মনে পড়ে হাসনাইন ভাইয়ের কথা খুব!
তখনকার দিন গুলো ছিলো স্বপ্নের মতো, ব্ল্যাক স্পাইডার একাডেমির সেই দিনগুলো আজো ভুলতে পারি না।সারাদিন ক্লাস শেষ করে বিকালেই উপস্তিত হতাম আমার ডান্স গুরু হাসনাইন এর কাছে।ওনার একটা মডার্ন সাইকেল ছিলো, ওটার পিঠে দুজন চড়ে রওনা হতাম একাডেমি পানে...
পীরের বাগের পশ্চিম প্রান্তে ছিলো আমাদের বিলোভেড একাডেমি।ওখানেই আমরা হিন্দি-বাংলা গানের রিহার্সাল করতাম, পাড়ার অনেক ছোকড়া -ছোকরি আসতো আমাদের মহরা দেখতে। কিযে ভালো লাগতো তখন !!! সবাই আমাদের দেখছে আর হাততালি দিচ্ছে।আমি তখন ক্লাস সিক্স কী সেভেন এ! হালকা-পাতলা ছিলাম তখন। ব্রেক ড্যান্স, মডার্ন কোনটা আমরা করিনি?
এর ভেতর একটা মজার ঘটনা ঘটলো, নায়ক মান্নার রাজধানি ছিনেমায় নৃত্য পরিচালনার জন্য অফার আসলো হাসনাইন ভাইয়ের কাছে। আমরা খুব খুশি।মিরপুরের ড্যান্স একাডেমির ইতিহাস পথিকৃত ছিলেন পীরেরবাগের তৌফিক ভাই।উত্তরাতে ছিলেন আজিজ রেজা, কাজি পাড়ার রোমেল ভাই, সোহান ভাই।আমি নিজের চোখে তাদের একসাথে ডান্স করতে দেখেছি, যদিও তারা এখন আর একসাথে নেই।
হাসনাইন ভাইয়ের পছন্দ ছিলো তৎকালীন ইংলিশ গান গুলো, তো তিনি আমাদের নিয়ে করে কিছু গানের মুদ্রা করে ফেললেন! তার ভেতর ছিলো ভেঙ্গা বয়েজের গান, গ্রিনডে, ফ্লিটউড ম্যাকের কিছু গান।আমি স্টেইজ প্রোগ্রামে যে নাচ টি করি তা ছিলো এল.আর.বি এর এক আকাঁশে তারা তুই....
হাসনাইন ভাই রোগা-পটকা ছিলেন, ভাবিও তার মতো ছিলেন। ভাইয়ের বাসাতে মাঝে মাঝে গেমের আসর বসতো,আমি - ভাই অনেকক্ষন খেলতাম । ভাবির হাতে ভাজা পরোটা হাজির হোতো, গোগ্রাসে গিলতাম!!
এখানে একটা মজার ব্যপার ছিলো আমার ছোট খালার সাথে একসময় হাসনাইন ভাই স্কুলে পড়তো।আমাদের পরিবারে আগে থেকেই তার যাতায়াত ছিলো।সন্ধায় চটপটির দোকান গুলোতে হানা দেয়া ছিলো আমাদের কাজ ! চটপটি হালিম খেয়ে যেতাম ডুয়াল ফাইট খেলতে।
এভাবেই চলছিলো, একদিন হাসনাইন ভাই বললো, খোকইন্যা আমাগো একটা প্রোগ্রাম দেওন দরকার, কি কছ্?
আমি আর কি কমু? কইলাম, বড় কইরা দেয়ন লাগবো! তার হাসনাইন সত্য সত্যই একটা বিশাল প্রোগ্রামের ব্যব্স্থা কৈরা ফালাইলেন। তাও আবার গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমন্চে!!!
১০ হাজার টাকার পোষ্টার ছাপানো হৈলো ১.৫ লাখ টাকার টিকেট বিক্রি হৈইছিলো...
পরের পর্বে......
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মার্চ, ২০১৪ সকাল ৮:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


