somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশ-ভারত চুক্তির বাস্তবায়নে দুই দেশেই রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব নেই

১২ ই জুন, ২০১৫ বিকাল ৪:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মোদির এবারের সফরেই তিস্তা নদীর পানির সমস্যা সম্পর্কিত বহু প্রত্যাশিত চুক্তিটি না হওয়ায় বাংলাদেশে অনেকের আশাভঙ্গের কারণ ঘটতে পারে। কিন্তু এই ব্যাপারেও হতাশ না হওয়ার একটা ব্যাপার হল, তিস্তা চুক্তির যিনি সবচেয়ে বেশি বিরোধিতা করেছেন সেই মমতা ব্যানার্জি দুই দেশের শীর্ষ বৈঠকে যোগ দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদির গাড়িতে চেপেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ে যান। তারপরই তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিস্তা ও ফেনী নদীর সমস্যার ন্যায্য সমাধান হবে। তার এই অঙ্গীকারে বাংলাদেশের মানুষ সম্ভবত আস্থা রাখতে পারে। বর্তমান বাংলাদেশ-ভারত চুক্তির ক্ষেত্রে একটি আশার কথা হল, এই চুক্তি বাস্তবায়নে দুই দেশেই এখন রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব নেই। ভারতে বিজেপি সরকার এই চুক্তি সম্পাদনে এগিয়েছে এবং কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো তাতে জোর সমর্থন দিয়েছে। বাংলাদেশেও রাজনৈতিক পরিস্থিতির গুণগত পরিবর্তন ঘটেছে। এই পরিবর্তনের ফলে বিএনপি ও সমমনা সাম্প্রদায়িক দলগুলো ভারত-বিরোধিতায় পাকিস্তানি লিগ্যাসি আর বহন করতে পারছে না। তাদেরও বলতে হচ্ছে, আমরা কখনও ভারতবিরোধিতা করিনি এবং ভবিষ্যতেও করব না। কিছুদিন আগেও বিএনপি নেত্রী ভারতের রাষ্ট্রপতির ঢাকা সফরের সময় তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকারেও যাননি। এবার তদবির করে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বোঝাই যায় গরজ বড় বালাই। নিজেদের দলীয় স্বার্থেই ভারতের সঙ্গে বৈরিতার নীতি বিএনপি ত্যাগ করতে যাচ্ছে। এটাই হচ্ছে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থার বাস্তব ও আশাব্যঞ্জক দিক। বর্তমান চুক্তি বাস্তবায়নে দেশটিতে কোনো বিরোধিতা নেই, বরং রাজনৈতিক সদিচ্ছা জাগ্রত হয়েছে। ফলে আশা করা যায় দুই দেশের সরকারেরই রাজনৈতিক সদিচ্ছা, জনগণের অনুমোদন এবং সেই ইচ্ছা ও অনুমোদনের সঙ্গে প্রশাসন বা আমলাতন্ত্রের সহযোগিতা যুক্ত হয়ে এবারের সম্পাদিত বাংলাদেশ-ভারত চুক্তিগুলো দ্রুত কার্যকর হওয়ার ব্যবস্থা হবে। এরপর যদি তিস্তা ও অন্যান্য নদীর পানি বণ্টনসংক্রান্ত সমস্যাগুলো পারস্পরিক সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার দ্বারা দ্রুত মীমাংসার ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে বাংলাদেশ ও ভারতের ইতিহাসে অবশ্যই নবযুগের সূচনা হবে এবং এজন্য শেখ হাসিনা এবং নরেন্দ্র মোদি দুজনই ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।এশিয়ায় ভারতও আধিপত্যবাদী নীতি দ্বারা নয়, সৌহার্দ্য ও মিত্রতার নীতি দ্বারাই প্রতিবেশী ছোট-বড় দেশগুলোর আস্থা ও বন্ধুত্ব অর্জন করতে পারে এবং একটি আঞ্চলিক সুপার পাওয়ার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।যদি তা হয়, তাহলে বাংলাদেশ ও ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার আরও কিছু ছোট-বড় দেশ মিলে সার্কের চেয়ে শক্তিশালী ও কার্যকর একটি এশিয়ান কমনওয়েলথ গড়ে উঠতে পারে। এটা শেখ মুজিব ও ইন্দিরা গান্ধীর স্বপ্ন ছিল। হাসিনা-নরেন্দ্র মোদির আমলে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয় কিনা, সেটাই এখন দেখার রইল।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০১৫ বিকাল ৪:০২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সামু একটি ছোট নৌকা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫



একটা ছোট নৌকা, পাল তুলে, পাড়ি দিচ্ছে -
অন্তহীন তারার রাস্তা পেরিয়ে।
পেরোচ্ছে গ্রহ, ধূমকেতু, ছুটন্ত আগুনের টুকরো,
দূরে কোথাও ধাক্কা লাগে, তারপর শব্দটা মিলিয়ে যায়।
ধীরে, খুব ধীরে এগোয় নৌকা;
তবু এগোয়।

নৌকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোর্টাল – ২ গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৭


তখন বেশ ঠান্ডা পড়ে গেছে। সেপ্টেম্বরের রাত।
বরফ পড়া শুরু হয়নি। মন্ট্রিয়লের রাস্তা জনাকীর্ণ। বাড়ি থেকে বের হলে কো-দ্যেনিশ রাস্তার শেষ প্রান্তে একটা লাইব্রেরি আছে। তার পরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে ১০ টি বছর পার করলাম

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০২



ব্লগে ১০ বছর পার করে দিলাম। কত সময় কেটে গেছে এখানে, কত পরিচিত মুখ রয়ে গেছে এখানে। তবুও ভালোবাসার বন্ধন যেন শেষ না হয়।

যে কবিতাটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব বাংলাদেশকে নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×