যখন ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি । হঠাত্ বাড়ি থেকে পালিয়ে গেলাম । ঘুরতে ঘুরতে গেলাম শৈশব বিজড়িত নরসিংদীর সেই উপজেলায় । পুরোনো সেই পথ ঘাট । তেমন পরিবর্তন হয়নি কিছুই । কষ্ট হয়নি পুরোনো বন্ধুদের খুঁজে পেতে । এক বন্ধুকে নীলিমার কথা বলতেই নিয়ে গেলো ওর শ্বশুর বাড়ি । আরে বাবা ! এত্তো সুন্দর হইসে ও ? বিয়ের পর নারীদের সচরাচর সৌন্দর্যহানি ঘটতে থাকে । এ কথাই জেনে এসেছি এতো দিন । নীলার ক্ষেত্রে উল্টো দেখলাম ।
আমরা যখন ওর বাড়ির সামনে গেলাম দেখি ও বারান্দায় বসে তরকারি কুটতে ব্যাস্ত । আমার সাথের বাল্য বন্ধুটি বললো- নীলা, চিনতে পেরেছিস ওকে ?
নীলা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো- বাবু ।
আমি অবাক হলাম ।
ও চা নাশতা খাওয়ালো । অনেকক্ষণ আড্ড হলো । হলো শৈশবের স্মৃতি রোমন্থন । জানলাম ওর স্বামী একটা অর্থ কড়ি লেন দেন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক । ও এখন এক ছেলে এক মেয়ের মা । ওর ছেলে মেয়ে দুটো কী যে সুন্দর ! ঐ দিনের মতো চলে এলাম । কথা দিলাম ভবিষ্যতে আবার যখন আসবো দুপুরে না খেয়ে ফিরবো না ।
দু বছর আগে ঠিক এমন দিনে আমার মোবাইলে একটা ফোন এলো । ফোনটা রিসিভ করতেই অন্য প্রান্ত থেকে বললো- বাবু বলছো ?
এতো বছর পরও কণ্ঠটা চিনতে ভুল হলো না । নীলিমা ।
তারপর থেকে প্রায়ই ও ফোন দিতো ।
এক এক রাতে ফিসফিসিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে কথা বলতো নীলা । আমি শোনতাম ওর কথা । সুখ দুঃখের কথা । এতো রাতে তোমার স্বামী কী ভাববে ? এ কথা বললেই ও এড়িয়ে যায় কথা । ওর দেখতে হুবুহু ভারতের অভিনেত্রী এবং ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার মন্দিরা বেদীর মতো । আমি বিভিন্ন কথার ফাঁকে এটা বলতেও ভুলি না । ও ও আমাকে এর ওর সাথে তুলনা করে । কোন কথা না থাকলে যা হয় আর কী । আমি একদিন কী না কী বুঝে জিজ্ঞেস করে বসলাম- প্রায় প্রতি রাতে আমার সাথে কথা বলো । এটা কী করে সম্ভব ? এবার প্রশ্নটা এড়িয়ে যেতে দেইনি অথবা ওই এড়িয়ে যায়নি । উত্তরে বললো- আমি অনেক দিন হলো ম্যানাজারের সাথে রাত কাটাই না !
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ রাত ৮:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




