somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফেসবুক প্রেম এবং অতঃপর

০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফেসবুক প্রেম এবং অতঃপর

(গল্প ও চরিত্র সম্পূর্ন কাল্পনিক, বাস্তবে কারো সাথে মিল থাকলে লেখক দায়ী নয়)

মিশুর আজকাল "মন ভালো না" দিবস চলছে। পকেটের অবস্থা একদম ফাকা, টিউশনিটা ও নাই। বাবার কাছে যে টাকা চাইবো তারও কোন উপায় নাই। একদম বিরক্তকর অবস্থায় আলমগীরের দোকানে বসে চা গিলছি। জানি একটু পর আলমগীর খাতাটা এগিয়ে বলবে, মিশু ভাই গতমাসের বাকী বিল সাতশো বিশ আর এই মাসে এক দেড়শো টাকা। ব্যাটা আলমগীর একটা ফাজিল! প্রতিদিন ফেরার পথে খাতা নিয়া টানাটানি। আরে ব্যাটা তুমি যে দুই নাম্বার চাপাতা দিয়া চা বানাও, এইটা নিয়া কোনদিন কি খাতায় লেখা হইছে! নাহ বৃষ্টি আর থামবে না। যা আছে কূল কপাল ভিজেই মেসে ফিরতে হবে। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মাঝে হাটতে খারাপ লাগছে না। হাতে একটা সিগারেট হলেও মন্দ হতো না।

মেসে ঢুকতে গিয়েই মনে হলো মামুন ভাই আসছে। যা ধারনা করলাম তাই ঠিক, মামুন ভাই কম্পিউটারে বসে ফেসবুক চ্যাট করছে। মানুষ যে ফেইসবুকে সারাদিন কি করে তাই বুঝতে পারলাম না। তবে কয়দিন যাবৎ বুঝার চেষ্টা চালাচ্ছি। অনেক পুরানো বন্ধুদের সাথে মাঝে মধ্যে কথা হয় ফেসবুকে। একদম খারাপ না সময় কাটানোর জন্য। আর বিভিন্ন পেইজে সুন্দরী মেয়েদের লেখা দেখলে রিপ্লাই দিতে ভালোই লাগে। সেই সুবাদে দুই একজন সাথে আমার ভালোই বন্ধুত্ব হইছে। অবশ্য মামুন ভাইয়ের কেইস আলাদা। অফিস থেকে ফেরার পর ফেসবুক তার রিফ্রেশমেন্টের ঔষধ হিসাবে কাজ কর। মেসে ইন্টারনেট সংযোগ আসার পর থেকেই মামুন ভাই এই রোগে বেশী আক্রান্ত হইছে। কাল আমার ক্লাশ টেষ্ট তাও আবার ষ্ট্যাট সাবজেক্ট। কোন পাবলিক যে এই সাবজেক্ট বানাইছে তারে পাইলে বোতা ছুড়ি দিয়া কুচিকুচি করতাম! রাত ১২ টা বেজে গেলো আর পড়তে ভালো লাগছে না। মামুন ভাই ঘুমাইছে কিনা দেখে আসি। হুম... একদম কাইত, সারাদিন অফিস করে আর কতো তেল থাকে শরিলে।

বাপরে! ফেসবুকে আজ অনেক কমেন্ট পরছে। ফ্রেইন্ড রিকুয়েষ্ট “দুষ্টু মেয়ে” আইডি থেকে। একটু ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলাম কে এই “দুষ্টু মেয়ে”! মনে পড়ছে না, মিচুয়্যাল ফ্রেইন্ড লিষ্টেও কেউ নাই। এড করবো নাকি ভাবতাছি। নাহ! একটা ম্যাসেজ দিই প্রথমে। - “আচ্ছা আপনাকে কি আমি চিনি? আপনার ছবিটা অনেক সুন্দর! তবে আপনাকে চিনতে আমার কিঞ্চিৎ সময় লাগতাছে। আমার এই সমস্যা আপনি সমাধান করবেন প্লিজ!!” ... মনে হয় বেশী পার্ট নিয়া ফেললাম। অবশ্য আজকাল পার্ট না নিলে সবাই ক্ষেত মনে করে। ওমা! সাথে সাথেই রিপ্লাই আসলো - “আপনাকে আমি চিনি না, তবে একটা পেইজে আপনার লেখা পড়ে খুব মজা পেলাম। তাই কিছু না বুঝেই ফ্রেইন্ড রিকুয়েষ্ট দিলাম। এন্ড আই এম সরি ফর দ্যাট”... লে বাবা পার্ট মারতে যাইয়া ফাপরে পরলাম, নাহ এক্ষনি এড না করলে ভূল হইয়া যাবে। দুষ্টু মেয়েকে চ্যাট লিষ্টে দেখা যাইতেছে।

