somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

'কবিগিরি'

২৮ শে আগস্ট, ২০১১ সকাল ১১:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সারা দিন থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে । এখন কাঁদায় পা পিছলে যাচ্ছে । রণি নিজেকে সামলে নিতে হিমশিম খাচ্ছে । তারপরও দ্রুতবেগে হাঁটছে । তাকে সময়মতো পৌঁছতে হবে ।
অন্ধকারেও নিজেকে আড়াল করতে পারলো না । প্রতিবেশী রেণু ভাই ডেকে বললো- অতো রাইত গাঙ্গের দিকে যাও ক্যা সাবের পুত ?
রণি অন্ধাকারে হাসি বোঝাতে জোর করে হা হা শব্দ করে বললো- পিরিত করতাম যাই ।

লালু নির্দিষ্ট ছন্দে হাঁটা এবং দৌড়ের মাঝামাঝি গতিতে রণির পেছন পেছন যাচ্ছে । রণি থেমে থেমে লালু নামের কুকুরটাকে বোঝাবার চেষ্টা করছে তার যেয়ে কাজ নেই । তিতাসের পারে কেউ লালুর জন্য রুটি নিয়ে বসে নেই ।

হঠাত্‍ ফোঁস শব্দ হলো ! রণি লাফিয়ে উঠলো । সঙ্গে সঙ্গে পেছনে থাকা লালু লাফিয়ে রণির দ্বিগুন উচ্চতায় উঠলো । লালুর ভয় দেখে রণি যথেষ্ট বিরক্ত হলো এবার । মোবাইলের আলোয় একটা নিরীহ সাপকে দেখা গেলো ।

চাঁদ নেই আকাশে । তবে থোক থোক আলো আকাশজুড়ে । মাঝে মাঝে বিদ্যুত চমকাচ্ছে । বৃষ্টি এলো বুঝি । নদীর পাড়ে সেচ পাম্প বসাবার জন্যে পাকা করে রাখা হয়েছে । সেখানেই মফিজ নামের একলোকের থাকার কথা । রণি দেখার চেষ্টা করলো তার মফিজ ভাই আছে কীনা ।

পাকা জায়গাটায় গিয়ে রণি বসলো । গাঁজার তীব্র গন্ধে দম বন্ধ হয়ে আসছে ওর । বুঝতে পারল মফিজ আসে পাশেই আছে । একটু পর দেখা গেলো মফিজ হাঁটু পানি ভেঙ্গে রণির দিকে আসছে ।
রণি কিছু বলতে যাবে এমন সময় মফিজ বললো- 'নাওয়ে বইয়্যা কামডা সাইরা আইলাম । গাঁজা খাইলেই আমার হাগা ধরে ।'

রণি নাক উঁচিয়ে বলে- কাজ শুরু করেন মফিজ ভাই ।

মফিজ : শরিলে তাবিজ কবজ থাকলে খুইল্যা ফেলাইয়্যা দেও ।

রণি তার মায়ের দেয়া রক্ষা কবচটা গলা থেকে খুলে নদীতে ছুঁড়ে মারলো ।
সাথে সাথে লালু বিভত্‍সভাবে চিত্‍কার জুড়ে দিলো ।

মফিজ : এই বালডারে(কুকুর) লগে আনসো কিরে ?

রণি : আমি ইচ্ছা করে আনি নাই । ও এমনি আইসে ।

মফিজ হাত দিয়ে ইশারা করতেই লালু চুপ হয়ে গেলো । লেজ পর্যন্ত নড়ছে না ।
রণি উদ্ধিগ্ন হয়ে বললো- লালুর যাতে কিচ্ছু না হয় ।
মফিজ মাথা নাড়িয়ে অভয় দেয় ।
রণি টিশার্ট খুলে ফেলে । মফিজ রণির বুকে কাঁদা মাখে আর বলে- ট্যাকা আনসোতো ?

রণি বাম পকেটে হাত দিয়ে একমুঠো টাকা এগিয়ে দেয় মফিজের দিকে, আর বলে- মফিজ ভাই, কাজ শেষ হলে আমার মোবাইলটা যাতে কেউ না নেয় । এই মোবাইলে একটা গুরুত্বপূর্ণ নাম্বার আছে । আমার খবরটা ওরে পৌঁছে দেয়া খুব জরুরী ।

মফিজ হাসি দিয়ে বলে- এই কুত্তা তোমারে পাহারা দিবো । কেউ কিচ্ছু নিতে পারবো না ।

রণির শরীরে কাঁদা মাখা শেষ হলে উলঙ্গ হয়ে যায় মফিজ । লালু গোঙ্গাতে থাকে । রণির দৃষ্টি আকাশে । হঠাত্‍ রণির মোবাইলে ম্যাসেজ আসার শব্দ হয় ।
মফিজ চিত্‍কার করে বলে এই বালডা(সেল ফোন) বন্ধ করো নাই ?

রণি ডান পকেটে হাত দিয়ে মোবাইল বের করে । তাতে লেখা-

"Kobigiri bandho koro. Ban tona mere nijeke marte hobe na. Ami na bolle ki bojha jay na je- 'Ami tomake valobashi.' Chagol kothakar..."
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×