বাসের ভিড়ে এক লোক পা নাচাচ্ছে আর জুতা দিয়ে একটু পর পর টাক টাক করে শব্দ করছে। আশেপাশের মানুষ ঠাহর করতে পারছে না শব্দ কোত্থেকে আসছে। এমনিতেই ভিড় ও গরমে লোকজন অস্থির, তার ওপর আবার বিটকেলে শব্দ। কিন্তু শব্দের উৎস অনুধাবন করা যাচ্ছে না। মানুষের রাগ তখন চরমে। তাই দেখে একজন মন্তব্য ছুঁড়ল, "পাগলের সুখ মনে মনে।" কারণ যে পা দিয়ে শব্দ করছে সে তার মনে মনে এক ধরনের সুখ পাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে সেটা সুখ পাওয়ার মত কোন বিষয় নয়, বরং অনেকগুলো মানুষের বিরক্তি ও দুর্ভোগের কারণ। যাহোক ঐ ব্যক্তি ইঙ্গিতটি ধরে ফেলেছে। বিনা বাক্য ব্যয়ে সে পা দিয়ে শব্দ করা বন্ধ করে দিয়েছে।
এখন পাগল একজন নয়। একজনের পাগলামী হয়তো সহ্য করা যায়। কিন্তু যখন আশেপাশের সব মানুষ পাগলের মত আচরণ করে তখন সহ্য করা দায়। এখনতো শুরু হয়েছে পুরো বৎসর জুড়ে পাগলামী। আজ আর্জেণ্টিনা ব্রাজিলের খেলা, কাল বিশ্বকাপের ফাইনাল, অমুক দিন বাংলাদেশ ভারত ম্যাচ, তমুক দিন অমুক কর্তৃক দেশের ক্রিকেটীয় মানহানীতে সাড়া দেশে তোলপাড়। কখনো হ্যাপী, কখনো মওকা। আশেপাশে যতদূর চোখ যায় বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে শুধু পাগলদের পাগলামী। অফিস আদালত বিলবোর্ড নেট সবখানে পাগলদের ঠাক ঠাক ঠাক ঠাক কর্কশ শব্দে জীবন অতীষ্ঠ। সীমান্তের কাঁটাতার পেরিয়ে পাগলামী এখন আন্তর্জাতিক।
কোথাও এমন কাউকে দেখা যাচ্ছে না যে জোরগলায় বলে, এবার থাম, পাগলামী বন্ধ কর। যদি কেউ বলেও ফেলে তবে তাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে থামিয়ে দেয়া হয়। আমার যেমন ইচ্ছা তেমন চলব, যা খুশি তা করব। এতে যদি কারো আপত্তি থাকে তাহলে বাপু আমার কিছু করার নেই। সভ্য সমাজে মানুষজন খেলবে, হৈ-হুল্লোড় করবে, বড় বড় মেয়েরা ছেলেরা এক জায়গায় বসে চীৎকার করবে, নাচবে, এর মধ্যে ঘটে যাবে কত ঘটনা। কিন্তু কেউ যেন না বলে এটা পাগলামী। এটাই এখন মনুষ্যত্ব, এটাই রীতি, যুগের চাহিদা। যুগের কাছে ঈমান, নেক আমল সবই তুচ্ছ। হে মোল্লারা! তোমরা আমাদের থামিয়ে দিতে চাও, তোমরা যাকে বল জাহান্নাম, আমরা তাকেই বলি জান্নাত।
কিন্তু পাগল বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে বেখবর। তাদের প্রতিটি আনন্দ চিৎকার অচিরেই জাহান্নামের গলিত শিশা হয়ে তাদের নিজ নিজ কানে প্রবেশ করবে। কারণ তাদের শোরগোলে পৃথিবীতে দ্বীন, ইনসাফ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। পৃথিবীতে মানুষ একমাত্র আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করবে। কিন্তু তাদের প্ররোচনায় মানুষ শয়তানের উপাসনা করছে।
কাজেই যারা চার, ছয়ে চীৎকার দিবে, উইকেট উপড়ালে হাসবে অথবা কাঁদবে তারা প্রকৃতপক্ষে পাগল। রান ও স্কোর বিষয়ে তাদের প্রতিটি আলোচনা পাগলের প্রলাপ। এগুলো তাদের মনের অন্তরস্থ মূল্যহীন আবেগ ছাড়া আর কিছুই নয়। কিসে হাসতে হয়, আর কোন বিষয়ে কাঁদতে হয় এসব অভাগারা জানে না। অর্থবহ আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে তারা অজ্ঞাত। এ পার্থিব জীবন তাদের কাছে কেবলই ক্রীড়া-কৌতুক। তাদের হৃদয়ে মানুষের হেদায়েতের তামান্না নেই, বরং তাদের অন্তরে বাসা বেঁধেছে অর্থহীন ক্রীড়া-কৌতুক।
অতএব, যারাই পাগলামী করবে তারাই সত্য দ্বীন থেকে বহু দূরে। যদিও তারা আল্লাহু আকবার ধ্বনি দেয়, যদিও তাদের খুবসুরত দাড়ি থাকে, যদিও তারা খেলার মধ্যেই সালাতে মগ্ন হয়, এমনকি দ্বীনের মেহনত করে। কারণ তাদের হৃদয় এখনো জাহেলিয়াত ছাড়তে পারেনি।
সকল পাগলদের কাছে নিবেদন, দয়া করে আল্লাহ তায়ালার ভয়ে সত্যকে আলিঙ্গন করুন, অল্প সময়ের মিথ্যা সুখ আপনাকে চির বাস্তব হাশরের দিনের মুখোমুখি হওয়া থেকে বাঁচাতে পারবে না।
===========================================================
হযরত আনাস রাযিআল্লাহু তায়ালা য়ানহু হতে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, (অনুবাদ) "মানুষের ওপর এমন এক কাল আসবে যখন দ্বীনের ওপর অটল থাকা হাতে আগুনের আঙড়া নিয়ে দাড়িয়ে থাকার মত কঠিন হবে।"
হযরত আবু হুরাইরা রাযিআল্লাহু তায়ালা য়ানহু বলেন, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, (অনুবাদ) "ফেতনাসমূহ প্রকাশ হওয়ার পূর্বেই যা নেক য়ামল করার দ্রুত করে ফেল। কেননা ফেতনা সমূহ অন্ধকার রাত্রির অংশের মত হবে। (অর্থাৎ বুঝা যাবে না ফেতনায় পতিত হয়েছে কিনা।) ঐ ফেতনার সময় মানুষ সকালে মু'মিন থাকবে সন্ধ্যায় কাফের হয়ে যাবে। অথবা সন্ধ্যায় মু'মিন থাকবে সকালে কাফের হয়ে যাবে। দুনিয়ার তুচ্ছ লাভের আশায় স্বীয় দ্বীনকে বিক্রী করে দিবে।"
===========================================================
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মার্চ, ২০১৫ রাত ১১:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





