somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিজ্ঞানের খাতা- পর্ব ৩: মিষ্টি ভূল নাকি ভূল মিষ্টি- স্যাকারিন

০৯ ই এপ্রিল, ২০১৩ বিকাল ৫:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছ্যাকা শব্দটার সাথে সবসময় একটা বেদনা মেশানো থাকে। যে ছ্যাকা খায় তার জন্য একটা করুনা কাজ করে মনের ভেতর। বাংলা সাহিত্যে ছ্যাকামাইছিন বলে একটা শব্দ আছে। তবে ছাকারিন টা কি? যে ছ্যাকা দিয়ে বেড়ায় সেই তবে কি ছ্যাকারিন? আসলে ছ্যাকার সাথে সম্পর্ক না থাকলেও জিনিসটার নাম ছ্যাকারিন।



ডায়াবেটিক রোগীর জন্য বিষের চেয়ে ভয়ংকর জিনিস হলো মিষ্টি। আজকের দিনে ডায়াবেটিকস রোগীর হাতে মিষ্টির প্লেট দেখলে কেউই অবাক হবেন না। কারণ সবাই জানেন তাদের জন্য আছে ডায়াবেটিক চিনি। ডায়াবেটিক চিনি টা আসলে কি? চিনির বিকল্প কি? অবশ্যই স্যাকারিন। স্যাকারিন আবিষ্কারের গল্পটাও মজার। বিজ্ঞানীর অজান্তেই আবিষ্কার হয়ে গেল স্যাকারিন। কিন্তু কিভাবে?





১৮৭৯ সালের কথা। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরস রেমসেনের সাথে ল্যাবে কিছু রাসায়নিক পদার্থের সংশ্লেষণের উপর গবেষণা করছেন কনস্টাইন ফাহলবার্গ। কাজের প্রচুর চাপ। আর বিজ্ঞানীরা সাধারণত পাগলা কিছিমের হন। তারা গবেষণার বাইরে বাকী সব কিছুকে ফাঁকি দিয়ে ভূলে থাকতে পারেন। ফাহলবার্গ হাতে করে কিছু সামগ্রী বাসায় নিয়ে এলেন। অবসরটুকু কাজে লাগাবেন এমনি কোন ফন্দি কাজ করছিলো মাথায়। সব কিছু ভূলে থাকা গেলেও ক্ষুধাকে ভোলা অত সহজ নয়। ফাহলবার্গ এর পেট জানান দিলো ক্ষুধা লেগেছে। কিচেন থেকে কিছু খাবার নিয়ে চটপট খেতে বসে গেলো ফাহলবার্গ।



খাওয়ার সময় ফাহলবার্গ থমকে গেলো। সে তার খাবার গুলোতে চোখ বুলিয়ে নিলো। নাহ চিনিজাতীয় কিছুই তো এখানে নেই। তাহলে তার হাতের রুটিটাকে মিষ্টি লাগছে কেন! কিছুটা ভাবনা চিন্তার পরে ফাহলবার্গ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলো যে এই মিষ্টতার উৎস তার হাতের আঙ্গুল। আর আঙ্গুলের মিষ্টতার উৎস গবেষণাগারে যে রাসায়নিক পদার্থ নিয়ে কাজ করছেন সেগুলো। তিনি এই চিনিজাতীয় পদার্থের উপর আরো বেশী গবেষণা চালাতে লাগলেন। একস্ময় তিনি ফলাফল পেয়ে গেলেন। নিজে নামে প্যাটেন্ট নাম স্যাকারিন হিসেবে নিবন্ধন করলে্ন। এই কারণে ইরা রেমেনসেনের খুব রাগ হলো। হবেই না বা কেনো! দুইজন মিলে কাজ করলাম। খোঁহাখুজি করলাম অন্ধকারে। সোনার ডেলা তুই খুঁজে পাইছিস বলে তোর একার হয়ে গেলো! কে বলেছে পাগলা বিজ্ঞানীদের দুনিয়ার জ্ঞান নেই। তারে ধরে নিয়ে আসো। ইট মেরে তার থোতা নাক ভোঁতা করে দিছি তবে আমার নাম............

