মন খারাপ ?
হুম । কতো দিন পর তুমি এলে । ভেবেছিলাম একটু বসে কথা বলবো । এখানেতো ঢুকতেই দিচ্ছে না ।
শুধু কথা বলবা ? আর কিচ্ছু করবা না ?
এই, চুপ, লাত্থি খাবা ।
দাও না, জোরে জোরে লাত্থি দাও ।
এই আজকে যেভাবেই হোক একসাথে বসার ব্যাবস্থা করো, আমি কিচ্ছু জানি না ।
কফি হাউজে যাবা ?
গতরাতে যে বলেছিলা ?
হুম ।
তোমার বন্ধু আর তার ছাত্রী যে যায় ?
হ্যাঁ ।
কেউ যদি দেখে ফেলে ?
আরে ওখানে কেউ দেখবে না ।
চলো, খুব মজা হবে । আমি খুব এক্সাইটেড ।
টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে । হাসান আর জুঁই যাত্রা করে কফি হাউজের উদ্দেশ্যে । কফি হাউজে কফি পাওয়া যায় না । ফাস্ট ফুডও না । শুধু কোল্ড ড্রিংকস পাওয়া যায় ।
রিক্সা থেকে নেমে কফি হাউজের কালো গ্লাস টেনে ঢুকে পড়ে দু'জন ।
এই কিছু দেখতে পাচ্ছি না ।
এভাবে কেউ জড়িয়ে ধরে জুঁই?
ভয় করছেতো !
কিছুক্ষণ থাকলেই চোখ সয়ে যাবে ।
১৪-১৫ বছরের একটি ছেলে তাদের কাছে আসে । কয় ঘন্টার জন্য রুম নিতে চায় জিজ্ঞেস করে । হাসান দুই ঘন্টার জন্য টাকা দেয় । হার্ডবোর্ড দিয়ে ঘেরা ছোট্ট একটি কেবিনের দরোজা খুলে ছেলেটি অবজ্ঞার দৃষ্টিতে ওদের দিকে তাকিয়ে বলে, দুই ঘন্টা পরে টোকা দিমু, যা করবেন আস্তে, চিল্লাইবেন না । মুচকি হেসে জুঁই-হাসান ঢুকে পড়ে কেবিনে ।
উফ শান্তি ! এতো দিন পরে মনের মতো একটা জায়গা পেলাম । থেংক ইয়্যু হাসু ।
সত্যি ? ভয় করছে না ?
তোমার সাথে থাকলে আমার কোনো ভয় নেই ।
যদি তোমাকে ছেড়ে চলে যাই ?
আমি তোমাকে চিনি, তুমি কখোনো যাবা না । এই... কী করছো ?
জড়িয়ে ধরলাম ।
এটা কী ঠিক হচ্ছে ?
তখন যে তুমি জড়িয়ে ধরলে ?
জুঁই, শোনো- আমরা দুজনেই জেনে শুনে এখানে এসেছি । এতো ভনিতার দরকার নেই । দু'ঘন্টার মধ্যে সব করতে হবে ।
হাসু, এসব কী বলছো !
ঠিকই বলছি । আমাকে বিশ্বাস করো না ? ফিজিক করতে চাই তোমার সাথে । পাশের কেবিনে শব্দ শুনতে পাচ্ছো ? মজা লাগছে না ?
তুমি যেভাবে চাও সেভাবেই হবে হাসু । আমিতো তোমারই । তবে সাবধান, দাগ ফেলা যাবে না । আম্মু কেটে ফেলবে ।
সেদিন দু'ঘন্টা পর আরো একঘন্টার জন্য কেবিন ভাড়া নেয়া হয় । হাসান আর জুঁই সপ্তাহে একদিন করে আসতো সেই কফি হাউজে । তাদের পাশের কেবিন থেকে অনেক সময় কান্নার শব্দ পাওয়া যেতো । বেশির ভাগ ভেসে আসতো শিৎকারের শব্দ । দুমাস এভাবে চলার পর হাসান বিদেশ পাড়ি জমায় । বিদেশ যাবার পর জুঁইয়ের জন্য চার বছর তার ভালোবাসা থাকে । চলতে থাকে 'ফোনসেক্স' । তারপর একদিন হাসান বললো- জুঁই তুমি খুব ভালো মেয়ে, আমাকে ক্ষমা করো, তোমাকে বিয়ে করা আমার পক্ষে সম্ভব নয় ।
জুঁইয়ের পরিবার জানে হাসান তাকে বিয়ে করবে । আত্মীয়েরাও জানে তাই । বিভিন্ন সময় হাসান তাকে ৫৮ হাজার টাকা পাঠায় খরচের জন্য । জুঁই কাঁদে । ইচ্ছে করে 'অসতী' শরীরটায় কেরোসিন ঢেলে আগুন দিক । এই শরীর কী অন্য কোনো পুরুষ ভালোবেসে ছুঁবে ? হাসান যে অসৎ তার বউ কোনদিন হয়তো বুঝবে না । জুঁইকে প্রতিনিয়ত তার সতীত্ব প্রমাণে এটা সেটা বলতে হবে ।
কফি হাউজের ব্যবসা অন্য নামে চলছে । প্রতিদিন নতুন নতুন মেয়েরা তাদের ভালোবাসার প্রমাণ দিতে সম্ভ্রম বিসর্জন দিচ্ছে । হাসানেরা তাদের পুরুষত্ব দেখাচ্ছে ৩/৪ফিট কেবিনের বেঞ্চিতে ।
জুঁই যা করেছে ভালোবেসে, বিশ্বাস করে । হাসানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার মতো প্রমাণ তার কাছে নেই । লোকজন জানাজানি হলে তার মৃত্যু ছাড়াও উপায় নেই । সে একা একা বেঁচে থাকার সিদ্ধান্ত নেয় ।
হাসানেরা কী সত্যিই সুখী হতে পারে জুঁইদের রক্ত মাংস খেয়ে ?
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ৮:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




