পৃথিবীর কেন্দ্রটা বেশ গোলমেলে। এক জায়গায় স্থির নেই। বছরান্তরে এদিক সেদিক সরে যাচ্ছে। নাসার বিজ্ঞানী ডোনাল্ড আর্গাস জানালেন বৃত্তান্ত। 'বিশ্বটা সলিড কোনো বস্তুপিণ্ড নয়। এর অনেককিছুই পাল্টাচ্ছে। বরফ গলছে। আগ্নেয়গিরি দিয়ে ভেতরের লাভা উগড়ে পড়ছে। সমুদ্রতলের উচ্চতা বেড়ে এক মহাদেশের ওজন বাড়ছে তো আরেকটার কমছে। তাই এখানে মধ্যবিন্দু দুটো। একটি হচ্ছে সাধারণ বৃত্তের কেন্দ্র যেখানে থাকে, আর অন্যটি হচ্ছে ভরকেন্দ্র, যে বিন্দুতে ওজনের ভারসাম্য তৈরি হয়। অর্থাৎ পৃথিবীর ভরকেন্দ্রটা আসল কেন্দ্র থেকে একটু সরে আছে। আর ওই বিন্দুটা সনাক্ত করার ফলে এখন জলবায়ুর পরিবর্তন, ভূমিকম্প, অগ্নুৎপাত ইত্যাদি নিয়ে আরো ভাল করে জানা যাবে। আসন্ন দিনগুলোতে কী ঘটতে যাচ্ছে, দুর্যোগের মাত্রা কতোটুকু এবং পরিত্রাণের কোনো রাস্তা আছে কি-না জানা যাবে সেটাও।
পৃথিবীর কেন্দ্র নিয়ে জুলভার্ন লিখেছিলেন সায়েন্স ফিকশন। আর ডোনাল্ড আর্গাস ও তার দল লিখে যাচ্ছেন জটিল সব হিসেব নিকেষ। ব্যবহার করছেন গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম রিসিভার, লেজার জিওডায়নামিক স্যাটেলাইট, রেডিও টেলিস্কোপ ও একগাদা স্যাটেলাইট-ট্র্যাকিং যন্ত্রপাতি। এতো যন্ত্র ব্যবহারের ফলটাও পেয়েছেন বেশ। তাদের চিহ্নিত ভরকেন্দ্র থেকে সত্যিকার ভরকেন্দ্রটা বছরে ০.০৭ ইঞ্চি এদিক সেদিক হবে। অর্থাৎ এই বসুধার মধ্যবিন্দুটাকে হারানোর ভয় নেই।
পৃথিবীর আকাশ আর পেট নিয়ে এতো গবেষণার লক্ষ্য একটাই। বরফ গললে পৃথিবীর স্বাস্থ্যের কী দশা হয় তা আগে থেকেই জানা। জানলেই বেরিয়ে আসতে পারে আনকোরা কোনো আইডিয়া। যা মুহূর্তে মুছে দিতে পারে গ্লোবাল ওয়ার্মিং নিয়ে তরতাজা হুমকিগুলো। এছাড়া, এ গ্রহটা যেহেতু একটি বরফ যুগ পার করে এসেছে, তাই অতীতের তথ্যঝুলিটা এই ফাঁকে আরেকটু ভারি করে নেওয়াও যাচ্ছে। বরফযুগে পৃথিবীর ভরকেন্দ্রটা ঠিক কোন অবস্থানে ছিল তা জানা এখন মোটেও কঠিন হবে না। বরফ গলার পর টেকটোনিক প্লেটগুলোর গতিপথ কীভাবে কতোটা পাল্টেছিল, ভবিষ্যতে কোন দিকে মোড় নেবে; এ প্রশ্নগুলোরও উত্তর মিলবে অচিরেই।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুন, ২০০৭ রাত ৮:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