- হায়! দুষ্টু মেয়ে আসলে আমি দুঃখিত আমার ম্যাসেজে মনে হয় রাগ করছেন
- ও! হায়! নো ইটজ ওকে...
- ধন্যবাদ। রাত জেগে ফেসবুকে বসে আছেন কেনো?
- এমনি... ঘুম আসছে না...
- কেনো মন খারাপ?
- আররে না...
- “দুষ্টু মেয়ে” আপনি কি অনেক দুষ্টামি করেন নাকি?
- আপনার কি মনে হয়...
- আপনার ছবি দেখে অতোটা দুষ্টু মনে হচ্ছে না।
- তাহলে কি মনে হচ্ছে...
- আপনি অনেক সুন্দর।
- আপনার চোখে সমস্যা আছে...
- আচ্ছা আপনার নামটা জানতে পারি?
- কেনো “দুষ্টু” নামটা ভালো লাগছে না...
- না তা ঠিক না! আপনার আসল নাম জানার ইচ্ছা জাগলো তাই!!

লে বাবা ঠেলা সামলা! অফ লাইন হইয়া গেলো। নাহ রাত অনেক হইছে ঘুমাই। কাল পরিক্ষার হলে আমার জন্য কি সাইজের আন্ডা অপেক্ষা করতাছে তা ভালোই আন্দাজ করতাছি। দুষ্টু মেয়ের রাগ দেখে আমার ঘুম আসতাছে না।

পরিক্ষা একদম খারাপ হইলো না, আন্ডা পাবো না মন বলতাছে। আজ সন্ধ্যা বেলা আর আলমগীরের দোকানে যেতে ইচ্ছে হইতেছে না। ফেসবুকে ঢুকে দেখি বন্ধুরা কেউ আছে নাকি! ওমা! দুষ্টু মেয়ে ম্যাসেজ দিছে - “আই এম রিয়েলি সরি, মা এসেছিলো তাই সাইন আউট হয়ে গিয়েছেলাম”... হুম! মনটা ভালো হয়ে গেলো। একটা ম্যাসেজ রিপ্লাই দিলে খারাপ হয় না। ধূর!! মামুন ভাই আজ তারাতারি আসছে, মেজাজ কার খারাপ না হয়। এখনি বলবে বাবা মিশু আমার ফেসবুকটা অন করো দেখি। নে ব্যাটা তুই তোর প্রতিদিনের ডোজ গিল!! আবার কি হইলো মামুন ভাই আমারে ডাকে কেন?

- ডাকছেন ভাই!
- মিশু দুপুরে তোমার ফোন বন্ধ ছিলো?
- জ্বি ভাই! এক্সাম হল থেকে বের হয়ে অন করতে ভূলে গিয়েছিলাম।
- তোমার বাবা আমাকে ফোন করেছিলো তোমাকে না পেয়ে
- কেনো মামুন ভাই কোন সমস্যা হইছে?
- না ঠিক তা না। তুমি নাকি টাকা চাইছো আঙ্কেলের কাছে।
- জ্বি ভাই! সামনে মিডটার্ম কিছু টাকা জমা দিতে হবে।
- ও আচ্ছা তোমার যখন লাগবে তার কয়দিন আগে আমাকে জানাইয়ো। আঙ্কেল বলছে আমার কাছ থেকে আপাতত দিতে।
- ধন্যবাদ ভাই। আমি আপনাকে জানাবো।
- আচ্ছা ঠিক আছে আঙ্কেলের সাথে কথা বলে তারে জানাইয়ে দিও।

