যাই হোক বাসে চড়ে রওয়ানা দিলাম। সেসময় কুষ্টিয়া যেতে হলে 2 টা ফেরি পড়ত। আরিচা-নগরবাড়ী দিয়ে যমুনা নদী আর পদ্মা নদী পার হতে হতো ফেরিতে করে। দেখতে দেখতে আরিচা চলে এলাম। ফেরিতে বাস উঠে গেল। আমি আর আব্বা ফেরির উপরে ডিলাক্স কেবিনে বসে নদীর দৃশ্য দেখতে লাগলাম। বলে রাখি আরিচা-নগরবাড়ী ফেরিতে যেতে প্রায় তিন ঘন্টা সময় লাগত। বৃষ্টির মাঝে যমুনার সেই উত্তাল রূপ আজও চোখে ভাসে।কি বিশাল লাগত যমুনাকে তখন। ছোট চোখে মনে হত সমুদ্্রের মাঝে যেন হারিয়ে গেছি।
এরই মধ্যে আব্বা দেখি কেবিনের ওয়েটারকে ডেকে মেন্যু জিজ্ঞাসা করলেন। জানা গেল, মেনু্যতে আছে ইলিশ মাছ। বৃষ্টির দিনে ইলিশ মাছ দিয়ে সাদা ভাত আমার আব্বার অত্যন্তপ্রিয় একটি খাবার। আমারও প্রিয় খাবারের একটি হলো ইলিশ মাছ দিয়ে সাদা ভাত। বংশানুক্রমিকভাবেই হয়তো আমি এটা পেয়েছি।
আব্বা অডর্ার দেয়ার পর আমি বলেছিলাম " আব্বা, আম্মা জানলে রাগারাগি করবে।" এর উত্তরে আব্বা বলেছিলেন, "বাপ-বেটার সিক্রেট মার কানে যাবে কেন?" না সেই সিক্রেট আজও আমার মা জানেন না। তবে সেদিনের সেই সাদা ভাত দিয়ে ইলিশ মাছের কড়া ঝালের তরকারি খেয়ে যে তৃপ্তি পেয়েছিলাম সেটা আজ পর্যন্ত কোন খাবারে পাই নি। চাইনিজ, থাই, ইটালিয়ান,গ্রিক, মেক্সিকান কতদেশি খাবার খেলাম এদেশে এসে। দেশে থাকার সময় অনেক পাকা রাঁধুনীর রান্না করা ইলিশ মাছ খেয়েছি। কিন্তু সেদিনের মাছের মত স্বাদওয়ালা ইলিশ এ জগতে আজতাক খাই নি ও খাব বলে আশাও করি না।
আমি ভাবতাম এ ঘটনাটা আমার জীবনে ঘটে যাওয়া বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা। অনেক বছর পর আমার জনৈক শুভাকাঙ্ক্ষী একরাম ভাই আড্ডা প্রসঙ্গে বললেন উনার বাবা মারা যাওয়ার পরদিন উনার ফুপু-চাচীরা জোর করে ধরে এনে খাওয়াতে বসিয়েছিলেন। মেন্যু ছিল গরুর মাংস ভূনা আর সাদা ভাত। ওই গরুর মাংস নাকি একরাম ভাইয়ের জীবনে খাওয়া সেরা গরুর ভূনা। আমাকে উনি বলেছিলেন "ভাই আপনারা হাসতে পারেন। আমাকে পাগল বলতে পারেন। কিন্তু ওই রকম মাংস আমি আমার জীবনে দ্্বিতীয়বার খাই নি"।
আমি উনাকে অবিশ্বাস করি নি। কেউ এরকম কাহিনী আবার বললে অবিশ্বাস করবও না। আমি নিজেই যে এমন একটি ঘটনার সাক্ষী বা ভিকটিম।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


