somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সীমার ভিতরে অসীম আমি

২৫ শে মার্চ, ২০১৫ রাত ১০:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মানব জীবনের এমন কোন জায়গা নেই যেখানে ইসলাম তার হাত বিস্তৃত করেনি। আমি 'অদ্ভুত' হয়ে যাই এ কি করে সম্ভব! মানবের পদচিহ্ন পড়বে এমন কোন স্থান কোথাও বাকী নেই যেখানে ইসলামের দিক-নির্দেশনা নেই। যে কেউ এর হাত ধরবে ইসলাম তাকে টেনে ওঠাবে। আর যে ছেড়ে দিবে সে নীচে পড়ে যাবে। ইসলাম পুরুষদের এক এক করে চারটা বিয়ে করার অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু ইসলাম দু' স্ত্রীকে একত্রে ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। এমনকি এক স্ত্রীর গোপন কথা অন্য স্ত্রীকে বলার অনুমতিও দেয়নি। আপনি একাধিক বিয়ে করতে পারেন কিন্তু বেগানা নারীর দিকে প্রথমবার আঁখি পড়লে নামিয়ে নিতে হবে, দ্বিতীয়বার আপনি সেখানে তাকাতে পারেন না। আপনি ফুফু বা খালার সাথে যতটা সহজে সাক্ষাৎ করতে পারেন শালী বা ভাবীর সাথে ততটা সহজে সাক্ষাৎ করতে পারেন না। ইসলাম সব কিছুর সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়েছে। কেউ যদি এসব সীমারেখার মধ্যে থাকে পৃথিবীর এমন কোন শক্তি নেই যে তাকে ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারবে।

এনেস্থেসিয়া ও আইসিইউতে কাজ করতে গিয়ে মানুষের বহু দুর্বল মুহূর্ত দেখার সুযোগ হয়। অনেক মুক্তমনাদের চিকিৎসা দেই। রাতবিরাতে ঘুমের অষুধ খেয়ে এসেছে, ফাঁসি নেয়ার ব্যর্থ চেষ্টা অথবা মদ খেয়ে টাল হওয়া মুক্তমনা জীবনে কম দেখিনি। প্রতিটি অঘটনের পেছনের কারণ খুব স্পষ্ট। আর তা হল আল্লাহ তায়ালা ও আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের পথনির্দেশ অনুসরণ না করে শয়তানের অনুসরণ করা। একবার এক নেশাগ্রস্থ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়ের পিতা আক্ষেপ করছিল। "আমার মেয়ের কেন এ অবস্থা হল! জানেন ডাক্তার সাহেব, আমার মেয়েটি সারা দেশে শ্রেষ্ঠ আবৃত্তিশিল্পীদের একজন। আমি নিজে একজন জনপ্রিয় গীতিকার। আমার মেয়ের কেন এরকম হবে!" মুচকি হেসে মনে মনে বলি, আপনার মেয়ের এ অবস্থা হবে না তো কি ইসলামের গন্ডীর মধ্যে যে মেয়েটি চলতে অভ্যস্ত তার হবে? মনের কথা মনেই থাকে। ইচ্ছে থাকলেও সব কথা বলা হয়ে ওঠে না। ইসলাম কর্তৃক নির্ধারিত সীমার বাহিরে গিয়ে কাউকে লাভবান হতে দেখিনি। আল্লাহ তায়ালা সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে ভালবাসেন না।

গতকাল দেখি ওটির ভেতর সরগরম। ওটি টেবিলে শোয়া ব্যক্তিটি তার জীবনের দুর্দশা ডাক্তারদের কাছে বর্ণনা করে যাচ্ছে। তার স্ত্রী ব্লেডের পোচে তার পুরুষাঙ্গকে প্রায় বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। পুরো রক্তারক্তি অবস্থা ছিল। রোগীকে সেটেল করে কোমর থেকে নীচের অংশ অবশ করা হয়েছে। ক্যামেরার ফ্ল্যাশ পড়ছে একের পর এক লোকটার কর্তিত বস্তুটির ওপর যা এখন রিপেয়ার করা হবে। ব্যতিক্রমী আইটেম হিসেবে অনেকেই যার যার মোবাইলে সেভ করে রাখতে চাচ্ছেন। লোকটার বক্তব্যের সারমর্ম হল তার দু' স্ত্রী। এমনিতে পৃথক আবাসস্থল দু'জনের। কিন্তু সেদিন ঘটনাচক্রে দু'জনকে নিয়ে রাত্রিযাপন করতে হল। হয়তো এর মধ্যে অন্য কোন ঘটনা ছিল। হয়তো তার এক স্ত্রী আত্মভিমানে পাগলপ্রায় হয়ে কান্ডটি ঘটিয়েছে। কিন্তু ইসলামী শরীয়ত তাকে পূর্বেই সতর্ক করেছিল। দু' স্ত্রীর সাথে একত্রে রাত্রিবাস করা যাবে না। যদি বেচারা লোকটি উপদেশ গ্রহণকারী হত তাহলে নিশ্চিত বলা যায় তাকে এরকম কোন লজ্জার মুখোমুখি হতে হত না।

সীমালঙ্ঘন বিষয়ে কুরআন শরীফে অনেক আয়াত আছে। সব থেকে বড় সীমালঙ্ঘন হচ্ছে কুফরী করা। কুফরী হল আল্লাহ তায়ালাকে অস্বীকার করা, তাগুতের আনুগত্য করা, আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে তামাশা মশকরা করা, ইসলামের বিধিবিধান নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রূপ করা। ভাই তুমি মানতে চাও না মেনো না, কেউ তোমাকে জোর করবে না। কিন্তু আঘাত যেন করো না। দেখুনঃ

فَأَمَّا مَن طَغَىٰ

وَءَاثَرَ ٱلۡحَيَوٰةَ ٱلدُّنۡيَا

فَإِنَّ ٱلۡجَحِيمَ هِيَ ٱلۡمَأۡوَىٰ

"সুতরাং যে সীমালঙ্ঘন করেছে,
এবং পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়েছে,
জাহান্নামই হবে তার বাসস্থান।"
(সূরা নাযি'য়াত, আয়াত ৩৭ - ৩৯)

অতএব ইসলামের কন্ঠস্বর বুঝার চেষ্টা করুন, এ বিষয়ে আলোচনা করুন। নিশ্চিত ক্ষতি থেকে নিশ্চিত সফলতার পথে হাঁটুন।
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×