somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

'কফি হাউজ' (সত্যি ঘটনা অবলম্বনে লেখা । নারীরা অবশ্য পড়ুন, পশু থেকে নিজেদের নিরাপদে রাখুন ।)

১৫ ই অক্টোবর, ২০১৩ সকাল ১১:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মন খারাপ ?
হুম । কতো দিন পর তুমি এলে । ভেবেছিলাম একটু বসে কথা বলবো । এখানেতো ঢুকতেই দিচ্ছে না । /:)
শুধু কথা বলবা ? আর কিচ্ছু করবা না ? :P
এই, চুপ, লাত্থি খাবা ।
দাও না, জোরে জোরে লাত্থি দাও ।
এই আজকে যেভাবেই হোক একসাথে বসার ব্যাবস্থা করো, আমি কিচ্ছু জানি না । /:)
কফি হাউজে যাবা ?
গতরাতে যে বলেছিলা ?
হুম ।
তোমার বন্ধু আর তার ছাত্রী যে যায় ?
হ্যাঁ ।
কেউ যদি দেখে ফেলে ?
আরে ওখানে কেউ দেখবে না ।
চলো, খুব মজা হবে । আমি খুব এক্সাইটেড । B-)

টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে । হাসান আর জুঁই যাত্রা করে কফি হাউজের উদ্দেশ্যে । কফি হাউজে কফি পাওয়া যায় না । ফাস্ট ফুডও না । শুধু কোল্ড ড্রিংকস পাওয়া যায় ।

রিক্সা থেকে নেমে কফি হাউজের কালো গ্লাস টেনে ঢুকে পড়ে দু'জন ।

এই কিছু দেখতে পাচ্ছি না ।
এভাবে কেউ জড়িয়ে ধরে জুঁই?
ভয় করছেতো !
কিছুক্ষণ থাকলেই চোখ সয়ে যাবে ।

১৪-১৫ বছরের একটি ছেলে তাদের কাছে আসে । কয় ঘন্টার জন্য রুম নিতে চায় জিজ্ঞেস করে । হাসান দুই ঘন্টার জন্য টাকা দেয় । হার্ডবোর্ড দিয়ে ঘেরা ছোট্ট একটি কেবিনের দরোজা খুলে ছেলেটি অবজ্ঞার দৃষ্টিতে ওদের দিকে তাকিয়ে বলে, দুই ঘন্টা পরে টোকা দিমু, যা করবেন আস্তে, চিল্লাইবেন না । মুচকি হেসে জুঁই-হাসান ঢুকে পড়ে কেবিনে ।

উফ শান্তি ! এতো দিন পরে মনের মতো একটা জায়গা পেলাম । থেংক ইয়্যু হাসু ।
সত্যি ? ভয় করছে না ?
তোমার সাথে থাকলে আমার কোনো ভয় নেই ।
যদি তোমাকে ছেড়ে চলে যাই ?
আমি তোমাকে চিনি, তুমি কখোনো যাবা না । এই... কী করছো ?
জড়িয়ে ধরলাম ।
এটা কী ঠিক হচ্ছে ?
তখন যে তুমি জড়িয়ে ধরলে ?
জুঁই, শোনো- আমরা দুজনেই জেনে শুনে এখানে এসেছি । এতো ভনিতার দরকার নেই । দু'ঘন্টার মধ্যে সব করতে হবে ।
হাসু, এসব কী বলছো !
ঠিকই বলছি । আমাকে বিশ্বাস করো না ? ফিজিক করতে চাই তোমার সাথে । পাশের কেবিনে শব্দ শুনতে পাচ্ছো ? মজা লাগছে না ?
তুমি যেভাবে চাও সেভাবেই হবে হাসু । আমিতো তোমারই । তবে সাবধান, দাগ ফেলা যাবে না । আম্মু কেটে ফেলবে ।

সেদিন দু'ঘন্টা পর আরো একঘন্টার জন্য কেবিন ভাড়া নেয়া হয় । হাসান আর জুঁই সপ্তাহে একদিন করে আসতো সেই কফি হাউজে । তাদের পাশের কেবিন থেকে অনেক সময় কান্নার শব্দ পাওয়া যেতো । বেশির ভাগ ভেসে আসতো শিৎকারের শব্দ । দুমাস এভাবে চলার পর হাসান বিদেশ পাড়ি জমায় । বিদেশ যাবার পর জুঁইয়ের জন্য চার বছর তার ভালোবাসা থাকে । চলতে থাকে 'ফোনসেক্স' । তারপর একদিন হাসান বললো- জুঁই তুমি খুব ভালো মেয়ে, আমাকে ক্ষমা করো, তোমাকে বিয়ে করা আমার পক্ষে সম্ভব নয় ।

জুঁইয়ের পরিবার জানে হাসান তাকে বিয়ে করবে । আত্মীয়েরাও জানে তাই । বিভিন্ন সময় হাসান তাকে ৫৮ হাজার টাকা পাঠায় খরচের জন্য । জুঁই কাঁদে । ইচ্ছে করে 'অসতী' শরীরটায় কেরোসিন ঢেলে আগুন দিক । এই শরীর কী অন্য কোনো পুরুষ ভালোবেসে ছুঁবে ? হাসান যে অসৎ তার বউ কোনদিন হয়তো বুঝবে না । জুঁইকে প্রতিনিয়ত তার সতীত্ব প্রমাণে এটা সেটা বলতে হবে ।

কফি হাউজের ব্যবসা অন্য নামে চলছে । প্রতিদিন নতুন নতুন মেয়েরা তাদের ভালোবাসার প্রমাণ দিতে সম্ভ্রম বিসর্জন দিচ্ছে । হাসানেরা তাদের পুরুষত্ব দেখাচ্ছে ৩/৪ফিট কেবিনের বেঞ্চিতে ।

জুঁই যা করেছে ভালোবেসে, বিশ্বাস করে । হাসানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার মতো প্রমাণ তার কাছে নেই । লোকজন জানাজানি হলে তার মৃত্যু ছাড়াও উপায় নেই । সে একা একা বেঁচে থাকার সিদ্ধান্ত নেয় ।

হাসানেরা কী সত্যিই সুখী হতে পারে জুঁইদের রক্ত মাংস খেয়ে ?
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ৮:৩৮
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×