somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাসুদ রানা (এম আর নাইন)

২৯ শে জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ১২:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেকদিন পর হঠাৎ নীলক্ষেতের কথা মনে হলো। নীলক্ষেতের সাথে আমার পরিচয় 1997 সালের শেষের দিকে। আর আমাকে পরিচয় করিয়ে দেয় আমার বন্ধু হয়রান। হয়রানের আসল নাম ছিল রায়হান। কিন্তু তার হয়রানীমূলক কর্মকান্ডের জন্য কিছুদিনের মাঝেই কলেজের বন্ধুমহলে আমার দেয়া হয়রান নামটা পপুলারিটি পেয়ে রায়হানের সহায়ী নামে পরিণত হয়।

তখন ডিমান্ড ছিল সেবা প্রকাশনীর মাসুদ রানা, কিশোর ক্লাসিক, তিন গোয়েন্দা আর ওয়েস্টার্ন বইগুলোর। এরমধ্যে মাসুদ রানা আবার বাসায় আইনত নিষিদ্ধ ছিল। নিষিদ্ধ যেকোন কাজেই আনন্দ ও এ্যাডভেঞ্চার থাকে প্রচুর। তাই মাসুদ রানার উপর ছিল দুর্দ্মনীয় আকর্ষণ কারন পড়তে হতো চুরি করে। বলাইবাহুল্য চুরি করে পড়ার সেরা টেকনিক ছিল পাঠ্য বই খুলে তার মাঝে মাসুদ রানার বই রেখে পড়াশুনার ভাণ করা। আরও ছিল টেবিলের ড্রয়ারে রেখে পড়া। আর বাবা-মার উপসিহতি টের পেলেই দমাদম ড্রয়ার বন্ধ করা। তবে যখন কোনটাই কাজ করত না, তখন শেষ ও সবচেয়ে কার্যকরী উপায় ছিল টয়লেটের দরজা বন্ধ করে মাসুদ রানার কিচ্ছা পড়া। মাসুদ রানাকে কেজিবি ধরে নিয়ে গিয়ে পিটুনি দিচ্ছে আর আমি তাকে উদ্ধার না করে অংক-বিজ্ঞান পড়ছি, একথা আমি কখনই চিন্তা করতে পারতাম না।

ধরা যে পড়িনি তা নয়। তবে পড়েছি অনেক দেরিতে। কলেজের দ্্বিতীয় বর্ষের শেষভাগে এসে যখন ধরা খেলাম, তখন আমার পিতৃদেব চিন্তা-ভাবনা করে বললেন, মসুদ রানা পড়ার মতো বয়স আমার হয়েছে, আমি মাসুদ রানা পড়তে পারি তবে তা অবশ্যই পড়ার সময় বাদে। হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছিলাম ওইদিন। আমি চড়-থাপ্পড়ের বৃষ্টি আশা করলেও সৌভাগ্যবশত সেদিন তেমন সিরিয়াস কিছু হয়নি।

যাইহোক মাসুদ রানার বইয়ের বিশাল সংগ্রহ ছিল নীলক্ষেতে। হয়রানের সাথে যেতাম বই কিনতে। হয়রান দেখতে হাবুমাকর্া হলেও ছিল বিশাল চাল্লু চিড়িয়া। হকার গুলোকে ব্যস্ত রাখত এটা চাই,ওটা কই,দ্্বিতীয় পর্ব কোথায় বলে। আর অন্যদিকে ব্যাগের মধ্যে চালান দিত একের পর এক বই। হয়রান 10টা বই কিনলে 6টা নিত ফাউ। পরের দিকে অবশ্য ওর এই চুরির প্রবণতা কমে গিয়েছিল। কিনতু কথায় আছে না ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভাণে।তাই ঐ স্বভাব ও পরিপূর্ণভাবে কখনই ত্যাগ করতে পারে নি। এ ব্যাপারে হয়রানের ছিল হয়রানি যুক্তি। সে বলত মার্ক টোয়াইন অন্যের বই চুরি করে পড়লে দোষ হয় না, ওর কেন দোষ হবে। অকাট্য যুক্তি, এর বিরুদ্ধে তাই আমরা কখনই কথা বলিনি। তবে স্বীকার করতে দ্্বিধা নেই চুরির মাল হোক বা পয়সা দিয়ে কেনা বই হোক, পড়ার সময় কম রোমাঞ্চকর লাগত না কোনটাই।

সোনালী দিনগুলো এখন আর নেই। মাসুদ রানাও পড়া হয় না আজকাল। তবে স্মৃতিতে রয়ে যাওয়া দিনগুলোর কথা ভাবতে ভালোই লাগে। কারন আমি বিশ্বাস করি সে সময়টা ছিল আমার জীবনের সেরা সময়, যা কখনই আর ফিরে পাব না।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
২২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল: আমার বৈষয়িক ভাবনা

লিখেছেন জীয়ন আমাঞ্জা, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৩০

এবার এসএসসিতে ৬ লাখ ৯০ হাজার পরীক্ষার্থী ফেল করেছে। ২২৬ মাদ্রাসায় একজনও পাশ করতে পারেনি। স্কুল মাদ্রাসা মিলিয়ে মোট সাড়ে তিনশোর কাছাকাছি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজনও পাশ করেনি, শতভাগ ফেল!

এ নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

র-প্রধানের ঢাকা সফর: খবর শুনেই হাসপাতালে ভর্তি পাকিস্তানের হাইকমিশনার !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:১৭


রসিকতা বাদ দিয়ে বলি, দুটি ঘটনাই সত্যি। বাংলাদেশে RAW এর প্রধান পরাগ জৈন এসেছেন এবং পাকিস্তানের হাইকমিশনার এখন হাসপাতালে আছেন। দুটি ঘটনা আসলে পরস্পরবিচ্ছিন্ন, একটার সঙ্গে আরেকটার কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভেষজ চায়ের সঙ্গে আমার অব্যাহত প্রেম!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৩



ভেষজ চায়ের সঙ্গে আমার অব্যাহত প্রেম!

জীবনে অনেক কিছুই শেষ করেছি- কিন্তু ভেষজ চায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখনও শেষ হয়নি!
সবুজ চা, লেবু-আদা-তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচ-লবঙ্গ, গোলমরিচ, পুদিনা-রোজেলা, জাফরান, জেসমিন থেকে শুরু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আশা রাখি: কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ রাষ্ট্রপতি হবেন

লিখেছেন অপলক , ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৪০



আমার দেখা সকল রাষ্ট্রপতিগন ছিলেন ডায়াবেটিকস রোগীদের মত। যাদের রাজনৈতিক জীবনীশক্তি ছিল না বললেই চলে। প্রধানমন্ত্রীর অলিখিত আজ্ঞাবহ মাত্র। ফর্মালিটি আছে কিন্তু কাজের স্বকীয়তা ছিল না। কোন আইকোনিক ডিসিশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ মায়া

লিখেছেন সামিয়া, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:২৩


মানুষের জীবনে এমন কিছু মানুষ থাকে যাদের সঙ্গে সম্পর্কের কোনো পরিচয় দেওয়া যায় না। তাদের সঙ্গে ভালোবাসা থাকে, অথচ তাকে ভালোবাসা বলা যায় না। শ্রদ্ধা থাকে, অথচ শুধু শ্রদ্ধা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×