সারা দিন থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে । এখন কাঁদায় পা পিছলে যাচ্ছে । রণি নিজেকে সামলে নিতে হিমশিম খাচ্ছে । তারপরও দ্রুতবেগে হাঁটছে । তাকে সময়মতো পৌঁছতে হবে ।
অন্ধকারেও নিজেকে আড়াল করতে পারলো না । প্রতিবেশী রেণু ভাই ডেকে বললো- অতো রাইত গাঙ্গের দিকে যাও ক্যা সাবের পুত ?
রণি অন্ধাকারে হাসি বোঝাতে জোর করে হা হা শব্দ করে বললো- পিরিত করতাম যাই ।
লালু নির্দিষ্ট ছন্দে হাঁটা এবং দৌড়ের মাঝামাঝি গতিতে রণির পেছন পেছন যাচ্ছে । রণি থেমে থেমে লালু নামের কুকুরটাকে বোঝাবার চেষ্টা করছে তার যেয়ে কাজ নেই । তিতাসের পারে কেউ লালুর জন্য রুটি নিয়ে বসে নেই ।
হঠাত্ ফোঁস শব্দ হলো ! রণি লাফিয়ে উঠলো । সঙ্গে সঙ্গে পেছনে থাকা লালু লাফিয়ে রণির দ্বিগুন উচ্চতায় উঠলো । লালুর ভয় দেখে রণি যথেষ্ট বিরক্ত হলো এবার । মোবাইলের আলোয় একটা নিরীহ সাপকে দেখা গেলো ।
চাঁদ নেই আকাশে । তবে থোক থোক আলো আকাশজুড়ে । মাঝে মাঝে বিদ্যুত চমকাচ্ছে । বৃষ্টি এলো বুঝি । নদীর পাড়ে সেচ পাম্প বসাবার জন্যে পাকা করে রাখা হয়েছে । সেখানেই মফিজ নামের একলোকের থাকার কথা । রণি দেখার চেষ্টা করলো তার মফিজ ভাই আছে কীনা ।
পাকা জায়গাটায় গিয়ে রণি বসলো । গাঁজার তীব্র গন্ধে দম বন্ধ হয়ে আসছে ওর । বুঝতে পারল মফিজ আসে পাশেই আছে । একটু পর দেখা গেলো মফিজ হাঁটু পানি ভেঙ্গে রণির দিকে আসছে ।
রণি কিছু বলতে যাবে এমন সময় মফিজ বললো- 'নাওয়ে বইয়্যা কামডা সাইরা আইলাম । গাঁজা খাইলেই আমার হাগা ধরে ।'
রণি নাক উঁচিয়ে বলে- কাজ শুরু করেন মফিজ ভাই ।
মফিজ : শরিলে তাবিজ কবজ থাকলে খুইল্যা ফেলাইয়্যা দেও ।
রণি তার মায়ের দেয়া রক্ষা কবচটা গলা থেকে খুলে নদীতে ছুঁড়ে মারলো ।
সাথে সাথে লালু বিভত্সভাবে চিত্কার জুড়ে দিলো ।
মফিজ : এই বালডারে(কুকুর) লগে আনসো কিরে ?
রণি : আমি ইচ্ছা করে আনি নাই । ও এমনি আইসে ।
মফিজ হাত দিয়ে ইশারা করতেই লালু চুপ হয়ে গেলো । লেজ পর্যন্ত নড়ছে না ।
রণি উদ্ধিগ্ন হয়ে বললো- লালুর যাতে কিচ্ছু না হয় ।
মফিজ মাথা নাড়িয়ে অভয় দেয় ।
রণি টিশার্ট খুলে ফেলে । মফিজ রণির বুকে কাঁদা মাখে আর বলে- ট্যাকা আনসোতো ?
রণি বাম পকেটে হাত দিয়ে একমুঠো টাকা এগিয়ে দেয় মফিজের দিকে, আর বলে- মফিজ ভাই, কাজ শেষ হলে আমার মোবাইলটা যাতে কেউ না নেয় । এই মোবাইলে একটা গুরুত্বপূর্ণ নাম্বার আছে । আমার খবরটা ওরে পৌঁছে দেয়া খুব জরুরী ।
মফিজ হাসি দিয়ে বলে- এই কুত্তা তোমারে পাহারা দিবো । কেউ কিচ্ছু নিতে পারবো না ।
রণির শরীরে কাঁদা মাখা শেষ হলে উলঙ্গ হয়ে যায় মফিজ । লালু গোঙ্গাতে থাকে । রণির দৃষ্টি আকাশে । হঠাত্ রণির মোবাইলে ম্যাসেজ আসার শব্দ হয় ।
মফিজ চিত্কার করে বলে এই বালডা(সেল ফোন) বন্ধ করো নাই ?
রণি ডান পকেটে হাত দিয়ে মোবাইল বের করে । তাতে লেখা-
"Kobigiri bandho koro. Ban tona mere nijeke marte hobe na. Ami na bolle ki bojha jay na je- 'Ami tomake valobashi.' Chagol kothakar..."

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