ফাহলবার্গের আবিষ্কার খাদ্য শিল্পে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পেরেছে। বছর না ঘুরতেই বাজারে স্যাকারিন যুক্ত খাবার পাওয়া যেতে লাগলো। স্যাকারিনে ক্যালরি পাওয়া যায় না। তাই এটা শরীরের জন্য পুষ্টিকর নয়। আমেরিকার খাদ্য ও ওষুধ অধিদপ্তরের মানদণ্ড অনুসারে একটি সাধারণ মিষ্টিতে কমপক্ষে ক ক্যালরি থাকে কিন্তু স্যাকারিনে থাকে শুন্য ক্যালরি। পুষ্টিকর না হলেও ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য স্যাকারিন আশীর্বাদ স্বরূপ। জিভে মিষ্টির স্বাদ কে না পেতে ভালবাসে। রক্তে উচ্চমাত্রায় চিনির উপস্থিতিকে বলে ডায়াবেটিক্স।





পরের তথ্যগুলো রসায়নে আগ্রহীদের জন্যঃ

অন্য নামঃ o-Sulfobenzimide, o-Benzoic sulfimide, Saccharine, Benzosulfimide, Saccharimide, o-Benzosulfimide, Benzoic sulfimide, Benzosulphimide

আনবিক সংকেতঃ C7H5NO3S
আনবিক ভরঃ ।১৮৩.১৮৪৫
IUPAC নামঃ ১,১- ডাই অক্সো- ১,২- বেঞ্জোথায়োজোল- ৩- ওল
মেল্টিং পয়েন্টঃ ২২৬-২২৯ ডিগ্রি সে.
ঘনত্বঃ ০.৮২৮
সংরক্ষণ তাপমাত্রাঃ রেফ্রিজারেটর
পানিতে দ্রাব্যতাঃ ৩.৩ গ্রা./লি. (২০’সে.)
স্ট্যাবিলিটিঃ স্ট্যাবল।

স্যাকারিন দেখেছেন কখনো?
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে এপ্রিল, ২০১৩ দুপুর ১:২৯
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটি বড়দের গল্প - ছোটরাও পড়তে পারে

লিখেছেন মুনতাসির, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৫০

বিজ্ঞানীরা তিনটা আলাদা দ্বীপে দুইজন পুরুষ আর একজন মহিলা মানুষকে এক বছরের জন্য ফেলে রেখে এসেছে। একটা দ্বীপ ব্রিটিশদের, একটা ফ্রেঞ্চদের, আর শেষটা আমাদের বাংলাদেশীদের। এক বছর পর যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:০০

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বহুবার প্রমাণ হয়েছে যে, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি থাকে তার তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। তাদের শ্রম, ত্যাগ, জেল-জুলুম সহ্য করার মানসিকতা এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

খাজনা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



মন! মানুষের মন! মানুষকে তছনছ করে দেয়!
কখনো সে বাঘ, কখনো সে অজগর, কখনো সে শত্রু, কখনো সে বন্ধু!
কখনো সে ঈশ্বর, কখনো সে শয়তান, কখনো সে নিয়তি!
বিদিকিচ্ছিরি কান্ড!

লম্বা টানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের ওভারব্রীজ

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:০৪

বেশ অনেকদিন আগের কথা। আমি কোন এক দুর্ঘটনায় পা এ ব্যাথা পাই। হাসপাতালে ইমারজেন্সি চিকিৎসা নেই। কিন্তু সুস্থ হতে আরো অনেক দেরী। সম্ভবত চিটাগাং রোডে (নারায়ণগঞ্জ) এ রাস্তা পার হবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের পক্ষে বাংলাদেশ সরকারের সরাসরি দাঁড়ানো সম্ভব নয়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:১৫


ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত যখন মাইক্রোফোনের সামনে কথা বলা শুরু করলেন , তখন তার চোখে রাগ ছিল না, ছিল এক ধরনের ক্লান্ত অভিমান। একটা মুসলিম দেশ, কোটি কোটি মুসলিম মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×