জাফর আহমেদ চৌধুরী
বেশ কিছু বন্ধু-বান্ধবী একসাথে হয়েছে। অনেকদিন পর। এক বন্ধুর খামার বাড়িতে। ঢাকার অদূরে। গাজীপুর। সকলের বয়স পঞ্চাশের ঊধের্্ব। মাঝে মাঝে অফিস পাড়ায় বা চলার পথে হোটেল-রেস্তোরা বা রাস্তা-ঘাটে কারো কারো সাথে দেখা হয়ে যায়। হেই, হাই, কোথায় আছ, কেমন আছ, ছেলে-মেয়েরা কে কি করে, ইত্যাদি কুশলাদি বিনিময় হয়। অনেকের সাথে আবার দু'তিন যুগও দেখা-সাক্ষাৎ হয়না। এবার একটা গেট-টুগেদার আয়োজন করল মুন।
মুনের রুচি আছে। প্রশংসা করতে হয়। বাগান বাড়িটি অদভুতভাবে সাজিয়েছে। ল্যান্ডস্কেপ চমৎকার। কৃত্রিম পাহাড় হ্রদ। উচুঁনিচু করে বিভিন্নজাতের গাছ-গাছড়া সাজান হয়েছে। তৈরি করা হয়েছে সুইমিং পুল। ঘোড়দৌড়ের জন্য একটি মাঠ। মুন চারটি ঘোড়া যোগাড় করেছিল। একটি মারা গেছে। তিনটি আছে। দুটি আফ্রিকান। ব্যবসা-বাণিজ্য খুব ভালই করছে। বাংলোটা চমৎকার প্যাটার্নের। ভেতরে সব কিছু পরিপাটি। বিভিন্ন ছবি ও আর্ট দিয়ে দেয়াল সাজান। রোমান্টিক পরিবেশ। পুকুর আছে। তাতে মাছ আছে। রাজহাঁস। দেশী হাঁস। বিচরণ করছে মাঠে, পুকুর পাড়ে। হর্স রাইডিং কে করে জানতে চাইলে মুন বলে, মুনমুন। মুনমুন তার স্ত্রী। ইন্টারমিডিয়েট থেকে বিশ্ববিদালয় পর্যন্ত চুটিয়ে প্রেম করেছে। যাকে বলে ফ্রি মেলামেশা। অন্য বন্ধু-বান্ধবরা তা নিয়ে অনেক কৌতুক ও অনেক হাস্যরস করত। বন্ধু-বান্ধবদের ইয়ার্কিতে তাদের কিছু যেত আসত না। তারা সফল। প্রেমে। দাম্পত্য জীবনে। মুন এখন সিআইপি। কমার্সিয়েলি ইমপোরটেন্ট পার্সন।
মুনের সৌজন্যে, তার সিরিয়াসনেসের কারণে সহপাঠীদের এ মিলন মেলা। বিদেশে বসবাসকারী তিনজন বন্ধু-বান্ধবীও উপস্থিত হয়েছে। লর্ড, প্রিন্স ও প্রিন্সেস। অনেকের মতে লর্ড ও প্রিন্সেস এর আগমন উপলক্ষ্যেই এ গেট-টুগেদার। প্রিন্সেসের সাথে মুনের একটা সম্পর্ক ছিল ছাত্রজীবনে। 'খেলা রাম খেলে যা'। গেট-টুগেদারে দেখা গেল মুন ও প্রিন্সেস দূরত্ব বজায় রেখে চলেছে। প্রচুর ভোজনের আয়োজন। সবাই প্লেটে খাবার দাবার নিয়ে যার যার খুশীমতো মাঠে, সুইমিংপুলের ধারে, পুকুর পাড়ে, ছাতার নিচে গিয়ে ভোজনের কাজ সারলো।
খাওয়া দাওয়া শেষে এক গ্রুপ পুকুর পাড়ে বেঞ্চিতে গিয়ে বসল। কেউ চেয়ার হাতে করে নিয়ে তাদের সাথে যোগ দিল। বিভিন্ন বিক্ষিপ্ত বিষয় আলোচিত হচ্ছিল। হঠাৎ মুন নূরকে জিজ্ঞেস করে তুর কোথায়? জয় জিজ্ঞেস করে তুর আবার কে? মুন বলে 'কিছুনা। নূর তা জানে'। 'বলনা নূর, তুর কে'? দু'তিন জন বন্ধু একসাথে প্রশ্ন করে। 'ধ্যাৎ, কেউনা। ছাত্রজীবনের পরিচিতা এক মেয়ে' _ জবাব দেয় নূর। সবাই হো হো করে হেসে উঠে। পৌঢ় বয়সে সবাই এ সাবজেক্টটি নিয়ে মজা পায়। অনেকে প্রশ্ন করে উঠে, তারপর কী? নূর বলে, 'কিছু না। ছাত্রজীবনে প্রেম ছিল'। 'তাতো ছিল, কিছু হলো না কেন'? কয়েকজন বন্ধু জিজ্ঞেস করে। 'হলে ভালই হতো। কেন জানি বাবা-মা রাজি হলেন না'। নূর বলে যায়, পাশের বাসায় থাকত। একবছর জুনিয়র। ওর বিয়ে ঠিক হয়ে যায়। ছাত্র অবস্থায় বাবা-মা বিয়েতে কিছুতেই রাজি না। তারপর যা হওয়ার তাই। 'এখন কোথায় থাকে রে'? এক বন্ধু জিজ্ঞেস করে। 'আমেরিকায়', নূর বলে। আর এক বন্ধু জিজ্ঞেস করে, 'তুইতো কয়দিন আগে আমেরিকায় গেলি। দেখা-সাক্ষাৎ করতে পেরেছিস'? হঁ্যা, দেখা হয়েছে। ও ফিলাডেলফিয়ায় থাকে। টেলিফোন করেছিলাম। তার হাজবেন্ডসহ ওয়াশিংটনে এসে আমার সাথে দেখা করে গেছে' _ জবাব দেয় নূর। 'শালা, কিছু হয়নি তো'? ফারুক জিজ্ঞেস করে। সবাই হো হো করে হেসে উঠে।
এমনি সময় মুন ও মুনমুন পেছন থেকে সবাইকে ডাকাডাকি শুরু করেছে, সবাই চা খেতে আয়। তুরের কাহিনী আর এগুতে পারল না।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


