somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক টুকরো বর্ষাবিষাদ

৩০ শে জুলাই, ২০১৫ রাত ১২:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





ছোটবেলায় আমি পোকা খুব ভয় পেতাম। গুটি গুটি পোকা, লাফিয়ে গায়ে উঠে পড়ত। আম্মুর কাছে সবগুলো পোকারই একটা না একটা নাম ছিলো। গরুপোকা, গান্ধিপোকা, উষ্টিপোকা এইসব... ওদের আসল নাম জানতাম না তেমন। ভয় লাগতো সবচেয়ে বেশি তেলাপোকা! বৃষ্টির দিনগুলোতেই তো পোকার আনাগোণা শুরু হত। টিউব লাইট যেটাকে আমরা তখন রড লাইট বলতাম, তার পাশ ঘেষে সার সার পোকা। সন্ধ্যা রাতে আলো জালতেই একটু একটু করে জড়ো হতো। রাত বাড়লে ওরাও বাড়তো। দরজা লাগিয়ে রেখে জানালার পর্দা টেনে দিয়েও লাভ হতো না, ঠিকই পর্দার ফাঁক দিয়ে ঢুকে পড়ত। জালানা বন্ধ করে দিলে তো বাতাস নেই, গরম! পড়ালেখা অনেক থাকলে বা টিভিতে কোন প্রিয় শো থাকলে আমি মাঝে মাঝে ছাতা ফুটিয়ে বসে থাকতাম যাতে পোকার দল গায়ে এসে না পড়তে পারে। খাওয়াদাওয়া করাও ভীষণ একটা ঝামেলা হয়ে যেত পোকাদের জ্বালায়। মাঝে মাঝে নিরুপায় হয়ে "পোকা ট্রান্সফার" করতাম আমি আর আম্মু। সেটা কীরকম? বেডরুমের লাইট নিভিয়ে দিয়ে লিভিং বা ডাইনিং এর বাতি জ্বালিয়ে দিতাম। তারপর আধাঘন্টা খানেক বসে থাকতে হতো। তারপর বাতি জ্বাললে আর দরজা বন্ধ করে দিলে দু একটা পোকা ফেরত আসতে পারতো, বাকীরা বাইরেই আটকা পড়ত। আর কারেন্ট চলে গেলে শুরু হতো বিভীষিকা! চার্জার লাইটের চারপাশ ঘিরে শুধু পোকা আর পোকা। পড়ালেখা শিকেয় উঠত। বাইরে ঝিঝিপোকা, পুকুরপারে জলের শব্দ আর লাইট নিভিয়ে দিয়ে ঘুটঘুটি অন্ধকারে পোকা থেকে নিস্তার পেতে চাওয়া এসবের মধ্যে দিয়েই বর্ষার বেশ কিছু রাত কেটে যেত। এসব খুনসুটির কারণে বর্ষা আমার খুব প্রিয় একটা ঋতু।

এখন তো মনে হয় এরকম পোকার উৎপাত হয়না। Kill Pest এর আল্ট্রাভায়োলেট আলোর মাঝে আটকে থাকে পরাভুত শৈশব। জানালার থাই গ্লাসে জমে অবুঝ বৃষ্টির অভিমান।

বর্ষা এখন শুধুই নাগরিক টানপোড়েন, অস্বস্তির গান।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুলাই, ২০১৫ রাত ১২:৫৩
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফাউন্টেন পেন আর কালির দোয়াত... (জীবন গদ্য)

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৩ শে জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:৫০



ফাউন্টেন পেন আর দোয়াতের কালিতে আমরা কত সুখি ছিলাম। কত উচ্ছ্বল শিক্ষাজীবন,হই হুল্লোড় আর সুখ আনন্দে ভরা ছিল জীবন। নীল সাদা স্কুল ড্রেস,কালির ছিটার কালো নীল রঙ ছাপ,আহা আমাদের সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পলাশী থেকে বাংলাদেশ, মুক্তির কন্টকিত পথে (তেইশ জুন স্মরণে)

লিখেছেন বিদ্রোহী ভৃগু, ২৩ শে জুন, ২০১৯ রাত ৮:২৫



বিষাদ আঁধার এক
কেড়ে নেয় শক্তি সাহস
হতাশা, জোকের মতো নিভৃতে চোষে খুন;

অনিশ্চিত আশায়
বিপ্লবীর অকাল বোধন স্বপ্নে
ব্যার্থতার দায় ঢাকে ‘কিন্নর’ সুধিজন!

তেইশ জুন, সতেরশো সাতান্ন
প্রতারণা, শঠতা আর মিথ্যেতেই
রাতের আঁধারে ডুবে যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহুরে ফোকলোর

লিখেছেন কিবরিয়া জাহিদ মামুন, ২৩ শে জুন, ২০১৯ রাত ৯:৫৫



ক্লাশ থৃ তে পড়ি । প্রয়াত মিনু স্যার একদিন ক্লাশে বল্ল, তোরা আজকের শিশু তোরা একদিন বড় হবি । বড় হয়ে এই দেশ চালাবি । আজকে এরশাদ সাহেব দেশের প্রেসিডেন্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহনীয় রমণীয় প্যারিস (তৃতীয় তথা শেষ পর্ব)

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ২৪ শে জুন, ২০১৯ সকাল ১১:৩৪



মোহনীয় রমণীয় প্যারিস (পর্ব ১)
মোহনীয় রমণীয় প্যারিস (পর্ব ২)


ল্যুভর মিউজিয়াম থেকে বের হয়ে একটা লম্বা হাটা দিতে হবে। অবশ্য চাইলে মেট্রোও (আন্ডারগ্রাউন্ড ট্রেন) ব্যবহার করা যায়, কারন ডে-ট্রাভেল কার্ড এমনিতেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিণয়

লিখেছেন সেলিম আনোয়ার, ২৪ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ১২:১০


আদরণীয়, কোথায় দিলে ডুব?
পানকৌড়ি যেমন অন্ন অন্বেষণে—
সরোবরজল তলে
তুমিও কী ঠিক তেমন কারণে?
চোখের আড়ালে থেকে রহিলে নিশ্চুপ…
বলো কোথায় দিলে ডুব?

চলছিলো ভালই প্রিয়ংবদা বলছিলে মধুকথা
কাটছিলো সময় মধুময়
গাড়ি চালনায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×