ওম শান্তি... মামুন ভাই আজ ১০টা না বাজতেই ঘুমায় গেছে। ফেসবুকে ঢুকতেই পেয়ে গেলাম দূষ্টু মেয়েকে।
- হায়! দুষ্টু মেয়ে
- ও! হায়... কেমন আছেন...
- ভালো আপনার খবর কি?
- এইতো...
- আচ্ছা আপনার নাম কিন্তু জানা হলো না।
- ওহ! আমার নাম নওশিন...
- খুবই সুন্দর আপনার নাম।
- ও! থ্যাঙ্ক ইউ...
... [রাত ২ টায় – মোবাইলে]
- হা! হা! তোমার সাথে আমার অনেক মিল
- ঠিক বলছো মিশু... আজ ঘুমাতে যাই কাল আবার কথা হবে।


আজ আমার ঘুম আসতাছেনা কেনো? মনের ভিতর কেমন টক ঝাল মিষ্টিতে ভরে গেছে। জীবনের প্রথম এমন হইলো। আসলেই মানুষের জীবনে এমন সময় হুট করেই আসে। আজ বুঝলাম সবাই ফেসবুকে সারাদিন বসে থাকে কেন। জয় বাবা ফেসবুক। আহা! আর কিছু দিন গেলে নওশিনের সাথে আমার কিছু একটা হইয়া যাবে। নওশিনের ছবি দেখলেই মনটা ভরে যায়। একি হইলো আমার। একি ভাবছি আমি। ওহে মিষ্টার মিশু একটু সবুর ধরো!! মিষ্টার মিশু তোমার কি আর সয় না? ধুর!! মনে মনে এসব কি ভাবতাছি।

[৭ দিন পর...]
ঘুম ভাঙ্গলো মোবাইলে আজ্যাইরা ম্যাসেজের শব্দে, এই শ্রুতিমধুর রিং-টোনটা এখন কাকের ডাক থেকেও বিরক্তকর। ওহ! নওশিনকে ফোন দিতে হবে, ঘুম থেকে উঠে নওশিনের গলা না শুনলে দিন ভালো যায় না। অল্প কিছু দিনের ভিতরে আমরা একে অপরের অনেক কাছে এসে পরেছি। এখন সারারাত আর সারাদিন নওশিনের সাথে কথা না বললে মাথা ঠিক থাকেনা। উফ! এই সকালে নওশিনের ফোন ব্যস্ত বলছে।
- হ্যালো জান...
- এই তোমার ফোন বিশ মিনিট ব্যস্ত পেলাম!
- ওহো... ডিয়ার... মামা ফোন করেছিলো...
- ও আচ্ছা!
- জানু নাস্তা করেছো...?
- নাহ! ঘুম থেকে উঠেই তোমাকে ফোন করতেছিলাম!!
- আহা! গুডুগুডু বাবু...
- হুম!!
- এই শোন তোমার জন্য আজ সারপ্রাইজ আছে...
- সারপ্রাইজ!! বলো কি?
- হুম... আজ আমাদের ভার্সিটিতে ক্লাস নেই...
- তার মানে?
- আজ তোমার সাথে দেখা করবো...


মনটা অনেক খুশি আবার মেজাজটা অনেক গরম। আজ প্রথম নওশিন এর সাথে ডেটিং-এ যাবো কিন্তু পকেটের অবস্থা একদম কাহিল। সব মিলিয়ে দুইশত পঞ্চাশ টাকা আছে, এইতো যাতায়াত ভাড়ায় চলে যাবে। দেখি রিফাত চাচাকে বুঝিয়ে কিছু ব্যবস্থা করা যায় কিনা। আমার দূর্দিনে রিফাত চাচা শেষ ভরসা ক্লিনিক। হুম... কাজ হয়ে গেলো, রিফাত চাচার কাছ থেকে পাচশো টাকা পেলাম।

- হ্যালো... হ্যালো (ধুর লাইন টা কেটে গেলো )
- হ্যালো... তুমি কোথায় এসেছো...
- তোমার ভার্সিটির নিচে আছি।
- এক কাজ করো তুমি বসুন্ধরা সিটি চলে আসো... প্লিজ রাগ করো না...
- হুম... ঠিক আছে আমার ৩০ মিনিট লাগবে।

