somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সৃজনশীল শিক্ষা ব্যবস্থা বনাম বাস্তবতা

২৭ শে নভেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিগত কয়েক বছরের ন্যায় এ বছরও ভর্তি পরীক্ষাগুলোতে ফেলের হার হতাশাজনক পর্যায়ের । মাধ্যমিক, উচ্চ-মাধ্যমিকে এত উচ্চ পাশের হার বা এত হাজার হাজার কখনোবা লাখো এ-প্লাসধারীদের ভর্তি পরীক্ষায় এত করুন অবস্থার হেতু কি ?
শিশুতোষ বুদ্ধিজীবি জাফর স্যারের কাঁধে হাত রেখে বলতে ইচ্ছে করে হয়ত অধিক চাপে আমাদের শিক্ষার্থীদের মগজে ভাজ পড়ে গেছে , বইয়ের ভারে মস্তক নুইয়ে গেছে , লৌহকঠিন প্রশ্নপত্রে মেধায় সাময়ীক মরচে পড়েছে । কিন্তু গোঁফ থাকিলেও বুদ্ধিজীবি হইতে না পারার তাগিদে এগুলান ভাবিতেও পারিলামনা ।

সৃজনশীলতা মানে কি ? মানে আগে প্রশ্ন হইতো “ঝন্টুর চরিত্র বিশ্লেষন কর” । এখন হয়- “ মন্টুর মত দেখিতে কিন্তু মন্টু না- তোমার বইয়ে পঠিত এমন একজনের চরিত্র বিশ্লেষন কর ।“
আর সৃজনশীল মেধা কি ? উত্তর- ঝোপ বুঝে কোপ মারিতে পারা । সেটা কিরুপ ?
ধরেন প্রশ্ন করা হলো “ফ্লোরিজেন মানে কি ?” ।
রনি লিখিল- ফ্লোরিজেন হইল উদ্ভিদের এমন এক ধরনের পুশ্চুলেটেড হরমোন যা ফুল ফোটাতে সাহায্য করে ।
মনি- ফ্লোরিজেন এক ধরনের পুশ্চুলেটেড হরমোন ।
জনি- ফ্লোরিজেন এক ধরনের উদ্ভিদ হরমোন ।
টনি- ফ্লোরিজেন এক ধরনের হরমোন ।
আপনি যত নাম্বারই পকেটে মজুদ রাখার অভিপ্রায় নিয়া খাতা কাটিতে যাননা কেন এই চারিজনকেই আপনি ন্যুনতম অথবা সর্বোচ্চ পুর্নমান ‘১’ করিয়া দিতে বাধ্য ।নাম্বার বিবেচনায় রনি-মনি-জনি-টনি একই মেসে থাকিলেও মেধার মানে কিন্তু সাত তলা আর গাছ তলা টাইপ । তাহলে বুঝা গেলো সৃজনশীলে নাম্বার ও মেধা পরস্পরের বীপ্রতীপ কোণ !
এখন , আপনাকে যদি বলা হয় এই চারজনের মধ্যে কে বেশি মুনাফাখোর পরিক্ষার্থী ? উত্তর অবশ্যই টনি । যদি আমাদের সময়ও সৃজনশীল ব্যাবস্থা থাকিত তবে নিঃসন্দেহে আমিও অধিক মুনাফাই প্রত্যাশা করিতাম !
আমাদের সময় যেমন ধমনী-শিরার পার্থক্য আসতো ৫ নাম্বারের জন্য । এখন আসে ২ নাম্বারের ‘খ’ তে । আমরা লিখিতাম/শিখিতাম ৮-১০টি । আর এখন ? নাম্বার বিবেচনায় ৫টি লিখাইতো মহানুভবতা !
তাহলে এই অধিক মুনাফাখোর হবার তাগিদ থাকাটায় দায় কার ? শিক্ষার্থীর নাকি ব্যাবস্থার ? আপনি যখন নাম্বার বন্টনে কৃপণতা করিবেন তখন মেধা বন্টনেও শিক্ষার্থীরা কৃপণ হইতে চাইবে- এটাইতো স্বাভাবিক ।
এই যে এখন আমাদের শব্দভুক টাকসমগ্র মন্ত্রিসাব আরো সৃজনশীল প্রশ্নের সংখ্যা বাড়াচ্ছেন তাতে কি হইবে ? সময় স্বল্পতায় ও নাম্বার বিবেচনায় কোনো উত্তর পুর্নাংগ রুপে লিখিতে চাইবার ইচ্ছা থাকিলেও কম বিনিয়োগে অধিক ফলনের আশায় শিক্ষার্থীরা আরো সৃজনশীল মুনাফাখোর হইবে বা হইতে চাইবে-এটাই অনুমিত ! ভাগ্যিস কপালটা চ্যাপ্টা হইলেও ফাটা না । নইলে আবুল মাল সাব শিক্ষামন্ত্রি হইলে এই মুনাফাতেও ট্যাক্স বসায়া দিতেন !

যাহোক, রনি-জনি-মনি-টনিদের মেসে আবার যাওয়া যাক । দুই মাস আগে এই চার বন্ধু উচ্চ মাধ্যমিকে এ-প্লাস পাওয়ায় টাকা ভাগ করিয়া মিস্টি খাইলো । কিন্তু এখন রনি বাদে কারোরই মিস্টি খাবার রুচি নাই । এই যে এতকাল অধিক মিস্টি গলাধঃকরণে আজ তাহাদের মিস্টিতে অরুচি রোগ ধরিল তাহার দায় কার ? কথায় আছে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম । তবে কিরুপ ব্যাবস্থাপত্রে জনি-মনি-টনিদের অরুচি রোগ প্রতিরোধ করা যাইবে ?

টীকাঃ সেদিন রক্ত নিয়ে পড়াচ্ছিলাম । শুরু করবার আগে জিগাইলাম- রক্ত কি ? একজন বলিল- রক্ত পরীমনি অভিনীত সিনেমার নাম । হাসির ছলে বলা হলেও নাম্বার কিন্তু পুরো ৫ই জানুয়ারির ইলেকশন ।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে নভেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:৫৭
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×