মানুষ ভেদে একটা প্রশ্ন ঘুরেফিরে। শৈশব, কৈশোর , মধ্য বয়স ও বৃদ্ধ বয়স - এই চার সময়ের মধ্যে কোনটা সবচেয়ে আনন্দের, উপভোগের?
পৃথিবীতে মহান আল্লাহ একমাত্র মানুষকে সবথেকে সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন তাঁর নিজের কিছু সৌন্দর্য্য আর মহৎ গুলাবলীর কিছু অংশ দিয়ে। সব সৃষ্টি থেকে মানুষ তাই আলাদা। একমাত্র মানুষ দুপায়ে ভর দিয়ে মেরুদন্ড সোজা রেখে চলাচল করে। তারপরও মানুষই সবথেকে অসহায় প্রাণী। অন্যান্য পশু পাখি থেকেও। যেখানে একদিনেই অন্যান্য পশু পাখি হাটা-চলা বা দৌড়ানো বা উড়তে পারে সেখানে মানুষকে সুস্থভাবে হাটতে গেলেও বছর পেরোতে হয়। শ্রেষ্ঠত্বে পৌছাতে অনেক কিছু শিখতে হয়, অনেক কিছু সহ্য করতে হয়। অবাধ্যতা, ভদ্রতা, মান্যতা, দ্বায়িত্ববোধ, অবহেলা কতকিছুই একটা মানুষের চাক্রিক জীবণে ঘুরে ফিরে আসে।
আর এসবের বৃত্তে মানুষ বড় রহস্যময় প্রাণী। সেই সাপেক্ষে কার কাছে কোন বয়সটা ভাল লাগে সেটা মানুষ ভেদে সবসময় ভিন্ন হয়। তবে একটা ফ্রেমে মানুষকে বাধা যেতে পারে। ফেরদৌস হাসান এর পরিচালনায় লক্ষীট্যারা নাটকের একটা গল্প থেকে মানুষকে শ্রেণিবিভাগটা ব্যাখ্যা করা যায়। নাটকটির শ্রেষ্ঠাংশে আবুল হায়াতের ভাষ্য মতে একজন পুরুষের প্রথম ২০ বছর আনন্দময়। বাঁচে পুরুষের মত। পরের ২০ বছর গাধার মত সংসারের বোঝা টেনে বেড়ায়, তার পরের ১৫ বছর কুকুরের মত জীবণ- এ ছেলের দুয়ার থেকে অন্য ছেলের দুয়ারে ঘুরে বেড়ায় ২ মুঠো খাওয়ার জন্য এবং সর্বশেষ ১০-২০ বছর বানরের মত- ছেলে, বউয়ের পাশাপাশি নাতি নাতনীদের আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা।
অন্তত পুরুষদের জন্য কথাগুলো চরম সত্য। আর শেষ দুই ধাপের বয়সগুলো মহিলা পুরুষ অর্থাৎ বৃদ্ধা-বৃদ্ধদের জন্য আরো সত্য বর্তমান প্রেক্ষিতে। যার পরিণতিতে বৃদ্ধাশ্রম শব্দ এখন সহজলভ্য হয়ে গেছে!!
আমি কথাগুলো বিশ্বাস করি। বয়স তো অনেক আগেই ২০ পেরিয়েছে সুতরাং মনের অজান্তে যাবতীয় আনন্দ জেনে না জেনে শেষ করে এসেছি, উপভোগ করে এসেছি। সামনের জীবণে যেটুকু ছিটেফোটার মত সুখ আসবে তাই নিয়ে সুখে থাকার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।। সেটা নিজের জন্য হোক, পরিবারের জন্য হোক আর পিতামাতার জন্যই হোক। আল্লাহ যেন সব বয়সের মানুষকে বয়স ভেদে সুন্দর রাখেন বিশেষত শেষ দুইধাপের বয়স্ক মানুষকে। আল্লাহ সকলকে সুস্থ আর সুন্দর রাখুন। আমিন।।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৮:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



