somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চেয়েছিলাম হুমায়ুন নিয়ে পোস্ট করবো না কিন্তু পারলাম না

২৪ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১০:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মৃত্যুর রাত এ মানুষ থেকে ধার করে লিখেছিলাম,

চাঁদনী পসর রাত কী না জানিনা, তবে চন্দ্রগ্রস্ত এক ভাবুক উন্মাদের মৃত্যুতে শ্রদ্ধান্জলী

সময় নির্মম এক ছুরি, কেঁটে যায় সব, নিয়ে যায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোনার তরী কবিতার মত মহাকাল শুধু কর্মকেই ধারণ করে, ব্যক্তিকে নয়, করুণা করে হলেও ব্যক্তির ঠাঁই নেই মহাকালে। কালের গর্ভে হারিয়ে যাবেন ব্যক্তি হুমায়ুন আহমেদ। রয়ে যাবে তার সৃষ্টি, রয়ে যাবে হিমু, মিসির আলি, শুভ্র, বাকের ভাই, মাজেদা খালা বা বাদল।

অনেক এ বলছে "আমার বই মেলায় যাওয়ার প্রয়োজন ফুরাল"

মানুষ হিসেবে তিনি কেমন ছিলেন জানি না। তাঁর কাছে যাবার সুযোগ হয় নি। হয়তো তিনি আমার পছন্দের তালিকায় উপরের দিকে কেউ ছিলেন না। কিন্তু। তার পরেও একটা যুগের অবসান। রাজা আসে রাজা যায়। হুমায়ুনরা যায় আর ফিরে আসে না। যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন। আগুনের পরশমণি ছড়িয়ে যান হাজার বছর। আপনার জন্য আজ শোক নয়। নতুন জীবনের শুভ কামনা জানাই। যেখানেই থাকুন হাসি মুখেই থাকুন।

আর এখন লিখতে ইচ্ছা করছে

হুমায়ূন আহমেদ.. ব্যক্তিটি সম্পর্কে খুব একটা আগ্রহ আমার কখনোই ছিলোনা.. আজও নেই.. মৃত ব্যক্তিদের জন্য দোয়া করা উচিত, করেছি..
তবে আজ উনাকে ভিষন মিস করছি.. লাশ নিয়ে তার পরিবারের দুই পক্ষ যে খেলা শুরু করেছে, ব্যক্তি হুমায়ূন আহমেদ বেচে থাকলে আজ এ নিয়ে অসম্ভব সুন্দর একটি উপন্যাসের জন্ম দিতেন নিশ্চিত!
'লাশ সামনে নিয়ে এমন রসিকতা'- এ নিয়ে উপন্যাস লেখার ক্ষমতা তিনি ভিন্য অন্য কারো নেই..
আজ কোনো কারনে যদি আল্লাহ তাকে অন্তত একটি হাত নাড়াবারও শক্তি ফিরিয়ে দিতেন, তবে কম করে হলেও ডজন খানেক গালে তার হাতের ওয়াটার মার্ক সম্বলিত লাল রং-এর পাঁচ আঙুলের দাগ দেখা যেত নিশ্চিত!!!

আজ যদি হুমায়ূন আহমেদে বেঁচে থাকতেন , তাহলে তিনি গল্পে মিসির আলী কে নিয়ে আসতেন তার দাফন সংক্রান্ত বিরোধ মেটাতে !! উই মিস ইয়ু মিসির আলী !!
void(1);
আমার আর কিছু বলার নাই

আমার এক বড় ভাই এর কথা হুমায়ুন সম্পর্কে

প্রভু বললেন, ''হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে ব্যক্তিগত স্মৃতি লেখার ধুম পড়েছে। স্যার আমার পিঠে হাত বুলায়া কইলেন...স্যার আমারে ডেকে নিয়া বললেন..স্যার খবর পাঠিয়ে জানালেন..ডাকপিয়ন স্যারের পাঠানো গিফট নিয়া আইল..হুমায়ূন আহমেদ মাঝরাতে ফোন করে জিজ্ঞেস করলেন...কত তামাশা! তোমার সঙ্গে হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতি নেই?'
আমি বললাম, ' আছে তো! হাজার হাজার স্মৃতি। ঐ যে একবার ঝুম বৃষ্টি এলো, আমরা সবাই ক্লাস থেকে বেরিয়ে বৃষ্টিতে ভিজলাম; তারপর এক পূর্ণিমা রাতে আমরা ষোলজন একটা বাসের ছাদে চড়ে সিলেট থেকে শ্রীমঙ্গল গেলাম চাঁদ দেখতে দেখতে, ঐ যে একমুঠো আঁকাশ দেখার আমন্ত্রন জানিয়ে চিঠি লেখলাম মায়াবতী মেয়েটিকে...সবখানেই তো হুমায়ূন আমাদের সঙ্গেই ছিলেন। যারা মিডিয়ায় হুমায়ূন বন্দনা করছে তাঁরা সিজনাল-কিছু না কিছু লিখবেই। অথচ হুমায়ূন তাঁদের ছিলেন না, হুমায়ূন ছিলেন লাইনে দাঁড়িয়ে বই কেনা পাগল তরুণ তরুণীদের। হুমায়ূন বুদ্ধিজীবিদের জন্য ছিলেন পত্রিকার পাতায়, আমাদের জন্য ছিলেন নিশিজাগা রাতের দীর্ঘশ্বাসে।'

এর থেকে বেশি আর কি বলা যাই, তা আমার জানা নেই
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১০:৪২
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাবা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান, ছেলে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২১

মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে অনেক হৃদয়বিদারক ঘটনা আছে। কুমিল্লার এমনই একটি ঘটনার কথা বলেছেন একজন মুক্তিযোদ্ধা -

কুমিল্লা শহরের উত্তর দিকে রসুল আহমদ নামে একজন ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ছিলেন শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান।... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের সীমা (জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সতর্কতা!)

লিখেছেন আবু সিদ, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০

“সুন্দর শব্দ মধুচক্রের মতো, আত্মার জন্য সুমিষ্ট এবং অস্থির জন্য আরোগ্য।” — প্রবচন ১৬:২৪, বাইবেল

প্রতিদিন বাসা থেকে বের হলেই হাজারো শব্দ উড়ে এসে আছড়ে পড়ে আমাদের কানে। দূর ও নিকট... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন কর্মী ও তার ন্যায্য পাওনা

লিখেছেন কিরকুট, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২০

বাংলাদেশের বেসরকারি খাত নিয়ে কথা বলতে গেলে আমরা সাধারণত বিনিয়োগ, মুনাফা, ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি, বাজার সম্প্রসারণ কিংবা উদ্যোক্তার ঝুঁকির কথা ভাবি। কিন্তু এই পুরো ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ কর্মীর শ্রম নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দায়ী কে?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১১



২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও সরকারি স্থাপনাগুলোতে আকস্মিক বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়।প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীসহ বেশ কয়েকজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আ-তে আনন্দবাজার, আ-তে আওয়ামী লীগ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৫


ইন্টারনেটে খবর পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা শিরোনাম সামনে এলো। পড়েই কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বুঝি বিশাল কোনো ঘটনা ঘটে গেছে। শিরোনাম, “আধ পয়সা বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×