somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রিকশায় একদিন

২৩ শে জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ১:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রিকশায় আসছিলাম ঢাকা কলেজ থেকে লালমাটিয়া। সময়টা হবে 1998 সালের মাঝামাঝি। তখন এতো নিয়ম-কানুন ছিল না। সব রাস্তাতেই রিকশা চলত। আর অফিসের সময় পার হলে রাস্তা মোটামুটি ফাঁকাই থাকত। তা রিকশাওয়ালা ভাই খুব জোশে ছিলেন ওই দিন। এলিফ্যান্ট রোডের মোড় পেরিয়ে রিকশা চালানো শুরু করলেন উল্কাবেগে। ভাব-সাব দেখে মনে হলো কপালে খারাবি আছে। এই গতিতে চলতে থাকলে ট্রাকের নিচে পড়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে। একথা বলতেই এক গাল হেসে বললেন, "ভাইজান কি ডরাইছেন"। আমার মেজাজ গেল খিঁচড়ে, বললাম আমার ভয়ের তো কিছু নাই। বিয়ে-শাদী করি নাই। তাই আমি মরলে দুনিয়াতে কোন লেজ রেখে যাব না। আরও বললাম "আপনি মরলে আপনার পরিবারের কি হবে?" এর উত্তরে তিনি আমাকে আশ্বস্ত করলেন যে মরার নাকি কোন চান্স নেই। আর তার কাচ্চা-বাচ্চা নাই। তাই মারা গেলে নাকি তেমন কিছু হবে না।

আমি আর কথা বাড়ালাম না। দেখতে দেখতে রাপা প্লাজার মোড় চলে আসল। তখন ওই মোড়টাকে 27 নম্বর মোড় বলে সবাই চিনত। যাই হোক, বেরসিক ট্রাফিক সার্জেন্ট কথা-বাতর্া নেই, হাত তুলে থামতে আদেশ দিলেন। কিন্তু রিকশাওয়ালা ভাই যে স্পিডে যাচ্ছিলেন, তাতে এত স্বল্পসময়ের নোটিশে থামা সম্ভব ছিল না। আবার ততক্ষনে অন্যদিকের গাড়ি চলা শুরু হয়ে গেছে। বেগতিক বুঝে সে কষে ব্রেক করল। কিছুক্ষন মাথা কাজ করছিল না। একটু ধাতসহ হতে দেখলাম, আমি রিকশাওয়ালার সিটে, রিকশাওয়ালা রিকশার বাইরে হাত-পা ছড়িয়ে চিৎপটাং আর সামনের চাকার আঘাতে ট্রাফিক সার্জেন্ট ধরাশয়ী।

আর আশেপাশের যাত্রীরা আমাদের দুরবসহা দেখে 32 পাটি দাঁত বের করে হাসছে। সার্জেন্ট সাহেব উঠে দাঁড়িয়ে প্রথমেই রিকশাওয়ালাকে দু'ঘা লাগিয়ে দিলেন। তারপর দেখি 2 কনস্টেবল এসে আরও চার ঘা বসিয়ে দিলেন। বাঘে ছুলে 18 ঘা আর পুলিশ ছুঁলে নাকি ছত্রিশ ঘা, তা বেচারা রিকশাওয়ালার অবসহা দেখে বুঝতে পারলাম। ট্রাফিক সার্জেন্টকে একটু অনুরোধ করে বললাম যে আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে, উনারা যদি একটু রিকশাওয়ালাকে ছেড়ে দেন তাহলে আমার বিশেষ উপকার হয়। আমি বাংলাদেশের যে কয়জন পুলিশের শরনাপন্ন হয়েছি বা পুলিশ আমার শরনাপন্ন হয়েছেন, তাদের সিংহভাগ-ই খাঁটি ভদ্্রলোক ছিলেন। কখনও কেউ আমার কাছে ঘুষ চান নি বা আমাকে হয়রানি করাননি। ইনিও ব্যতিক্রম ছিলেন না। আমার কথায় আরও দু'ঘা লাগিয়ে বেচারাকে ছেড়ে দিলেন। বলাইবাহুল্য এতে 2 কনস্টেবল খুবই মনঃক্ষুন্ন হয়েছিল।

এর বছর দু'য়েক পর, আমি এক ভদ্্রলোককে একই অবসহায় ধানমন্ডিতে দেখেছিলাম। রিকশার ব্রেকের কারনে স্যুট-প্যান্ট পরা ভদ্্রলোক ছিলেন রিকশার সিটে, আর রিকশাওয়ালা যথারীতি রিকশার বাইরে। খুবই হাস্যকর দৃশ্য। কিন্তু মন খুলে হাসতে পারি নাই। হাসব কিভাবে? নিজেও যে ওই একই ঝাঁকের কই!!!!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গুম আর গুপ্ত

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫


খোঁজ করলে দেখাি যাবে, কুকুর-বিড়াল পালকদের অনেক কাছের আত্মীয়-পরিজন অনেক কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে। তাদের প্রতি কোনও দয়া-মায়া নেই; অথচ পশুদের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৮৯

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৫



মসজিদে বসে মদ খেতে দাও, অথবা সেই জায়গাটা দেখাও যেখানে আল্লাহ নেই।

বহুদিন ধরে গল্প লেখা হয় না!
অথচ আমার গল্প লিখতে ভালো লাগে। সস্তা প্রেম ভালোবাসা বা আবেগের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯


মনে আছে ছেলেবেলায়
ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি এলে,
পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে
হাঁটতাম পথে এলেবেলে।

অতীত দিনের বৃষ্টির কথা
কার কার দেখি আছে মনে?
শুকনো উঠোন ভিজতো যখন
খেলতে কে বলো - আনমনে?

ঝুপুর ঝাপুর ডুব দিতে কী
পুকুর জলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তালেবান ঢাকায়, রাষ্ট্র ঘুমায়

লিখেছেন মেহেদি হাসান শান্ত, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩২

জুলাই অভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশে অনেক কিছু নতুন হইছে। নতুন সরকার, নতুন মুখ, নতুন বুলি। কিন্তু একটা জিনিস খুব চুপচাপ, খুব সাবধানে নতুন হইতেছে, যেইটা নিয়া কেউ গলা ফাটাইতেছে না। তালেবানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুখোশ খুলে গেছে ও আয়না ভাঙ্গা শুরু হয়েছে!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:৫৬

মুখোশ খুলে গেছে ও আয়না ভাঙ্গা শুরু হয়েছে!

image upload problem

বাংলাদেশে একসময় খুব জনপ্রিয় একটা পরিচয়-“আমি সুশীল”, “আমি নিরপেক্ষ”, “আমি কোনো দলের না”। এই পরিচয় ছিল আরামদায়ক, নিরাপদ, সম্মানজনক। এর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×