(অণুগল্প)
ফোনটা রেখে থম মেরে যায় অবিনাশ। রান্নার মাঝে চা দিতে এসে গিন্নী বুঝল কিছু একটা হয়েছে। জল এনে দিল – নাও, জল খাও।
যন্ত্রের মত দু টোক জল খেয়ে বোতলটা এগিয়ে দেয় অবিনাশ। গিন্নী ফোনের কল লিস্ট দেখে বুঝল, আননোন।
- কে? সেই বাঘা কনট্রাক্টর। টেণ্ডার পাশ করে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে?
অবিনাশ মাথা নাড়ল - হ্যাঁ।
- তাহলে, এবার?
- তাই তো ভাবছি।
পরদিন সেই ভাবনা হায়ার অথরিটিকে জানাল অবিনাশ।
তিনি হো হো হাসলেন। বললেন - এতে ভাবার কি আছে? তাছাড়া আপনি এত মগজমারিতে যাচ্ছেন কেন? সই করুন আর ছাড়ুন।
- কিন্তু
একটু আমতা আমতা করতেই তিনি আবার বললেন - দেখুন, এই কিন্তু যদি তবে হয়তো, এসব ছেড়ে দিন। তাছাড়া ওটা যে অনৈতিক অন্যায্য প্রমাণ করতে পারবেন? ভুলে যাবেন না আপনিও কিন্তু সিস্টেমের বাইরে নন।
অবিনাশ সিস্টেমের লেজারবুক, ক্যাশবুক, ব্যালান্সসিট সব স্পষ্ট দেখতে পেল। তাই বলল – এখন তাহলে আসি স্যার।
মন মরা হয়ে ঘরে ঢুকতেই গিন্নী আবার চেপে ধরে - তোমার ওই এক দোষ। মনের মধ্যে একটা না একটা দ্বন্দ্ব পাকাও। এতদিন তো দেখলে, কে আর জবাবদিহি চাইছে? পুরো নজরদারি রাঘববোয়াল হয়ে বসে আছে। হাঁ-য়ে কিছু না পড়লেই বরং উথাল পাথাল ঢেউ। তার চেয়ে মুখে ভরে দিলে সব চুপচাপ।
- কিন্তু বিবেক?
- নাও। তাহলে শুরু করো। আমি সঙ্গে আছি।
গিন্নী ফোনটা এগিয়ে দিল।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই আগস্ট, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



