somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার আমি.................(3)

১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ১২:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার জীবনে অনেক ব্যতিক্রমী শিক্ষালাভের অভিজ্ঞতা আছে। যেমন সংগীত চর্চা আর আরবী শিক্ষা।আমাদের হুজুর আসতেন প্রতিদিন বিকাল 4 টার সময়। অজানা কারনে সাধারন বাংলাদেশীদের থেকে উনার সময়জ্ঞান ব্যতিক্রম ছিল। কাঁটায় কাঁটায় 4টায় উনি বাসার বেল বাজাতেন। আমি এজন্য উনার উপর প্রচন্ড বিরক্ত ছিলাম। আরবী পড়ার থেকে বিকালে খেলাধূলাতে আমার আগ্রহ বেশি ছিল। কিন্তু বাবা-মার আদেশ অগ্রাহ্য করে ফাঁকি মারার সাহস হতো না। শুক্রবারে মেজাজ আরও খিঁচিয়ে থাকত। বিটিভিতে থান্ডারক্যাটস শুরু হওয়ার সাথে সাথে হুজুর চলে আসতেন।

কিছুদিনের মধ্যেই হুজুরের বাড়াবাড়ি সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেল এবং আমি ফাঁকিবাজির ধান্ধা শুরু করলাম। আমি লক্ষ্য করলাম আব্বা সোয়া চারটা নাগাদ বাসা থেকে বেরিয়ে যান। হুজুরের কাছে আমার দায়িত্ব ছিল সিপারার প্রথম 12 টা সুরা পড়া। দু'য়ে দু'য়ে চার মিলাতে সময় লাগলো না। 12 টা সুরা ঠা ঠা মুখস্ত করে ফেললাম। যাকে বলে "মুখস্ত, ঠোঁটস্ত, হেপজো, ঝরঝরা" (আমার এক স্কুলের শিক্ষক এই কথা বলতেন)। হুজুর পড়ানো শুরু করলে আমি ধীরে-সুেসহ পড়া শুরু করতাম। যাকে বলে দেখেশুনে ব্যাট করা...পুরা জাভেদ ওমর স্টাইল।আব্বা বাসা থেকে বের হলেই চালু হয়ে যেত মুখস্তবিদ্যার এক্সপ্রেস ট্রেন, যাকে অ্যাডাম গিলক্রিস্টের ব্যাটিং বলা যায়। আর ফলাফল 5 মিনিটের মধ্যে কঙ্খিত মুক্তি।

হুজুর যে চেষ্টা করেন নি তা নয়, কিন্তু আগ্রহ যার নেই তাকে দিয়ে জোর করে কিছু করান খুবই কঠিন। তারপর পাত্র যদি হয় আমার মত সেয়ানা ঘুঘু, তাহলে তো কথাই নেই। এখানে একটা বিশ্লেষন দরকার, তা হলো শুধু শুধু একটা অর্থহীন কিছু থেকে শিক্ষালাভ করা আমার স্বভাব ও নীতির বিরুদ্ধে। আরবী পড়ে গেলাম, কিন্তু এক বর্ণও বুঝলাম না, এ জাতীয় অশিক্ষা লাভে আমি কখনই আগ্রহবোধ করিনি । আরেকটা কথা, জীবনে যখন মনে হয়েছে আমাকে অর্থহীন কিছু শেখানো হচ্ছে, আমি কখনও তা শেখার চেষ্টা করি নি।

যেমন- বানরের তৈলাক্ত বাঁশে উঠার গাণিতিক সমস্যা। মানুষ আর বানরের বুদ্ধিমত্তা মোটামুটি কাছাকাছি। আমার ধারণা ছিল ও এখনও আছে যে বানর তৈলাক্ত বাঁশ বেয়ে উঠার প্রচেষ্টা কখনই করবে না। দু'একবার চেষ্টা করে ওই বাঁশ ছেড়ে দিয়ে ভাববে "এই বাঁশে উঠলাম না।দেশে কি বাঁশের অভাব পড়েছে?" আরও একটা তাজ্জব ব্যাপার হলো কে সেই ব্যক্তি, যার কাজ নেই বাঁশে তেল মাখাতে যাবে?বলাইবাহুল্য এ জাতীয় গাণিতিক সমস্যা সমাধানে আমার চেষ্টার অনেক ত্রুটি থাকত। আর আমার পিতৃদেব এই প্রাপ্ত সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিরাশি সিককার চড়-থাপ্পড় দিতে কার্পণ্যবোধ করতেন না। যাই হোক একইভাবে বাংলা ব্যকরণ ছিল আমার দু'চোখের বিষ। আমি কখনই ব্যকরণ পড়ার মানে খুঁজে পাই নি। এরকম অজস্র উদাহরন আছে আমার শিক্ষাজীবনে।

