
আমি এক বছর ধরিয়া একটি গহিন অরন্যে অবস্থান করিয়াছি। এই এক বছরে আমি অনেক কিছুই আবিস্কার করিয়াছিলাম। নারীর প্রেমের গহিন অরন্যে আমি হারাইয়া যাওয়া ছোট্ট এক শিশুর মত বিচোরন করিয়াছি । ঐ গহীন অরন্যে আমি যে কি খুজিয়াছি পাগলের মত তাহা আমার মস্তিস্ক এখনো ধারন করিতে পারে নাই। তবে এতে যে সেই গহীন অরন্যের শান্তি শ্রিংখলা পুরোপুরি ভাবে অচল হইয়া পড়িয়া ছিলো এবং অরন্যের একমাত্র মালিকা যে এই শিশুকে আরো বেশী তোলপাড় করার জন্য উসকাইয়া দিয়াছিলেন তাহা হরফ করিয়া বলিতে পারি।

যাইহোক, সেই শিশু আস্তে আস্তে কিশোর হইলো । শিশু থাকা কালে তো সে শুধু মাটি দিয়া খেলা করিতো এবং গাছের পাতা ছিড়িয়া বেড়াইতো । কিন্তু কিশোরে রুপান্তরিত হওয়ার পর সে শুধু এগুলা করিয়াই ক্ষান্ত হইলো না, বরং এ গাছ থেকে ঐ গাছে লাফালাফি করিয়া, গাছের ডাল ভাঙ্গিয়া এবং তাহার সর্বো শক্তি দিয়া চিৎকার চেচামেচি করিয়া পুরো অরন্যের সতেরো বৎসর যাবত যে রিতিনীতি ও শান্তি শ্রিংখলা বিরাজ করিতে ছিলো তাহার মধ্যে এক বিরাট বেঘাত সৃস্টি করিয়া দিলো। এতে অরন্যের মালিকা তাহার অরন্যে নতুন কিছু হইতেছে ভাবিয়া কিশোরটিকে আরো বেশী উন্মাদ করিবার জন্য, নিজের অরন্যেই ভুমিকম্পের সৃস্টি করিয়া দিলেন। এতে হয়তোবা কিশোরটি তরুনে রুপান্তরিতো হইলো কিন্তু এতেযে অরন্যের বিশাল ক্ষতি হইয়া গেল তাহা অরন্যের মালিকা ঠাহর করিতা পারিলেন না। তিনি ভাবিলেন, এতো গহিন এবং বিশাল অরন্যে দু চারবার ভুমিকম্প, জলচ্ছাস বা সাইক্লোন হইয়া গেলে বেশী কিছু হইবে না। কিন্তু এদিকে কিশোরটি তারুন্যের জলে ভিজিয়া তরুনের মর্ম বুঝিতে লাগিলো, এতে যা লাভ হইলো তাহা দাড়াইলো এই যে, সে শুধু ভুমিকম্প, জলচ্ছাস বা সাইক্লোনে খুশি হইতে পারিলো না । তাই সে গহিন অরন্যের কাছে আরো বেশী নতুন কিছু চাইয়া বসিলো। কিন্তু অরন্যের মালিকা ইহা বুঝিতে পারিলেন না যে, এই একটি মাত্র অরন্য ঠিক রাখিতে না পারিলে তাহার রাজ্য হাত ছাড়া হইয়া যাইবে, তাহার একেবারে সব কিছুই যে শেষ হইয়া যাইবে। অতঃপর, একদা তিনি এই উদ্দাম তরুনের তারুন্যের মাঝে নিজের একমাত্র সম্বল অরন্যকে শপিয়া দিয়া দারুন আনন্দে একেবারে দিশেহারা হইয়া পরিলেন।

আর এইদিকে তরুন এতো বড় অরন্যকে নিজের বলিয়া ভাবিয়া তার স্বভাব মত পুর অরন্যে দাবানলের আগুন চালাইয়া দিলো । আগুন আস্তে আস্তে বাড়িতে লাগিলো এবং অরন্যের মালিকার আনন্দও বাড়িতে লাগিলো।মালিকা ভাবিতে লাগিলেন যে, এতো দিনে আমার অরন্যের একটা কিছু গতি হইলো। কিন্তু এতো সাক্ষাত আগুন, যাহারা জগত সম্পর্কে অল্প বিস্তর জ্ঞ্যন রাখেন তাহারা সবাই জানেন, আগুন যখন কম থাকে তখন তা দিয়া ভাত তরকারি রাধিয়া খাওয়া যায়, কিন্তু এই আগুন যখন বাড়িবে এবং পুরো অরন্যকে তাহার লেলিহান শীখা দ্বারা গ্রাস করিবে তখন সেই আগুন তার স্বভাব শুদ্ধো ভাবে পুরো অরন্যকে ধংস করিয়া ছারিবে। কিন্তু ইহা আনন্দে ডুবু ডুবু মালিকার মাথায় আসিলো না।
অতোএব, যাহা হইবার তাহাই হইলো। পুর অরন্য আগুনের সমদ্রে ডুবিয়া গিয়া একেবারে শেষ হইয়া গেল। এই খোলা চড়ন ভূমিতে যে আগে কনো কালে একটি গহিন অরন্য ছিলো তাহার বিন্দু মাত্র চিহ্নও রইলো না।
