শরতের রঙে রঙিন
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
গ্রীষ্মের কাঠফাটা রোদ, বর্ষায় অঝোর ধারার শ্রাবণ ঢলের পর শরৎ এসেছে আলোছায়ার খেলা খেলতে - এই মেঘ, এই বৃষ্টি, আবার এই রোদ। আবার দেখা যায় মাঠের এক পাশে বৃষ্টি অন্যপাশ বৃষ্টিহীন। কখনো কখনো কাঠফাটা রোদের মধ্যেও বৃষ্টি ঝরায় শরতের ধবলমেঘ। ওই সময় শিয়েলের বিয়ে হয় বলেও প্রবাদ আছে। সাদা মেঘের ভেলা কিংবা কাশের গুচ্ছ আর শিউলির সুগন্ধ নিয়ে প্রকৃতিতে আবির্ভাব হয় শরতের। শরতের জ্যোৎস্নারাতও বড় অদ্ভুত। যতদূর দৃষ্টি যায় ততদূরই যেন নৈশ-নীলাকাশে রজতশুভ্র জোছনার উদাস করা হাতছানি। রবী ঠাকুরের ভাষায়- শরতের রংটি প্রাণের রং। অর্থাৎ তাহা কাঁচা, বড়ো নরম। রৌদ্রটি কাঁচা সোনা, সবুজটি কচি, নীলটি তাজা। এইজন্য শরতে নাড়া দেয় আমাদের প্রাণকে, যেমন বর্ষায় নাড়া দেয় আমাদের ভিতর-মহলের হৃদয়কে, যেমন বসন্তে নাড়া দেয় আমাদের বাহির মহলের যৌবনকে।
শরতের মেঘ সুন্দর, শরতের মেঘ শুভ্র। শরতের আগমনে একটু হলেও বদলে যায় আমাদের জীবনযাত্রা। একদিকে বিস্তীর্ন নীলাকাশ, অন্যদিকে সবুজ ফসলের উপর বাতাসের দূরন্তপনা - সেখানে স্নিগ্ধ নীলিমার নীল আর সাদা সাদা মেঘের উড়াউড়ির আনন্দ। আহা কি চমৎকার আমাদের এই ঋতুর খেলা- দেখতে বড় ভাল লাগে। শরৎ নিয়ে রবীন্দ্রনাথ স্মৃতিচারন করেছেন ‘এই শরতের প্রভাতের রৌদ্রে জানলার বাহির দিয়া গাছপালার দিকে চাহিয়া দেখিলেই আমার মনে পড়ে ছেলেবেলাকার চারি দিকের প্রকৃতির শোভা। কী একান্ত ভালো লাগিত!
শরতের আছে নিজস্ব বর্ণ, আছে গন্ধ। মূলত শরতের ৪টি রঙ- সাদা, নীল, সবুজ আর সোনালি। নীল আকাশ, সাদা কাশফুল, সোনালি সূর্য আর সবুজ ফসল এই চার রঙের অলঙ্করণ দেখা যায় শরতে। তাই শরৎ ঋতুতে পোশাকের রঙ এবং ডিজাইনে থাকে ভিন্নতা। আর এই ভিন্নতা ও বৈচিত্রের প্রয়াস নিয়ে ফ্যাশন ডিজাইনাররা সাজিয়েছে তাদের পোশাকের সমোরহ। শরতের রঙ নিয়ে কয়েকজন ডিজাইনার কথা বলেছেন
জাভেদ কামাল, চরকা
শরতের রঙ নিয়ে চরকা ফ্যাশন হাউসের কর্ণধার জাভেদ কামাল বলেন,শরৎ মানেই যেন শুভ্রতার ছোঁয়া। নানা রঙের ছড়াছড়ি। শরতের আবহাওয়াতেও যেন চলে লুকোচুরি খেলা। এই গরম, মুহুর্তেই শুরু হলো ঝমঝম বৃষ্টি। পাশাপাশি পূজা উৎসব তো রয়েছেই। সুতরাং সবকিছুকে মাথায় রেখে এবার পোশাকে নীল এবং সবুজ রঙের কম্বিনেশন করা হয়েছে। পাশাপাশি লাল কমরাতো থাকবেই । শরতের রং হিসেবে এবার কালোকেও প্রাদান্য দেয়া হচ্ছে। অর্থাৎ কালো এবং সবুজেরও কম্বিনেশন করা হয়েছে। শরতের রঙ এখন আর শুধু পোশাকেই সীমাবদ্ধ নেই। বর্তমানে আমাদের লাইফস্টাইলেও যুক্ত হয়েছে। ঘরের পর্দা, বিছানার চাদর, বালিশের কভার, কুশন কভারসহ সব কিছুতেই যেন নীল- সাদার ছোঁয়া থাকা চাই। আমরাও সেই চাহিদাকে মাথায় রেখে এসব গৃহসামগ্রীতে নীল-সাদার কম্বিনেশন করা হয়েছে।
শাহনাজ খান,কে-ক্র্যাফট
