somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অসজ্ঞায়িত আবেগ

২৫ শে জুন, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নীলিমা (ছদ্ম নাম) । ছোট বেলায় প্রাইমারী স্কুলে এক সাথে পড়েছি ওর সাথে । লিক লিকে গড়নের মেয়েটা । তখন থেকেই যেনো পৃথিবীর সব চিন্তা ভাবনাকে নিজের কাঁধে চাপিয়ে নিয়েছিলো । ওর চাহনী কথা বার্তা সব কিছুই এই পিচ্চি আমি'র কাছে ভালো লাগতো । তার পর অনেক বছর কেটে গেলো । আব্বার পোষ্টিং- এ থানা থেকে ঐ থানা । বিভিন্ন জায়গা ঘুরে '৯৮ সালে থিতু হলাম নিজ জেলায় ।
যখন ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি । হঠাত্‍ বাড়ি থেকে পালিয়ে গেলাম । ঘুরতে ঘুরতে গেলাম শৈশব বিজড়িত নরসিংদীর সেই উপজেলায় । পুরোনো সেই পথ ঘাট । তেমন পরিবর্তন হয়নি কিছুই । কষ্ট হয়নি পুরোনো বন্ধুদের খুঁজে পেতে । এক বন্ধুকে নীলিমার কথা বলতেই নিয়ে গেলো ওর শ্বশুর বাড়ি । আরে বাবা ! এত্তো সুন্দর হইসে ও ? বিয়ের পর নারীদের সচরাচর সৌন্দর্যহানি ঘটতে থাকে । এ কথাই জেনে এসেছি এতো দিন । নীলার ক্ষেত্রে উল্টো দেখলাম ।
আমরা যখন ওর বাড়ির সামনে গেলাম দেখি ও বারান্দায় বসে তরকারি কুটতে ব্যাস্ত । আমার সাথের বাল্য বন্ধুটি বললো- নীলা, চিনতে পেরেছিস ওকে ?
নীলা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো- বাবু ।
আমি অবাক হলাম ।
ও চা নাশতা খাওয়ালো । অনেকক্ষণ আড্ড হলো । হলো শৈশবের স্মৃতি রোমন্থন । জানলাম ওর স্বামী একটা অর্থ কড়ি লেন দেন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক । ও এখন এক ছেলে এক মেয়ের মা । ওর ছেলে মেয়ে দুটো কী যে সুন্দর ! ঐ দিনের মতো চলে এলাম । কথা দিলাম ভবিষ্যতে আবার যখন আসবো দুপুরে না খেয়ে ফিরবো না ।
দু বছর আগে ঠিক এমন দিনে আমার মোবাইলে একটা ফোন এলো । ফোনটা রিসিভ করতেই অন্য প্রান্ত থেকে বললো- বাবু বলছো ?
এতো বছর পরও কণ্ঠটা চিনতে ভুল হলো না । নীলিমা ।
তারপর থেকে প্রায়ই ও ফোন দিতো ।
এক এক রাতে ফিসফিসিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে কথা বলতো নীলা । আমি শোনতাম ওর কথা । সুখ দুঃখের কথা । এতো রাতে তোমার স্বামী কী ভাববে ? এ কথা বললেই ও এড়িয়ে যায় কথা । ওর দেখতে হুবুহু ভারতের অভিনেত্রী এবং ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার মন্দিরা বেদীর মতো । আমি বিভিন্ন কথার ফাঁকে এটা বলতেও ভুলি না । ও ও আমাকে এর ওর সাথে তুলনা করে । কোন কথা না থাকলে যা হয় আর কী । আমি একদিন কী না কী বুঝে জিজ্ঞেস করে বসলাম- প্রায় প্রতি রাতে আমার সাথে কথা বলো । এটা কী করে সম্ভব ? এবার প্রশ্নটা এড়িয়ে যেতে দেইনি অথবা ওই এড়িয়ে যায়নি । উত্তরে বললো- আমি অনেক দিন হলো ম্যানাজারের সাথে রাত কাটাই না !
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ রাত ৮:২১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×