somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"কর্পোরেট ভালোবাসা"

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিকালে আমার এক বন্ধু আমাকে ফোন দিয়ে বলে, "মামা, একটা সমস্যা/প্রবলেম হইছে, তাই তোকে ফোন দিলাম।"
আমি বললাম, "হুম.....সমস্যায় পড়লেই তো কেবল উকিল আর ডাক্তারের কথা মনে হয়! কি সমস্যা বল।"
সে বললো, "দোস্ত, আমার এক ফ্রেন্ডের গার্লফ্রেন্ড প্রেগন্যান্ট হয়ে গেছে। এখন কি করা যায়?"
শুনে আমার মেজাজটা চরম খারাপ হয়ে গেল। ওকে কিছুক্ষণ সমানে ঝাড়ি দিলাম এবং তার ঐ বন্ধুকে আমার এই গরম কথাগুলো বলতে বললাম।
সে আমাকে বলে, "দোস্ত, আসলে সে আমার ঠিক ফ্রেন্ড না, কাছের এক ছোট ভাই। ছেলেটা বিপদে পড়েছে, এমনিতেই মহা দুশ্চিন্তায় আছে; তাই এখন কিছু বলতেও পারছি না। একটা ভুল করে ফেলেছে, এখন কি আর করা যাবে! তুই দোস্ত প্লিজ, রাগ করিস না, একটু হেল্প কর।"
অতঃপর আমি, কতদিন ধরে পিরিয়ড বন্ধ, কবে ফিজিক্যাল রিলেশান হইছে.....ইত্যাদি ডিটেইলস শুনে সে অনুযায়ী কিছু এডভাইজ দিয়ে ফোন রাখলাম।

কিন্তু আমার মন-মেজাজ প্রচণ্ড খারাপ হয়ে রইলো।
প্রেম-পিরিতি(এই টাইপের) জিনিসটা আমি ব্যক্তিগতভাবে খুবই অপছন্দ করি। যেখানে আজকালকার যুগের ভালোবাসা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শরীর কেন্দ্রিক। এখানে মনের খোরাক এর চেয়ে দেহের ক্ষুধাই বেশী প্রাধান্য পায়।
এখনকার পোলাপানের গ্রীষ্মের পড়ন্ত বিকেলে দখিণা হাওয়ায় প্রেমিকার সাথে রিকশায় ঘোরার চেয়ে সন্ধ্যার পরে কোন অন্ধকার রাস্তায় হুড তুলে রিকশায় চিপকা-চিপকি করতেই বেশী মজা লাগে!
কোন এক বরষামুখর দিনে ভিজতে ভিজতে কদমফুল হাতে প্রিয়তমার সাথে দেখা করার চেয়ে তার ভেজা শরীর দেখতেই বেশী ভালো লাগে!
শরতের তুষার শুভ্র কাশবনের তীর ঘেঁসে নৌকায় চড়ে টুকরো টুকরো মেঘের ভেলার অবিরাম ভেসে যাওয়া দেখার চেয়ে সদরঘাট কিংবা আশুলিয়ায় ঘণ্টা হিসাবে ছইওয়ালা নৌকাই বিশেষ পছন্দ!
শীতের ঝরা পাতা মাড়িয়ে বসন্তের মৃদুমন্দ বাতাসে নরম ঘাসের উপর দিয়ে প্রেয়সীর হাত ধরে হেঁটে চলার চেয়ে বন্ধুর মেস কিংবা লিটন ভাই এর ফ্ল্যাটে সময় কাটানোই অধিক আনন্দের!
মেয়েরাও কোন অংশে পিছিয়ে নেই। দুই দিন পর পর বয়ফ্রেন্ড চেঞ্জ করা আর প্রত্যেকের সাথেই বিছানায় যাওয়া যেন এক নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার!
বাসা ফাঁকা, বাবা-মা কেউ নেই; এমতাবস্থায় ফোন দিয়ে বয়ফ্রেন্ডকে আসতে বলা যেন খুব সাধারণ একটা বিষয়!

কর্পোরেট ভালোবাসার এ যুগে যেখানে আত্মিক ভালোবাসার চেয়ে শারীরিক চাহিদাই মুখ্য, সেখানে বন্ধুর এমন ফোন পেয়ে আমার আর কি-ই বা বলার আছে???
২২টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধার-দেনার ক্ষেত্রে ব্যাংকিং চ্যানেল কেন গুরুত্বপূর্ণ

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৯ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৭



ব্যক্তিগতভাবে আমি কাউকে টাকা ধার দেওয়ার পক্ষপাতী নই। কারণ বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, ধার দেওয়া টাকা সময়মতো বা সম্পূর্ণ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক ক্ষেত্রেই কম থাকে। বর্তমানে প্রয়োজনীয় অর্থের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনশন আপডেট

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:০৭

আগামী শুক্রবার জাতীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ব্যারিস্টার সুমন ভাইয়ের মুক্তির দাবীতে ১ ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি করার লক্ষ্য স্থাপন করেছি। এই ১ ঘণ্টা আমি কোন খাবার বা পানীয় গ্রহণ করবো না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২২



আজ শুক্রবার। শুক্রবার মুসলমানদের জন্য বিশেষ একটি দিন।
আজ বাংলা আষাঢ় মাসের ৫ তারিখ। যদিও বর্ষাকাল। আজ আকাশে মেঘ নেই। বরং রোদ উঠেছে। রোদের তাপ ভালোই। শাহেদ পথে বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউরোপের সবচেয়ে বড় ফিনটেঁক কোম্পানী রিপাবলিক ইউরোপকে ছেড়ে দেওয়ার সত্য ঘটনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩

বাংলাদেশের আইটি ফার্মগুলোর মাঝে আমার ফার্মই তাঁর ইঞ্জিনিয়রাদের সবচেয়ে বেশি বেতন দিতো। আমার সিনিয়র রুবি অন রেইলস ব্যাকএন্ড ডেভেলপার ছিলো রিফাত। বয়স ৩০, সেই বয়সেই সে মাসে পেতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে এসো পূর্ণিমায়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



তুমি ছাড়া ভালো লাগে না পূর্ণিমা চাঁদ, তুমি লুকিয়ে চন্দ্রিমার হলুদ বর্ণে। মায়াবী জোছনা মাখা রাত সবই যেন নিস্ফল, মন যেন হারিয়েছে আঁধারে সব সময় কাঁদে। চারিদিকে যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×