somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টুয়েন্টি নাইন

২৩ শে জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ৯:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি তাস তেমন ভালো খেলতে পারতাম না। স্পেডট্রাম, ব্রে আর কার্ডমিলানো পর্যন্ত ছিল আমার দৌড়। ইউনি ভার্সিটিতে উঠে দেখি হলে সবাই টুয়েন্টি নাইন খেলে। বড়ই আজব খেলা। খেলার সময় চলে স্লেজিং, কার্ডে বাড়ি দেওয়া, কেন কার্ডে বাড়ি দিল এই নিয়ে চেঁচিয়ে রুম মাথায় তোলা, লাল সেট খাওয়া, কালো সেট খাওয়ানো, সব মিলিয়ে ধুন্ধুমার অবসহা। মাঝে মাঝে দেখি হেরে গিয়ে পার্টনারের 14 গুষ্টি উদ্ধার করা হচ্ছে। আবার মাঝে মাঝে দেখি জিতে গিয়ে পার্টনারকে নিয়ে কোক-সিগারেট খাওয়া হচ্ছে।

এরপর দেখলাম রুম বেইজড খেলা শুরু হলো। একদল এসে বলে গেল পারলে আমার রুমে আয়, কালা সেট 3 টা দিব। ফলে কিছুদিনের মাঝেই রুম মেটদের নিয়ে রুমে রুমে দল গড়ে উঠল। এক রুমের সাথে আরেক রুমের কম্পিটিশন। হোম-এ্যাওয়ে ভিত্তিতে খেলা। আবার মীমাংসা না হলে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলা চলে। বিশাল অবসহা বলে যাকে আর কি।

দ্্বিতীয় বর্ষে এসে এই বিশেষ খেলা শেখার সৌভাগ্য হলো। আমার টুয়েন্টি নাইনের হাতে-খড়ি হলো পাশের রুমের লুলু পাগলার হাতে। প্রেমে ছ্যাঁকা খেতে খেতে আমাদের এই বন্ধু ইউনিভার্সিটির 2য় বর্ষেই এই খেতাব লাভ করেছিল। লুলুর খেলার হাত কেমন ছিল তা জানি না, তবে বেশিরভাগ সময়ই ও হেরে যেত এবং পার্টনারকে শাপ-শাপান্ত করত। এজন্য ওর সাথে কেউ খেলতে চাইত না।

যাই হোক লুলুর তত্ত্বাবধানে আমি ও আমার রুমমেটরা শীঘ্রই টুয়েন্টি নাইনে সিদ্ধহস্ত হয়ে গেলাম। তার প্রমাণ পেলাম খেলা শেখার 3 দিনের মাথায়, যখন লুলু এন্ড কোং 3 টা কালো সেট খেয়ে বসল ও লুলু ঘোষনা দিল যে এই রুমে সে আর খেলবে না। তার কারন পার্টনার হিসাবে আমরা যাচ্ছেতাই আর তাছাড়া এই রুমে নাকি ওর ভালো কার্ড পড়ে ন। একথা অন্য কেউ বললে আমরা খবর করে দিতাম তাতে সন্দেহ নেই, কিন্তু লুলুর ব্যাপারে সবকিছু প্রযোজ্য, পাগল সম্রাট বলে কথা। তাই কিছু না বলার সিদ্ধান্ত নেই।

এরই মাঝে আরেক নবিস দূদর্ান্ত খেলোয়াড়ের আগমন ঘটে। আমাদের রুমের প্রতিবেশী রুমের বাসিন্দা মাসুদ আলম। একদিন খেলা চলছে মাসুদ ও তার রুমমেট মঙ্গল আমাদের লাল সেট দেওয়ার পথে।টান টান উত্তেজনা। প্রথম দফা কার্ড বাটা হলো। মাসুদ আলম ডাক দিয়ে বসল 20। সম্ভবত মঙ্গলের কার্ড ভালো ছিল, মঙ্গল ডাকল একুশ। আমি আর আমার পার্টনার খুশি, ওদের নিজেদের মাঝে ডাকাডাকিতে। মাসুদ এতে খুবই বিরক্ত হয়ে ডেকে বসে বাইশ। মঙ্গল এ পাযর্ায়ে মাসুদকে থ্রেট দিয়ে বসে জিততে না পারলে ওর খবর আছে। মাসুদ বেচারা এই হুমকিতে কাবু হয়ে সেভেন কার্ডে রঙ করার আবেদন জানায়। কিন্তু মঙ্গলের চেঁচামেচিতে সে সাহস না করে সেভেন কার্ডে রঙ না করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই মাঝে ঘটনা বুঝে আমি ও আমার রুমমেট ডাবল দিয়ে বসি। মঙ্গল উত্তেজনায় দিয়ে বসে রি-ডাবল।