শরতের আকাশ সেজেছে হালকা মেজাজের সাদা মেঘের পোশাকে । শীর্ণ নদীর পাশে কাশবন একরাশ সাদা চুলের সাথে বাতাসের মিতালীতে মেতেছে। প্রকৃতির হালকা মেজাজের সহগামী হয়ে মানুষের মনেও হালকা আমেজের পরশ। এ আমেজকে ধরে রাখতে আমার মনে হয় হালকা নীল রং অনেক বেশি কার্যকর। আমরা তাই এবারের শরতের আয়োজন করেছি হালকা মেজাজের সাদা, নীল, ভায়োলেট,সবুজ ইত্যাদি রং। এ আয়োজনে থাকছে শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, ফতুয়া, টপস্, স্কার্ট, পাঞ্জাবী, শর্ট পাঞ্জাবী, টি-শার্ট এবং অলংকার। প্রধানত সুতি ও এন্ডি কাপড়ে তৈরী পোশাকগুলোতে ব্লকপ্রিন্ট, স্ক্রিনপ্রিন্ট, হাতের কাজ ও এমব্রয়ডারী করা হয়েছে। আরো একটি বিষয় বর্তমানে নজর কেড়েছে। তা হচ্ছে,পোশাকের পাশাপাশি ফ্যাশন সচেতন মানুষ এখন তার লাইফস্টাইলের প্রতিও বেশ যতœবান। পোশাকের পাশাপাশি এখন দেয়ালের সাথে মিলিয়ে দরজা-জানালার পর্দা, বেড কভার, সোফার কভারের রঙ নির্ধারণ করেন। এমনকি আজকাল সোপিচ নির্ধারনেও রঙটাকে প্রাদান্য দেয়া হয়। এজন্যই আমরা যতটা সম্ভব চেষ্টা করেছি এসব গৃহসামগ্রীর প্রতি সচেতন হতে।
কামরুল হাসান,এড্রয়েট
এখন শরৎকাল। শরতের হাওয়ায় প্রকৃতি সেজেছে অপরূপা সাজে। নীল আকাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে শিমুল তুলোর মতো সাদা মেঘের ভেলা। দুরন্ত কিশোরীর মতো বয়ে চলে আবেগী হাওয়া। তারই আলতো ছোঁয়ায় হেসে ওঠে নদী-নালা, খাল-বিল, যেন শিল্পীর তুলির আঁচড়ে আঁকা জীবন্ত এক ক্যানভাস। সেই ক্যানভাস শুধু প্রকৃতির মাঝেই সীমাবদ্ধ নেই, সেই হাওয়া পড়েছে এড্রয়েট কালেকশনেও। শরৎ উপলক্ষে আমরা বেশকিছু নতুন ডিজাইনের পোশাক নিয়ে এসেছি। রঙের ক্ষেত্রে আমার মনে হয় শরৎ মানেই হালকা কিছু। আর তাই একেবারেই হালকা বøু এবং ভায়োলেট কালারকে ব্যবহার করে।ি কারণ আমার মতে, মনের সাথে পোশাকের রঙের একটা মিল রয়েছে। এ আবহাওয়ায় মানুষ একটু হালকা রঙ বেশি পছন্দ করে। আমরা তাই এসব রঙের ব্যবহার করে শাড়ি, ফতুয়া, শার্ট, পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া, টি-শার্ট প্রভৃতিতে বিভিন্ন চিত্র ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। কখনও ব্লকে, কখনও অ্যাপলিকে, কখনও এমব্রয়ডারিতে, আবার কখনও দুই-তিন মাধ্যমকে একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে। নীল এবং বেগুনির পাশাপাশি প্রাধান্য দেয়া হয়েছে সাদা, সবুজ, টিয়া, কমলা, হালকা কালো প্রভৃতি।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দায়ী কে?

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও সরকারি স্থাপনাগুলোতে আকস্মিক বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়।প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীসহ বেশ কয়েকজন... ...বাকিটুকু পড়ুন
আ-তে আনন্দবাজার, আ-তে আওয়ামী লীগ

ইন্টারনেটে খবর পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা শিরোনাম সামনে এলো। পড়েই কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বুঝি বিশাল কোনো ঘটনা ঘটে গেছে। শিরোনাম, “আধ পয়সা বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন
২০১৮ সালের পর ঢাকাতেই ৪টা এক্সপ্রেসওয়ে

একটা দেশের উন্নয়ন কতটা এগিয়েছে, সেটা বোঝার অনেকগুলো উপায় আছে। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সেই দেশের রাস্তা, সেতু আর যোগাযোগব্যবস্থা। কারণ এগুলোর পরিবর্তন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন
আজকের ডায়েরী- ১৯৭

শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।