somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনিতা'রা দু বোন এক ভাই...

১৮ ই জুলাই, ২০১১ সকাল ১০:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২০০৯ এর ডিসেম্বর মাস । আমি হঠাত্‍ সিদ্ধান্ত নিলাম টিভি রিপোর্টিং এর শর্ট কোর্স করবো । পরিবারে সিদ্ধান্তটি জানাবার পর পরই পূর্ণ সমর্থন পেয়ে যাই । যোগাযোগ করি একটি স্বপ্ন বিলাসী প্রতিষ্ঠানের সাথে । ৬০০০ টাকায় ভর্তি হয়ে যাই ঐ প্রতিষ্ঠানে ।
ডিসেম্বরের প্রথম দিকেই শুরু হয় ক্লাস । প্রতিষ্ঠানটির গা ছাড়া ভাবের কারণে প্রথম ক্লাসের খবর পাইনি । দ্বিতীয় ক্লাসটা হয় আমার জন্য প্রথম ক্লাস ।
শুক্র শনি দু দিন ক্লাস । আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে বৃহঃস্পতিবার চলে যেতাম ঢাকায় । সেখানে মিরপুরে দুলাভাইয়ের কাছে থেকে দু দিন ক্লাস শেষে শনিবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিরতাম ।
ঐ প্রতিষ্ঠানটির বসুন্ধরা সিটি শপিং মল শাখায় ছিলো আমাদের ক্লাস অথবা ট্রেনিং যাই বলি না কেনো ।
দ্বিতীয় ক্লাসে যে দিন গেলাম ঐ দিনই মনে হলো আমার চেয়ে এখানে যারা বসে আছেন তাদের আগে একটা চাকরি হওয়া উচিত । তাদের কেউ কেউ কয়েক ছেলে মেয়ের বেকার বাবা । কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন ধার দেনা করে । কারো শেষ সম্বলটি জমা দিয়ে এই কোর্স করতে এসেছেন ।
আমার প্রথম ক্লাসে পেলাম আরটিভি'র অপ্রয়োজনী কথা বলা এক ভদ্রলোককে । তিনি তার কাজের তুলনায় এই অল্প সময়ের জীবনে এওয়ার্ডই পেয়েছেন বেশি ! নিজের গুণ কীর্তণ করে প্রথম ক্লাস কাবার করে দিলেন ।
ঢাকা থেকে ঐ দিন রাতেই চলে এলাম । পরের সপ্তাহে আবার গেলাম । ঐ ক্লাসে প্রথম দেখলাম অনিতাকে । ঠান্ডা, শীতল একটা চেহারা ওর । কণ্ঠটা খুব কমন তবে মিষ্টি । ফর্সা ভাবলেশহীন চেহারাটা দেখে কোন কিছুই আঁচ করা যায় না ।
এবারের ক্লাসটা নিলেন ঐ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এনটিভি'র একজন নিউজ প্রেজেন্টার । তাঁর ক্লাস ভালো লাগলো । মন্ত্র মুগ্ধ হয়ে শুনলাম তাঁর কথা । তবে মাঝে মাঝে মনোযোগের ব্যঘাত ঘটিয়েছে অনিতা । হঠাত্‍ হঠাত্‍ ওর উদ্ভট প্রশ্নে আমরা সবাই হেসে উঠেছি ।
এভাবে চলছিলো আমাদের টিভি রিপোর্টার হবার আয়োজন । একদিন বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের পাশে দাঁড়িয়ে শশা খাচ্ছিলাম । হঠাত্‍ দেখলাম অনিতা ফুটপাত দিয়ে হেঁটে আসছে । আমার কাছে আসতেই ওকে শশা খেতে অনুরোধ করলাম । ও শুনলো আমার কথা । ওর সঙ্গে আরেকটি শশা খেলাম আমি । তারপর এক সঙ্গে গেলাম ক্লাসে । সেখানে আমাদের জন্য একটি নোটিশ অপেক্ষা করছিলো । আজ ক্লাস এক ঘন্টা লেট । আমি আর অনিতা শপিং মলের লেবেল ৫ এ হাঁটতে থাকলাম । থেমে থেমে একে অন্যকে প্রশ্ন করলাম এটা ওটা । ও অবশ্য প্রশ্ন করার চেয়ে উত্তর দিতে সাচ্ছন্দবোধ করে বেশি !
আমি ওকে প্রশ্ন করলাম কাউকে ভালোবাসো ?
ও হ্যা সূচক মাথা নেড়ে প্রতিউত্তরে আমাকে জিজ্ঞেস করলো- কম্বল আছে তোমার ?
আমি অপ্রস্তুত হয়ে বললাম হ্যা আছে । কেনো ?
ও বলতে লাগলো- কম্বলে ঘুমাতে খুব আরাম ? তাই না ?
প্রতি শীতে ইচ্ছে থাকে কম্বল কেনার পরে আর হয়ে উঠে না ।
আমি কী বলবো বুঝতে পারছিলাম না । হঠাত্‍ বলে ফেল্লাম তোমার বাবা কী করেন ?
ও উত্তর 'নেই'।
তোমরা থাকো কোথায় ?
অনিতা এক গাল হেসে বললো- আমি ঢাকায় । ছোট বোনটা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে থাকে ওখানেই । মা ছোট ভাইটিকে নিয়ে বাপের বাড়ি কোলকাতায় থাকেন ।
তোমার বাবার বাড়ি কোথায় ?
বরিশালে । বাবা মারা যাবার পর চাচারা আমাদের সম্পত্তি দখল করে নিয়েছেন । আবার হেসে বললো- ওই সব জমি জমা দখলমুক্ত করতে আমি 'ল'তে অনার্স করছি ।
এখন তোমার খরচ চালাও কীভাবে ?
টিউশনি । জানো- প্রাইভেট পড়াতে গিয়ে অনেক সময় বেশিক্ষণ সময় নিয়ে পড়াই, ইচ্ছে করে লাঞ্চের সময় পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাই । যাতে কর বাসার আন্টি খাবারের জন্য সাধে । আমিও খেতে বসে পরি । মাস শেষে অনেক সময় পড়াতে গিয়ে আন্টিদের বলি- আজ কিন্তু খেয়ে যাবো ।
লক্ষ্য করলাম এসব কথা বলার সময় একবারের জন্যও অনিতার মুখের হাসি থামেনি !
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×