মেজাজটা একদম গরম হয়ে গেলো। তবু কি করা এখন মহাখালী বাস স্ট্যান্ড থেকে বাসে আবার বাসে ঝুলতে হবে। ধুর! শালা কি মাঞ্জা মাইরা আসছিলাম! আর এখন বাসে আমার শরিল দিয়া কাচা পিয়াজের গন্ধ বের হবার উপক্রম। নওশিনের কাছে যেতে ভয় হচ্ছে। জীবনে কখনো ডেটিং এ যাই নাই। বসুন্ধরার লিফটের মানুষজন আমার ঘামানো দেখে একটু ইতস্তঃ বোধ করছে। তবে আমার তাতে কিছু করার নাই! টেনশনে আমার টেনিস বল দুই কান্ধে উঠে যাচ্ছে।

ওইতো নওশিন! আমার দিকেই আসছে। আহ! শান্তি! নওশিন একটু মুচকি হেসে আমার হাত ধরে বললো “ভয় পাচ্ছো কেনো”। হুম... আমাদের ডেটিং টানা দুই ঘন্টা চললো। তবে শেষ মূহুর্তে এসে আমার টেনশন আবার প্রকোপ ভাবে বাড়তে লাগলো। কারন এবার বিল দেবার পালা। পকেটে মাত্র ছয়শত টাকা, বিল বাড়তি হলে কি লজ্জায় যে পরবো। যাই হোক হাসি বন্ধ করা যাবে না। তাহলে নওশিন বুঝে যাবে আমি আবার টেনশন করতাছি... নওশিন মেয়েটাকে প্রথম দেখাতে আমি স্বপ্ন জগৎ এ চলে গিয়েছিলাম। আসলেই আমি অনেক ভাগ্যবান মনে হয়। এতো সুন্দর, সরল ও হাসি খুশি একটা মেয়ের সাথে আমার সাথে ইয়ে হয়ে যাবে এইটা হাই-ক্লাস স্বপ্নেও ভাবি নাই। আবার মনে একটা সংকোচ কাজ করতাছে নওশিন আমাকে কতোটা পছন্দ করলো।

- ওহ!! না নওশিন আমাকে বিল দিতে দাও!!
- একদম খারাপ হয়ে যাবে বলছি মিশু...
- আচ্ছা! রাগ করো কেন?
- না... তোমাকে আমি আসতে বলছি... সো ইটস মাই টাইম টু পে!!
- ওহ! বাবা ঠিক আছে


পার্টটা খারাপ নিলাম না । মানির মান আল্লাহ বাচায়! তবে নওশিন অনেক কেয়ারিং। নওশিনকে নেক্সট দিন কিছু একটা গিফট করতে লাগবে। রিক্সায় করে নওশিনের সাথে ফিরছি। আহ! কি ফুরফুরে আনন্দ। চিন্তা করি রাস্তা যদি আরো দূর হইতো, নওশিন ততোক্ষন আমার হাতটা ধরে রাখতো। শুনছি মিরপুর বেড়িবাধে অনেকে নৌকা নিয়া ঘুরতে যায়। একদিন নওশিনকে নিয়ে যাবো ওখানে। তাহলে আরো একটু কাছাকাছি হতে পারবো আমরা। উহ! এসব ভাবতেই আমার শরিরে নিরবে গরম রক্ত বয়ে যাচ্ছে।


[...এভাবেই চলিতে লাগলো দুই তিন সপ্তাহ! কখনো ফেসবুক চ্যাটে... কখনো ফোনে... কখনো আবার ম্যাসেজ চালাচালিতে]

ব্যাপার কি নওশিন ফেসবুক ষ্ট্যাটাসে এসব কি লিখছে। ওর নিশ্চই মন খারাপ। হঠাৎ কি হলো ওর!!

- হ্যালো!! নওশিন... কথা বলছোনা কেনো?
- ...
- নওশিন কি হইছে তোমার?
- ... ?...
- একি তুমি কান্না করছো কেনো? এই তোমার কি হইছে!! প্লিজ জান আমাকে বলো।
- তুমি শুনে কি করবে?
- আচ্ছা! আমাকে বললে তোমার একটু হলেও ভালো লাগতে পারে। প্লিজ চেপে রেখো না!!
- আমার এক বন্ধু আমার কাছে পয়ত্রিশ হাজার টাকা রাখতে দিয়েছিলো। টাকাটা আমি হারিয়ে ফেলছি। এখন আব্বু দেশের বাইরে... আমি ওকে কেমনে টাকা ফেরত দিবো। ...?...
- আরে তুমি এই সিম্পল ব্যাপার নিয়ে কান্না করছো কেনো জান!! প্লিজ ঠান্ডা হও।
- তুমি আমাকে একটা হেল্প করতে পারবে...
- বলো দেখি করতে পারি কিনা!
- না থাক...
- আরে না বলো!!
- তুমি আমাকে একমাসের জন্য বিশ হাজার টাকা ধার দিতে পারবে?
- উম... আচ্ছা জান তুমি টেনশন করো না। আমি কাল তোমাকে দিয়ে যাবো।
- থ্যাঙ্ক ইউ মিশু...

