somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বনাম আমি

০৫ ই মার্চ, ২০১৬ রাত ১:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি ছোটবেলা থেকেই মেহেদীর গন্ধ সহ্য করতে পারতাম না। আম্মু মেহেদী দিলে গন্ধ না নাওয়া পর্যন্ত তার কাছে ভাত খেতে চাইতাম না। এটা নিয়ে আমার কাজিনগুলো আমাকে জ্বালাতো অনেক। আমাকে ধরে মেহেদী দিয়ে দিতে চাইতো। আমার বিয়েতে অবশ্যই মেহেদী পড়িয়ে দেয়া হবে, এই ভয় দেখানো হত সবসময়। আমি ভয়ঙ্কর রকম কপট রাগ নিয়ে হা হা করে উঠতাম। তবে গন্ধটা আসলেই সহ্য হতো না। তাই একটু বড় হওয়ার পরে যখন টিউব মেহেদী আসলো, তখন খুশিই হয়েছিলাম। গন্ধটা একটু কেমিক্যাল টাইপ ছিলো, ন্যাচারাল না। সহ্য করতে পারতাম। আস্তে আস্তে বড় হয়ে গেলাম। বাজার দখল করে নিলো টিউব মেহেদি। ন্যাচারাল টা তো মনে হয় এখন আর কেউ ব্যবহারই করে না। সব আর্টিফিশিয়াল। মজার ব্যাপার, আমি এখন আগের সেই কাঠি দিয়ে ডিজাইন করে মা বোনদের মেহেদী লাগানো মিস করি। গন্ধটাও হয়ত এখন আর অতটা খারাপ লাগে না। কে জানে!

মেহেদীর মত আস্তে আস্তে সবকিছুই আর্টিফিশিয়াল হয়ে যাচ্ছে। বন্ধুত্ব আর্টিফিশিয়াল, অভিমান আর্টিফিশিয়াল, আচরণ আর্টিফিশিয়াল। ভালোলাগা গুলো তাই ইনফ্যাচুয়েশনের তকমা এঁটেই বন্দি থাকে, ভালোবাসাতে রুপ নেয়না আর। যাকে না দেখলে, যার গলার স্বর না শুনলে একটা সময় ঘুম হত না, দুদিনের ব্যবধানে তাকে অন্য মানুষের সাথে বদলে ফেলা যায়, একবার ঠোটও কাঁপেনা তাতে। সোশ্যাল নেটওয়ার্কের এক কোণেই আমাদের যাবতীয় সামাজিক দায়িত্ব আটকে থাকে। আর আমরা আটকে থাকি নিজেদের মাঝে, একাকীত্বে। এই আর্টিফিশিয়াল জীবনযাপনে আমরা অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি। খুব একটা অনভ্যস্ত লাগে না। পরিমিত অভিনয় পারঙ্গমতা, সুখকল্পে ঢাকা কাল্পনিক আনন্দ। খুব দ্রুত পালটে যাচ্ছে দৃশ্য। আরো যান্ত্রিকতা, আরো অভিনয়। এভাবেই আমরা একা একা বাঁচতে শিখে যাই।

তবু দিনশেষে এই মানবিক জীবন খুঁজে ফেরা, এই প্রচ্ছন্ন প্রশ্নবোধ- এই ব্যাপারগুলোকে হত্যা করে কীভাবে? আমি মুক্ত হতে চাই। টিউব মেহেদীর গন্ধে আমার বমি আসে!
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মার্চ, ২০১৬ রাত ১:০০
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একদিন ভালো লাগার দিন.....

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ২০ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১:১৭



সময়ের অনেক আগেই পৌঁছে গেছি। রোববার বলেই সম্ভবত রাস্তাটা ফাঁকা। সকাল সাড়ে ন’টায় জামাত শুরু হবার কথা। লোক আসতে শুরু করেছে। মেয়েকে বললুম, মসযিদের কোথায় তোরা নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডেঙ্গু ব্যাবসা - মানুষের মৃত্যুও একটি ব্যাবসা কর্ম হতে পারে !!!

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২০ শে আগস্ট, ২০১৯ ভোর ৬:২৪



আমি লেখক বা সাহিত্যিক নই, কথা সাহিত্যিক আনিসুল হক সাহেব ও নই যে, দোকান - রেষ্টুরেন্ট - পার্লার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মডেল মেয়ে - মহিলা নিয়ে লাল ফিতা কেটে কেক খাবো... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাগলী’র মা

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২০ শে আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১২:০৯

তাঁরও একটা নাম ছিল,
সে নামেই তাঁর বিয়ে হয়েছিল,
যদিও তখন কোন জন্ম সনদপত্র রাখা হতো না।
তিনি কখনো বিদ্যালয়ে যান নি, তাই তাঁর কাছে
কোন বিদ্যালয়ের একটাও সনদপত্র ছিল না।
তবুও,... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘গোলমাল’ না হলে ফুটবল খেলা কঠিন হত। =p~ =p~

লিখেছেন গিয়াস উদ্দিন লিটন, ২০ শে আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১:৫৪


রঙ্গ ভরা অঙ্গনে মোর – ৬



লিখাটা যখন ‘রঙ্গ ভরা অঙ্গনে মোর’ সিরিজে লিখছি তাই শুরতেই ফুটবল নিয়ে একটা কৌতুক-
প্রেমিকার বাড়িতে বসে নতুন কেনা থ্রিডি টিভিতে ফুটবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিবর্ণ জীবন

লিখেছেন মুক্তা নীল, ২০ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৫:০৮



কেস স্টাডি ১ : কণা ও আবিরের সাত বছরের সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটে দুই পরিবারের বিয়ের সম্মতিতে।আবির চাকরি করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আর কনা বেসরকারি ব্যাংকে। বিয়ের চার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×