somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাওয়া গেছে ধরিত্রীর মধ্যবিন্দু

১৬ ই জুন, ২০০৭ রাত ৮:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঠিক ওই বিন্দুটায় একটা কাঠি ধরে খাড়া করা হলে বস্তুটা একটুও এদিক সেদিক নড়বে না। ওটাই যে মধ্যবিন্দু। পারফেক্ট ব্যালেন্সটা ওখানেই লুকিয়ে। তবে দুর্ভাগ্য বিজ্ঞানীদের। গোলাকার বস্তুটাকে কাঠি দিয়ে উপরে ওঠানো সম্ভব হচ্ছে না। কারণ ওটা পৃথিবী। ঠেলতে গেলে নক্ষত্র সমান দানবের প্রয়োজন। তাই আপাতত গাণিতিক ব্যাখ্যাতেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে।
পৃথিবীর কেন্দ্রটা বেশ গোলমেলে। এক জায়গায় স্থির নেই। বছরান্তরে এদিক সেদিক সরে যাচ্ছে। নাসার বিজ্ঞানী ডোনাল্ড আর্গাস জানালেন বৃত্তান্ত। 'বিশ্বটা সলিড কোনো বস্তুপিণ্ড নয়। এর অনেককিছুই পাল্টাচ্ছে। বরফ গলছে। আগ্নেয়গিরি দিয়ে ভেতরের লাভা উগড়ে পড়ছে। সমুদ্রতলের উচ্চতা বেড়ে এক মহাদেশের ওজন বাড়ছে তো আরেকটার কমছে। তাই এখানে মধ্যবিন্দু দুটো। একটি হচ্ছে সাধারণ বৃত্তের কেন্দ্র যেখানে থাকে, আর অন্যটি হচ্ছে ভরকেন্দ্র, যে বিন্দুতে ওজনের ভারসাম্য তৈরি হয়। অর্থাৎ পৃথিবীর ভরকেন্দ্রটা আসল কেন্দ্র থেকে একটু সরে আছে। আর ওই বিন্দুটা সনাক্ত করার ফলে এখন জলবায়ুর পরিবর্তন, ভূমিকম্প, অগ্নুৎপাত ইত্যাদি নিয়ে আরো ভাল করে জানা যাবে। আসন্ন দিনগুলোতে কী ঘটতে যাচ্ছে, দুর্যোগের মাত্রা কতোটুকু এবং পরিত্রাণের কোনো রাস্তা আছে কি-না জানা যাবে সেটাও।
পৃথিবীর কেন্দ্র নিয়ে জুলভার্ন লিখেছিলেন সায়েন্স ফিকশন। আর ডোনাল্ড আর্গাস ও তার দল লিখে যাচ্ছেন জটিল সব হিসেব নিকেষ। ব্যবহার করছেন গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম রিসিভার, লেজার জিওডায়নামিক স্যাটেলাইট, রেডিও টেলিস্কোপ ও একগাদা স্যাটেলাইট-ট্র্যাকিং যন্ত্রপাতি। এতো যন্ত্র ব্যবহারের ফলটাও পেয়েছেন বেশ। তাদের চিহ্নিত ভরকেন্দ্র থেকে সত্যিকার ভরকেন্দ্রটা বছরে ০.০৭ ইঞ্চি এদিক সেদিক হবে। অর্থাৎ এই বসুধার মধ্যবিন্দুটাকে হারানোর ভয় নেই।
পৃথিবীর আকাশ আর পেট নিয়ে এতো গবেষণার লক্ষ্য একটাই। বরফ গললে পৃথিবীর স্বাস্থ্যের কী দশা হয় তা আগে থেকেই জানা। জানলেই বেরিয়ে আসতে পারে আনকোরা কোনো আইডিয়া। যা মুহূর্তে মুছে দিতে পারে গ্লোবাল ওয়ার্মিং নিয়ে তরতাজা হুমকিগুলো। এছাড়া, এ গ্রহটা যেহেতু একটি বরফ যুগ পার করে এসেছে, তাই অতীতের তথ্যঝুলিটা এই ফাঁকে আরেকটু ভারি করে নেওয়াও যাচ্ছে। বরফযুগে পৃথিবীর ভরকেন্দ্রটা ঠিক কোন অবস্থানে ছিল তা জানা এখন মোটেও কঠিন হবে না। বরফ গলার পর টেকটোনিক প্লেটগুলোর গতিপথ কীভাবে কতোটা পাল্টেছিল, ভবিষ্যতে কোন দিকে মোড় নেবে; এ প্রশ্নগুলোরও উত্তর মিলবে অচিরেই।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুন, ২০০৭ রাত ৮:৫০
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি টুপ করে চলে আসবো

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:১৯


আমি হাসিনা। আমি আমার স্বামী ওয়াজেদ মিয়াকে কোনদিন স্বামীর মর্যাদা দেইনি। সে জ্ঞানী হলেও আমি সবসময় তাকে বাসার কাজের লোকের চেয়ে বেশি কিছু মনে করিনি। আমি সবসময় মৃণাল কান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮




রুবার সাথে আমার বিয়েটা ওঠ ছেড়ি তোর বিয়ের মতোই হয়েছে । একদম সাধারন কোনরকম অনুষ্ঠান নাই । সেইদিন অফিসে অনেক কাজ ছিলো । চোখে তারা ফারা দেখছিলাম । বসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রথম .........।

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আন্ডারগ্রাউন্ড শোতে এটাই আমার প্রথম ড্রামস বাজানোর একটা মুহূর্ত।

কিছু গল্প আসলে পরিকল্পনা করে শুরু হয় না।কিছু গল্প হঠাৎ করে একটা মুহূর্ত থেকে জন্ম নেয় আর তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমুদ্রের নীল খাম

লিখেছেন ডি এইচ তুহিন, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৪২


এই শহরে থাকি প্রায় সাতাশ-আটাশ বছর ধরে। তিন প্রেমিকার মায়া ছেড়ে যাওয়া যায় না এমন এক অদ্ভুত সুন্দর এই শহর। যার এক হাতে নদী, অন্য হাতে সমুদ্র, আর কপালে জায়গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী দুঃশাসনের পতন অনিবার্য ছিল, জুলাই তো স্রেফ উছিলা মাত্র!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮



জুলাই নিয়ে অনেক বিতর্ক, সমালোচনা আছে। কিন্তু, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে জুলাই গণঅভ্যূত্থান না হলে আমরা দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পেতাম না। জুলাই ঘিরে যত বিতর্ক, সমালোচনাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×