সংগীত চর্চার শুরুটা অবশ্য খারাপ ছিল না। আমার দৌড় ছিল ছড়া গান পর্যন্তএবং এই বিদ্যা আমার মন্দ লাগত না। কিন্তু ঘন ঘন শিক্ষক বদল আমার এই বিদ্যাশিক্ষার উপর অনীহা ধরিয়ে দিল। নতুন সংগীত শিক্ষক এসেই বলতেন আগে যা কিছু শিখেছি সব নাকি ভুল। তাই আবার সা রে গা মা থেকে শুরু করতে হবে। এসময় আমার বদ্ধ ধারণা জন্মে যায় যে আমাদের দেশের সংগীত শিক্ষার কোন স্ট্যান্ডার্ড নেই। যে যার মত শিখায় ও নিজেকে জাহির করার চেষ্টা করেন। তবে ব্যাপারটা যে বাংলাদেশে শুধু সংগীতের জগতে সীমাবদ্ধ নয় তা বোঝার মত যথেষ্ঠ জ্ঞান আমার তখনও হয় নি


(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:০৩
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ খোকার অভিমান

লিখেছেন ইসিয়াক, ২০ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৬:৪৬


খোকা খাবে মুড়ি মুড়কি, মা দিলো খই
এই নিয়ে অশান্তি, ব্যাপক হই চই।

বাবা যাচ্ছে হাটে, খোকা পিছু ছোটে
বকা খেয়ে ঘরে ফিরে কাঁদছে মাথা খুঁটে। 

কত কাজই... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ইকারুস: বালির নীল গোলকধাঁধা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:১২



কুয়ালালামপুর অপারেশনের ঠিক সাতদিন পর। ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের ‘নগুরা রাই’ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যখন একটি প্রাইভেট চার্টার্ড বিমান ল্যান্ড করল, তখন বালির আকাশ জুড়ে গোধূলির রক্তিম আলো।

বিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

যদি কামের কাম না হয়, সংখ্যা দেখলে বিগাড় ওঠে

লিখেছেন অপলক , ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:২২



বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল বর্তমানে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট। এতেই রুগিরা সেবা পায়না, অপরিচ্ছন্ন, লোকবল নেই, যন্ত্রাংশ নষ্ট, ওষূধ নেই, ১৫০০ শষ্যাবিশিষ্ট করে লাভ কি? সেবা নিশ্চিত হবে না...

এখন ডাক্তাররা... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি কার জন্য বাঁচো? কীভাবে এ-আই দিয়ে কভার সং তৈরি করি?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৩৩

প্রথমত, এ-আই দিয়ে গান তৈরি করা অনেক সহজ। আপনি নিজে কোনো লিরিক না লিখে, কোনো সুর তৈরি না করেও এ-আই-তে প্রম্পট দিয়েই গান তৈরি করে ফেলতে পারেন। তবে সেটা আপনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পলাশবাড়ীর মূর্তি বিতর্ক, ধর্মীয় স্থাপনার আড়ালে কি অন্য কোনো নীলনকশা?

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:১৪

সাম্প্রতিক ভূরাজনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার সমীকরণে হাইব্রিড ওয়ারফেয়ারবা অপ্রতিসম যুদ্ধকৌশল এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যার প্রধান লক্ষ্যবস্তু রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সামাজিক ফাটল ও অননুমোদিত কাঠামোর মাধ্যমে মানুষের মনস্তত্ত্ব নিয়ন্ত্রণ করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×