somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এবারে 'বাংলা' শব্দটির উৎস উদ্ধারে

২৬ শে অক্টোবর, ২০১০ সকাল ১০:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিশিষ নুটিস:
বিরাট গিয়ানি পোস্ট -- খুব খেয়ালের সাথে পড়িবেন -- পড়িয়া চেয়ার থেকে পড়িয়া গেলে অথবা গিয়ান বিরিদ্ধি না ঘটিলে লিখোক কে ধাওয়া দিবেন না।
---------------------------------------------
দিনরাত বাংলা ভাষা ভাশা করি তো সেদিন চিন্তা করছিলাম "বাংলা" বা "বঙ্গ" শব্দের উৎস কি। তো সেদিন স্বপ্নে দেখছিলাম আজ থেকে হাজার/বারোশো বছর আগে পাল সম্রাটদের আমলে একবার নাকি এই নিয়ে খুব তুমুল বাক্য চালাচালি হচ্ছে। তখোনো এই কাদার ঢ্যালা সমগ্র অন্চলের নাম ছিলো "বাঙ্গলা"।

একদল পন্ডিত বললেন যে "বঙ্গ" শব্দখানা এসেছে
তারো হাজার দুইবছর আগেকার "মহাজনপদ" আমলের একটা জনপদ(শহর) ছিলো "বঙ্গ"। সেই শহরে পাওয়া যেতে "বঙ" বা "ছিলিম"। তাই ঐ শহরের নাম হয়েছিলো "বঙ্গ"।

আরেকদল বললেন যে আসলে "ভঙ্গ" শব্দ থেকে "বঙ্গ" এসেছে। কিন্তু শুরুতে "ভঙ্গ" হলো কেমনে? কারন এ এলাকা হলো নদি ভাঙ্গনের দেশ। খালি মাটি ভেঙ্গে যায় আর চর গজায়। তাই এটা হলো "ভঙ্গ" দেশ।

কিছু গুনি এবার একটু একমত হলেন। বললেন "ভঙ্গ" থেকেই "বঙ্গ" এসেছে। তবে ভঙ্গ নামের কারন আরো গভির। এইটা খালি প্রাক্রিতিক কারনের জন্য না এটা হলো এই এলাকার লোকজনদের চরিত্রের প্রকাশ। ঐ অন্চলের লোকজন কখোনোই একসাথে থাকতে পারে না। খালি দলাদলি করে। ভাইয়ে ভাইয়ে দলাদলি, শ্বাশুড়ি বউয়ে দলাদলি, রাজা মন্ত্রির দলাদলি। এরকম আরো কত কায়দার দলাদলি যে আছে সেটা এই অন্চলের লোকদের না দেখলেই নয়। তো তারা এরকম দলাদলি করবে আর শেষে যেয়ে সব ভাঙ্গচুর করবে। তাই ঐ এলাকার নাম "ভঙ্গ"। এমনকি এই এখানেও এই আলোচনার টেবিলে আজকে চলছে পন্ডিতে পন্ডিতে দলাদলি!

এই কথা বলার সাথে সাথে দেখা গেলো বাকি পন্ডিতরা খুব খেপে গেলেন। "কি বলতে চান আপনি??", "আমরা দলাদলি করি?", "মিয়া দলাদলি কি জিনিষ বুঝেন সেইটা?", "আপনে নিজে করেন দলাদলি আর দোষ দেন আমাগো" এরকম কথা বার্তা চালাচালি হতে লাগলো।

এবার এলেন কিছু গিয়ানি লোক। তারা আবার প্রিথিবির নানান ভাষায় সিদ্ধ, নানান খাবারে পোক্ত, নানান দেশের চলনে রপ্ত। তো তারা বললেন বন্ধুরা আপনারা শান্ত হউন। শান্ত মাথায় চিন্তা করুন। মাথা শান্ত করার জন্য কদিন ভাত খাওয়া বণ্ধ রাখেন। পেপে আর মাছ খান। কাচা কলার তরকারিও চলবে। কচুভর্তা হলে তো আরো ভালো। খালি ভাত খাবেন না। তারপর আসেন আলোচনার টেবিলে।
তো এই কথা শুনে রাজা বললেন আচ্ছা ঠিকাছে তবে তাই হউক। যান পন্ডিত বাবারা আপনারা এখন যান। একসপ্তাহ পরে আবার আসবেন। আর একদিন ভাত খাবেন না। তো পন্ডিতরা প্রস্হান করলেন।

এক সপ্তাহ পর।

পন্ডিতদের মুখচোখ খুব শুকনো। ভাত না খেয়ে একেকজনের চোখ বসে গেছে। চেচামেচি করার শক্তি নেই কারোর। মহাশয়েরা সবাই তখন শান্ত। তখন গিয়ানি লোকজন বললেন আপনারা সবাই ভুল করছে। "বাঙ্গলা" শব্দের অর্থ বের করতে যেয়ে আপনারা "বঙ্গ/ভঙ্গ/বঙ" নিয়ে এসেছেন। কিন্তু একবারো চিন্তা করলেন না যে "লা" শব্দটা শেষে এসে লাগলো কেনো। আসলে "বাঙ্গলা" শব্দটি "বঙ্গ/ভঙ্গ/বঙ" শব্দ থেকে আসে নি। এটার মানে হলো: "বাঙময়্" + "গলা" বা "বাঙময় গলা"। মানে হলো এই এলাকার লোকদের গলা থেকে নানান ধরনের ধ্বনি বের হয়। এই অন্চল হলো ধ্বনি বহুল অন্চল।
আমরা বিশ্বের অনেক দেশ ঘুরে দেখলাম কোনো অন্চলের লোক যদি "র" উচ্চারন করতে পারে তাহলে তারা "ড়" উচ্চারন করতে পারে না। যদি "ড়" পারে তো "র" পারে না। চন্দ্রবিন্দুর নসিকাটান পারলে তো "জ" আর "ঝ" এর তফাত পারে না। একদেশে "ক্ষ" উচ্চারন করতে পারলে তাকে সে দেশের সেরা বীর উপাধি দেওয়া হয়। এরোকোম আরো কতো কি। এই ভাষা শিখলে বিশ্বের বাকি সব ভাষায় কথা বলা একদম সহজ। তাই এই এলাকার নাম হয়েছে "বাঙ্গলা"।

এটা শুনে বাকি পন্ডিতরা কিছুই বললেন না।সপ্তাহ খানিক ভাত না খেয়ে তাদের "বাঙময় গলা" দিয়ে চি চি রব ছাড়া আর কিছুই বের হচ্ছিলোনা। তাই তারা যে যার মতো বাড়ি চলে গেলেন। বাড়ি যেয়ে মহা সুখে ভাত খেয়ে ঘুম দিলেন।

তো হে পন্ডিতেরা আপনারা কি বলেন?


সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০১০ সকাল ১০:২৫
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×