দ্রব্য যেমন ধান, চাল, তেল ইত্যাদি ) ধার দিলে তার থেকে ঋণের পরিমানের চেয়ে বেশি আদায় করলে অতিরিক্ত আদায়কৃত অংশ সুদ হিসেবে গণ্য হবে, এই মূলনীতি অনুসারে সকল আলেমগণ একমত যে বন্ধক রেখে টাকা ধার দিলে সেই বন্ধকী জিনিস থেকে কোনো লাভ বা উপকার নেয়া সুদ নেয়ার সমান, কাজেই টাকা ধার দেয়ার বদলে প্রতি বছর যে ফসল্ ঋণদাতা ভোগ করবে সেটা সুদ এবং তা মুসলমানের জন্য সম্পূর্ণ হারাম ।
তবে ঋণদাতা উক্ত জমি চাষ করলে উৎপন্ন ফসলের মূল্য থেকে তার শ্রমের মূল্য এবং বীজ, সার, সেচ ইত্যাদি বাবদ তার খরচ কেটে রেখে বাকি টাকা ঋণ গ্রহীতাকে দিলে বা তার ঋণ থেকে বাদ দিলে তা জায়েজ বলে কোনো কোনো আলেম মত পোষণ করেন ।
আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে হারাম থেকে বেঁচে থাকার তৌফিক দান করুন ।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মে, ২০১৮ রাত ১১:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


