আমার জীবনে প্রথম প্রেম যে কোনটা এইটা আমার মনে নাই। "প্রেমে পরতে হইবো"- এইটা বোঝার পর থেকে আমি প্রেমে পরেই যাইতেছি। কোন থামাথামি নাই। কিছুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয় গণ্ডি পার হইলাম। যদিও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্ববিদ্যালয় বলা যায় কিনা এই নিয়া জনগনের মনে সন্দেহের শেষ নাই।
আমি যে স্কুলে পড়তাম সে স্কুলে সকালে মেয়েদের ক্লাস হইত, আর দুপুরে আমাদের ক্লাস। পুরাই পেরেশান জীবন। একলগে ক্লাস দিলে প্রবলেমটা কি? যাইহোক, মেয়েরা যখন ক্লাস শেষ কইরা বের হইত, আমরা তাকাইয়া থাকতাম। যারে দেখি তারেই ভালো লাগে। দুই একজনের নামও জানতাম। আর মাঝে মাঝে কেউ একটু আড়চোখে তাকাইলেই বুকে চিনচিন ব্যাথা অনুভব করতাম। আহারে, কি দিন গুলাই না আছিলো।
ক্লাস টেনে কোচিং হবে। ছেলে মেয়ে একসাথে ক্লাস। আমারে আর পায়কে। যে আমি এক শার্ট গায়ে উঠাইলে ৭ দিনের আগে নামাই না, সেই আমি এক বেলার বেশি কোন শার্ট পরিনা। বোনের রূপচর্চার হাবিজাবি চুরি কইরা নিজেই মাখি।
এই সুখ কপালে আর সইলো না। একদিন স্যার ক্লাসে জিগাইলো, "বল জারন বিজারন কাকে বলে?" মনে মনে উত্তর ঠিক কইরা স্যাররে কইলাম, "এক পাত্রে জারন আর অন্য পাত্রে বিজারন রাখিয়া উভয়কে এক পাত্রে ডালিয়া উত্তপ্ত করলে যাহা হয় তাহাই জারন বিজারন।"
ঐদিন যে মাইর খাইছিলাম, সারাজীবনের সব মাইর এক করলেও ঐটার সমান হইবো না।
স্কুল জীবন শেষ হইলো। কলেজে আসলাম। ঢাকা সিটি কলেজ। প্রথম দিন দেখি দারোয়ান আর আমি ছাড়া সবই মেয়ে।অস্থির হইয়া গেলাম। কিন্তু শেষ খারাপ যার সব খারাপ তার। দুই বছরেও প্রেম হইলো না। পুরা দুই বছরে একটা মেয়ে একটু কথা কইছিলো- " ভাইয়া ওয়াশ রুমটা কোনদিকে?"
ভার্সিটি জীবনের কথা পরে আর একদিন কমুনে। মনটা ক্যান জানি খারাপ খারাপ লাগতেছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