দ্্বিতীয় দফা কার্ড বন্টন হয়ে যায় এরই মাঝে। আমরা সবাই উত্তেজিত। আমাদের হয় ছককা নয় মককা কন্ডিশন। খেলা শুরু হবে, তখন মাসুদ বলে বসে তার একটা প্রশ্ন আছে। কি? জিজ্ঞাসা করতে সে বলে, কেউ যদি সেভেনে রঙ না করে এমনি রঙ করে ও তারপর রঙ কার্ড না পায় তবে খেলা হবে কিনা। আমরা তো ততক্ষনে বুঝে গেছি মাসুদ মিয়ার অবসহা। খেলব আর কি?একথা শুনে শুরু হলো আমাদের বেদম হাসি। একটু সুসিহর হতে মঙ্গলের কথা মনে পড়ল। দেখি কোথায় মঙ্গল? রাগে-দুঃখে সে রুম ছেড়ে অনেক আগে বেরিয়ে গেছে। আর মাসুদের দিকে তাকাতে শুনি বেচারার আর্তি "তোদের রুমে কি আজকে রাতে থাকা যাবে?"

এ ঘটনার পর মাসুদ আলম আর কখনও 18-এর বেশী টুয়েন্টি নাইনে ডাকে নি। 19-এ কল গেলে সে পাস দিয়ে দিত।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গুম আর গুপ্ত

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫


খোঁজ করলে দেখাি যাবে, কুকুর-বিড়াল পালকদের অনেক কাছের আত্মীয়-পরিজন অনেক কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে। তাদের প্রতি কোনও দয়া-মায়া নেই; অথচ পশুদের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৮৯

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৫



মসজিদে বসে মদ খেতে দাও, অথবা সেই জায়গাটা দেখাও যেখানে আল্লাহ নেই।

বহুদিন ধরে গল্প লেখা হয় না!
অথচ আমার গল্প লিখতে ভালো লাগে। সস্তা প্রেম ভালোবাসা বা আবেগের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯


মনে আছে ছেলেবেলায়
ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি এলে,
পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে
হাঁটতাম পথে এলেবেলে।

অতীত দিনের বৃষ্টির কথা
কার কার দেখি আছে মনে?
শুকনো উঠোন ভিজতো যখন
খেলতে কে বলো - আনমনে?

ঝুপুর ঝাপুর ডুব দিতে কী
পুকুর জলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তালেবান ঢাকায়, রাষ্ট্র ঘুমায়

লিখেছেন মেহেদি হাসান শান্ত, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩২

জুলাই অভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশে অনেক কিছু নতুন হইছে। নতুন সরকার, নতুন মুখ, নতুন বুলি। কিন্তু একটা জিনিস খুব চুপচাপ, খুব সাবধানে নতুন হইতেছে, যেইটা নিয়া কেউ গলা ফাটাইতেছে না। তালেবানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুখোশ খুলে গেছে ও আয়না ভাঙ্গা শুরু হয়েছে!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:৫৬

মুখোশ খুলে গেছে ও আয়না ভাঙ্গা শুরু হয়েছে!

image upload problem

বাংলাদেশে একসময় খুব জনপ্রিয় একটা পরিচয়-“আমি সুশীল”, “আমি নিরপেক্ষ”, “আমি কোনো দলের না”। এই পরিচয় ছিল আরামদায়ক, নিরাপদ, সম্মানজনক। এর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×