হুম... পার্টের সাথে বললাম তো বিশ হাজার টাকা ধার দিবো। এখন আমি বিশ হাজার টাকা কেমনে ম্যানেজ করবো? শালার নিজেরে বেচলেও কেউ বিশ হাজার টাকা দিয়া কিনবো না। তবে নওশিনকে এই হেল্পটা না করতে পারলে চিরজীবন ছোট হইয়া যাবো। কি করি... পাইছি!!! মামু!!! ইয়াহ!!! গ্রেট আইডিয়া... মামুন ভাইয়ের কাছ থেকে আমার সেমিষ্টার-ফি আপাতত নিয়া নিলেইতো হয়। সামনের মাসে নওশিন টাকাটা ফেরত দিলে, পাচশ টাকা জরিমানা সহকারে আমার ভার্সিটিতে জমা দিয়া দিবোনে। ইয়াহু!!!

...যাক দুই দিন পরে হলেও, নওশিনকে হেল্পটা করতে পাইরা আজ নিজেরে খুব উচুমানের প্রেমিক মনে হইতাছে। নওশিনের মুখে আজ হাসি দেখে আমার ভালোবাসার সকল আশা পূর্ন হইয়া গেছে। আহ! প্রেম!! একেই কয় সত্য প্রেম। হুম... এর মাঝে একদিন নওশিনকে বেরিবাধে নৌকায় ঘুড়ার প্ল্যানটা বলতে হয়। কিন্তু ও রাজি হবে কিনা আল্লাহ জানে!! প্রেম বলে কথা না বললে আমারি লস!!

রাত বারোটা বাজে! নওশিনকে ফোন দিয়ে জানা দরকার টাকাটা ওর বন্ধুকে ঠিক মতো ফেরত দিয়ে আসতে পারলো কিনা। একি!! নওশিনের ফোন বন্ধ!!! শালার নেটওয়ার্ক!! যাই ফেসবুকে দেখি আছে নাকি। একি!!! নওশিনের প্রোফাইলে আমি ঢুকতে পারছিনা কেনো???

[... এভাবেই চলে গেলো সপ্তাহখানেক!!]

মিশু সাহেবের অবস্থা এখন আধা পাগল বললে ভূল হবে। মিশুকে প্রায় পাগল বলা চলে। রাত দিন নওশিনকে খুজে বেড়ায়। কখনো ফেসবুকে... কখনো নওশিনের ভার্সিটির সামনে... আর সারাদিন মোবাইলের ব্যার্থ কলে... ম্যাসেজে...

হঠাৎ মিশু নওশিনের একটা ম্যাসেজ পেলো। ম্যাসেজটি ছিলো এরকম “মিশু, আমি জানি তুমি অনেক ভালো একটা ছেলে। তোমার সাথে আমি যা করেছি তার জন্য আমি দুঃখিত। আসলে তোমাকে একটা মিথ্যা বলেছি। আমার বিশ হাজার টাকা দরকার ছিলো অন্য কারনে। আমার বয় ফ্রেইন্ড আছে। আমার বয় ফ্রেইন্ড নতুন একটা বাইক কিনবে তাই আমার টাকা দরকার ছিলো। আই এম সরি ফর এভরিথিং!! তবে আমি টাকা ফেরত দিতে পারবো না। তুমি যা খুশি আমার সাথে করতে পারো আমি বাধা দিবো না। -বাই”

---- ধাক্কা বাই ফেসবুক প্রেম ---




লেখকঃ রাশেল জামান (দেশ ফোরাম ডট কম)
বিদ্রঃ লেখকের অনুমোতি সাপেক্ষে গল্পটি শেয়ার করলাম


৮টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×