চাঁদনী পসর রাত কী না জানিনা, তবে চন্দ্রগ্রস্ত এক ভাবুক উন্মাদের মৃত্যুতে শ্রদ্ধান্জলী
সময় নির্মম এক ছুরি, কেঁটে যায় সব, নিয়ে যায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোনার তরী কবিতার মত মহাকাল শুধু কর্মকেই ধারণ করে, ব্যক্তিকে নয়, করুণা করে হলেও ব্যক্তির ঠাঁই নেই মহাকালে। কালের গর্ভে হারিয়ে যাবেন ব্যক্তি হুমায়ুন আহমেদ। রয়ে যাবে তার সৃষ্টি, রয়ে যাবে হিমু, মিসির আলি, শুভ্র, বাকের ভাই, মাজেদা খালা বা বাদল।
অনেক এ বলছে "আমার বই মেলায় যাওয়ার প্রয়োজন ফুরাল"
মানুষ হিসেবে তিনি কেমন ছিলেন জানি না। তাঁর কাছে যাবার সুযোগ হয় নি। হয়তো তিনি আমার পছন্দের তালিকায় উপরের দিকে কেউ ছিলেন না। কিন্তু। তার পরেও একটা যুগের অবসান। রাজা আসে রাজা যায়। হুমায়ুনরা যায় আর ফিরে আসে না। যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন। আগুনের পরশমণি ছড়িয়ে যান হাজার বছর। আপনার জন্য আজ শোক নয়। নতুন জীবনের শুভ কামনা জানাই। যেখানেই থাকুন হাসি মুখেই থাকুন।
আর এখন লিখতে ইচ্ছা করছে
হুমায়ূন আহমেদ.. ব্যক্তিটি সম্পর্কে খুব একটা আগ্রহ আমার কখনোই ছিলোনা.. আজও নেই.. মৃত ব্যক্তিদের জন্য দোয়া করা উচিত, করেছি..
তবে আজ উনাকে ভিষন মিস করছি.. লাশ নিয়ে তার পরিবারের দুই পক্ষ যে খেলা শুরু করেছে, ব্যক্তি হুমায়ূন আহমেদ বেচে থাকলে আজ এ নিয়ে অসম্ভব সুন্দর একটি উপন্যাসের জন্ম দিতেন নিশ্চিত!
'লাশ সামনে নিয়ে এমন রসিকতা'- এ নিয়ে উপন্যাস লেখার ক্ষমতা তিনি ভিন্য অন্য কারো নেই..
আজ কোনো কারনে যদি আল্লাহ তাকে অন্তত একটি হাত নাড়াবারও শক্তি ফিরিয়ে দিতেন, তবে কম করে হলেও ডজন খানেক গালে তার হাতের ওয়াটার মার্ক সম্বলিত লাল রং-এর পাঁচ আঙুলের দাগ দেখা যেত নিশ্চিত!!!
আজ যদি হুমায়ূন আহমেদে বেঁচে থাকতেন , তাহলে তিনি গল্পে মিসির আলী কে নিয়ে আসতেন তার দাফন সংক্রান্ত বিরোধ মেটাতে !! উই মিস ইয়ু মিসির আলী !!
void(1);
আমার আর কিছু বলার নাই
আমার এক বড় ভাই এর কথা হুমায়ুন সম্পর্কে
প্রভু বললেন, ''হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে ব্যক্তিগত স্মৃতি লেখার ধুম পড়েছে। স্যার আমার পিঠে হাত বুলায়া কইলেন...স্যার আমারে ডেকে নিয়া বললেন..স্যার খবর পাঠিয়ে জানালেন..ডাকপিয়ন স্যারের পাঠানো গিফট নিয়া আইল..হুমায়ূন আহমেদ মাঝরাতে ফোন করে জিজ্ঞেস করলেন...কত তামাশা! তোমার সঙ্গে হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতি নেই?'
আমি বললাম, ' আছে তো! হাজার হাজার স্মৃতি। ঐ যে একবার ঝুম বৃষ্টি এলো, আমরা সবাই ক্লাস থেকে বেরিয়ে বৃষ্টিতে ভিজলাম; তারপর এক পূর্ণিমা রাতে আমরা ষোলজন একটা বাসের ছাদে চড়ে সিলেট থেকে শ্রীমঙ্গল গেলাম চাঁদ দেখতে দেখতে, ঐ যে একমুঠো আঁকাশ দেখার আমন্ত্রন জানিয়ে চিঠি লেখলাম মায়াবতী মেয়েটিকে...সবখানেই তো হুমায়ূন আমাদের সঙ্গেই ছিলেন। যারা মিডিয়ায় হুমায়ূন বন্দনা করছে তাঁরা সিজনাল-কিছু না কিছু লিখবেই। অথচ হুমায়ূন তাঁদের ছিলেন না, হুমায়ূন ছিলেন লাইনে দাঁড়িয়ে বই কেনা পাগল তরুণ তরুণীদের। হুমায়ূন বুদ্ধিজীবিদের জন্য ছিলেন পত্রিকার পাতায়, আমাদের জন্য ছিলেন নিশিজাগা রাতের দীর্ঘশ্বাসে।'
এর থেকে বেশি আর কি বলা যাই, তা আমার জানা নেই

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

