(অণুগল্প)
কদিন ধরে নীচে এসে জুটেছে। ঘাড় উঁচু করে উপর দিকে তাকিয়ে থাকে। দেবো না দেবো না করেও একটা দুটো বিস্কুট ফেলে দিলাম। তারপর থেকে আর বেটা নড়ে না। কত তাকাতে পারে? ঘাড় ব্যথা করে না? একটা নামও দিয়ে দিলাম। ভুলু।
হাঁ করে তাকিয়ে থাকার মধ্যে কতকালের চেনা আর্তি। কোথায় কার ভ্যাটে, কার সঙ্গে মারামারি করে খাবে তার চেয়ে হাঁ করে তাকানোই শ্রেয় মনে করেছে।
বারান্দার টবে লাগানো গাছগুলোকে সেই কথা বলতেই ওরা পাতা ঝামটা দিল - যাও, আমাদের ফুলের কাছে ও কিছু নাকি? রাস্তার নেড়ি কুত্তা কোথাকার।
কথা বাড়াই না। বউ এক্ষুণি মুখ ঝামটা দেবে - কাকে যে কখন ভালোবেসে ফেল কে জানে? আমরা শুধু কাঙাল হয়ে রয়ে গেলাম।
এর আবার ভালোবাসাবাসির কি আছে? কুকুর বিড়াল গৃহপালিত। এ রকম একটু আধটু দিতে হয়। গাছে জল দিতে হয়। সংসারের বাসন কোসনে ঠোক্কর লাগা নিয়ম মাফিক। তাই না?
কথা কটা শুনেই মেঘ দু চার ফোঁটা ঢেলে দিল - কি হে? খর রোদে আমিও তো শান্তি দিলাম। তাহলে?
তাহলে আবার কি? অফিস যাচ্ছি। যাওয়ার বেলায় ঘরের আবর্জনা ভ্যাটে ফেলে যাব। ভুলু টানাটানি করবে। তারপর ড্রেনের ধারে সিদ্ধি গোপাল বসে থাকে। তার দিকে তাকিয়ে কলম শিখে আকাশে বিল পেশ করব।
হা হা করে হাসল জগাই। অফিসে ভালই দারোয়ানগিরি করে। বলল - মাটি ফুঁড়ে আর মাটিতে মিশে সব কিছু। আর মাটির গল্প নাই। এই তুমি রসিক?
আমি জগাইয়ের দিকে তাকিয়ে থাকলাম। ভুলুর মত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




