অধিকাংশ মানুষই অসুখী। কারণ একটাই--কেউই অসুখের কারণ অনুসন্ধান করে না। কি যে ভালো লাগে সেটাই জানে না আর কি যে ভালো লাগে না সেটাও বুঝে না। তারপরও তিনটি জিনিস জাতি, ধর্ম, বর্ন নির্বিশেষে সকল মানুষেরই ভালো লাগে। আর এগুলো হচ্ছে--আহার,নিদ্রা এবং মৈথুন। অনেকে অবশ্য সরাসরি স্বীকারও করেন এই তিনটি কারণেই তাদের জন্ম স্বার্থক হয়েছে। আর পাঁচ-দশটা রক্ত মাংসের সামাজিক মানুষের মতো আমারও এই ব্যাপার গুলো ভালো লাগে। তারপরও আরো কিছু ব্যাপার থেকেই যায় যেগুলো কিনা এই সাধারণ ভালো লাগার চেয়েও একটু বেশি ভালো লাগার মত। সেগুলো নিয়েই একটু আলোচনা করা যাক।
প্রথমেই জনপ্রতিনিধিদের প্রতি মানুষের ভালো লাগার ব্যাপারটা তুলে ধরি। একই জনপ্রতিনিধির একই মিথ্যে আশ্বাসে বারবার প্রতারিত হবার পরও তাকে পুনরায় নির্বাচিত করা এবং সাময়িক সুখের আশায় নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারার কারণে মানুষের আফসোস করা দেখতে খুবই ভালো লাগে। ভালো লাগে সেইসব বুদ্ধিজীবীদের যারা পথে ঘাটে নালা নর্দমায় সমাজের সমসা সংক্রান্ত গগনবিদারী ভাষণ দিয়ে বেড়ান অথচ সমস্যা সমাধানের জন্য বিন্দুমাত্র চেষ্টাও করেন না উপরন্তু বিপদে পড়লে 'আপনি বাঁচলে বাপের নাম' পন্থাটি অবলম্বন করেন। অফিস,আদালতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দেখতে ভালো লাগে যেখানে অবসরপ্রাপ্ত বৃদ্ধ মানুষটি জীবনের শেষ মুহূর্তেও পেনশনের টাকা তুলতে পারেন না। ভালো লাগে যখন অপরাধ প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও দুর্নীতিবাজ লোকটির কিছুই হয় না অথচ নিরীহ নিরাপরাধ মানুষটিকে সাজা দেওয়া হয়।
দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতির প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কুম্ভকর্নের ভূমিকা পালন করা দেখতে ভালো লাগে। প্রচন্ড যানজটে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতে ভালো লাগে তা সেটা শীত গ্রীষ্ম বর্ষা বা ১৫ ঘন্টা রোযা যে ঋতুতেই হোক না কেন।
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস ভালো লাগে যেখানে ছাত্ররাজনীতির হিংস্র থাবায় প্রিয় শিক্ষাঙ্গনটি মাসের পর মাস বন্ধ থাকে। শ্রদ্ধেয় শিক্ষকেরাও অবশ্য কম যান না। তাদের নগ্ন রাজনীতির ফাঁদে পড়ে মেধাবী ছাত্রটির ছটফট করা দেখতে ভালো লাগে।
রাস্তাঘাটে, পার্কে তথাকথিত প্রেমিক-প্রেমিকার অশালীন প্রেম প্রেম খেলা দেখতে ভালো লাগে। রং ফর্সাকারী ক্রীম ব্যবহার করে ঘষে ঘষে মুখের চামড়া তুলে ফেলার পরও যখন রং বিন্দুমাত্র ফর্সা হয় না তখন ক্রীম কোম্পানীর মার্কেটিং ম্যানেজারের মুখের হাসিটি খুবই ভালো লাগে। খেলাধূলায় ভিনদেশী দুটি দেশকে সমর্থন করাকে কেন্দ্র করে তর্কাতর্কি,হাতাহাতি এবং শেষ পর্যন্ত রক্তারক্তি পরিসমাপ্তি ভালোলাগায় একটি নতুন মাত্রা যোগ করে।
কোন কিছু না করে mouse click বা হাত বিস্তার করে হঠাৎ বড়লোক হবার স্বপ্ন দেখা মানুষদের ভালো লাগে। ভালো লাগে তাদের ভাব ধরানো কথাবার্তা, আকাশ কুসুম চিন্তা ভাবনার গল্প শুনতে। ভালো লাগে কোম্পানি বন্ধ জেনেও বিনিয়োগ করার অপেক্ষায় বসে থাকা মানুষদের দেখতে।
ফেইসবুকে ছেলেদের নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরানো মেয়েদের খুব ভালো লাগে। আরো বেশী ভালো লাগে মেয়ে পটানোর জন্য ছেলেদের হৃদয় বিদারক কমেন্টস গুলো পড়তে। আর ভাল লাগে সবকিছু দেখে সামাজিক মানুষ হয়ে চুপচাপ থাকতে।
বিগত তিন বছর এ আমার ভাললাগা কস্ট থেকে সংকলিত

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

