somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন সাংবাদিকের দিনলিপি-১

১৫ ই জুলাই, ২০১১ রাত ৯:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগের চেয়ে এখন আমি অনেক বেশি লেখায় এগিয়ে গেছি । অনেকেই আমাকে চিনতে শুরু করেছে । ইদানিং আমি ব্লগে লিখি । যখন যা আলোচিত বিষয় - সেটাই তখন আমার লেখার খোরাক ।ডায়েরীতে এখন লিখতে বসে কী জঘন্যইনা দেখাচ্ছে আমার হাতের লেখা । কম্পিউটারের কী বোর্ড ছেড়ে আজ দেড় বছর পর কলম ধরেছি । আমি সাংবাদিকতা করি । যখন যা হয় মেইল করে পাঠাচ্ছি ঢাকা অফিসে তাত্‍ক্ষণিক । কোন কিছু করলাম অথচ বিশ্ব জানলো না, তা কী হয় ?
আমার কিছু গোপন কর্ম আছে । না পারছি কাউকে বলতে, না পারছি পেটে ধরে রাখতে । তাই এই বিশেষ ধরণের ডায়েরীটা কিনলাম । এটা তালা দিয়ে রাখা যায় । আমি যতদিন বাঁচবো এর দেখভাল করবো । মরে গেলে পরবর্তী প্রজন্মের কেউ এটা পড়ে আমাকে গালমন্দ করলে করুক ।
আমি ব্যাক্তি জীবনে পেশায় একজন সংবাদকর্মী । যদিও এটা অন্যান্য পেশার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা ধাঁচের । তারপরও আমার কাছে এটা রোজগারের একটা সহজতম পথ ছাড়া আর কিছুই না ।
সাংবাদিক হিশেবে আমার কাজ হলো এমন কিছু ঘটলো যার কীনা নিউজ ভ্যালু আছে- সেটা সংবাদ আকারে পরিবেশন করা । কিন্তু আমি করি তার ঠিক উল্টো । অর্থাত্‍ সংবাদ সৃষ্টি করি । অবশ্য এই সংবাদ সৃষ্টির জন্যে আমার রেট খুব চড়া । অল্প স্বল্প টাকায় আমি বিক্রী হই না । আমার চরিত্র সম্বন্ধে দু একজন লোকের যে ধারণা নেই তা ভাববার দরকার নেই । অবশ্য এই লোকগুলো খুব উঁচু মাপের । যদিও তারা জননেতা টাইটেলধারী কিন্তু সচরাচর এরা জনগণের সংস্পর্শে আসেন না ।
এখন যা বলার জন্য মুখটা নিশপিশ করছে সেটা একটা ভয়াবহ একটা ঘটনা । আমার চরিত্র খুব একটা খারাপ নয় । অর্থের প্রতি আমি দূর্বল হলেও আমি আমার বউয়ের প্রতি বিশ্বস্ত । আমার চাকরিজীবি স্মার্ট বউ ও দুই বাচ্চা নিয়ে ভালোই আছি । তবে কেউ যদি সেধে গায়ে পরে সেক্ষেত্রে আমি কীইবা করতে পারি ?
একদিন নারী নির্যাতনের খবর পেয়ে গেলাম এক গ্রামে । সরেজমিন ঘুরে দেখলাম, ঘটনা উল্টো । স্বামী বিদেশ থাকার সুযোগে এক মহিলা বেশ কয়েকটি কলেজ পড়ুয়া ছাত্রের সাথে শারিরীক সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন । আমার পত্রিকাটি দেশের প্রথম সারির দৈনিকগুলোর একটি । সত্য নিউজটা পাঠালে গুরুত্বের সাথে ছাপাবে । তবে গুণধর মহিলাটি খুব চতুরমতী । বুঝলো আমি কী করতে যাচ্ছি । তার ছলা কলা এবং অর্থের কাছে শেষে আমি অফ গেলাম ।
আমার মটর সাইকেলের পেছনের নম্বর প্লেটটা দেখলে আমার গর্ব হয় । ট্রাফিক পুলিশ সেটা দেখলে নড়ে চড়ে দাঁড়ায় । সেখানে রেজিস্ট্রেশন নাম্বার এর জায়গায় ছাপার অক্ষরে বড় করে লেখা 'সাংবাদিক'।
আমার পত্রিকা অফিস থেকে যা দেয় তাতে আমার এক বাচ্চার খরচই চলে না । তবুও মাসে আমাকে ৪০হাজার টাকা ইনকাম করতে হয় । অবশ্য গত মাসে একে বারে রুজি হয়নি । ২৭হাজার পার করতে পারিনি । থানায় যে তদবীরগুলো করেছি তার বেশির ভাগ ছিলো নিজেদের লোকের । তাই হাতে একেবারেই পয়সা পাতি আসেনি ।
আজকে আর লিখব না । আমাদের সম্ভাব্য সাংসদের একটু পর জনসংযোগ আছে । তাঁর সাথে আবার গতকালই নিউজ এর কন্ট্রাক্ট হয়েছে । শালা একটা শিক্ষিত বদমাশ । যদি তাঁর কাজ ঠিকমতো না করি তবে আমার সব গোপন কর্ম ফাঁস করে দেবেন । বেটার হাত খুব লম্বা । বিগড়ালে আর পত্রিকার প্রতিনিধিত্বটা পর্যন্ত বাতিল করার ক্ষমতা রাখেন । যাই, গিয়ে নিউজটা পাঠিয়ে দিয়ে আসি ।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:৫৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×